মায়াবী পর্দার অবগুণ্ঠন সরিয়ে
প্রথম যেদিন এই চোখ দেখেছিলো সরস প্রকৃতি
সুদক্ষ কৃষক এক বুনেছিলো তিক্ত বীজ-
না-না-না এমনিতেই ঊষর এ ভঁূই
তার উপর আবার তিক্ত বীজ
কোনোদিন পাবে না ফসল।
বলেছিলো তবু সে বাঁকানো ঠোঁটে-
জানো না গোবরে পদ্ম ফুল ফোটে
এ তিক্ত বীজেই হবে অতিকায় দেবদারু।
এরপর কতো গ্রীষ্ম গেছে
তাতানো খরায় পুড়ে গেছে পাতা
শীর্ণ হযেছে শাখার বিভা
শাখার বিস্তার করেনি বিবর্ণ চারা।
ম্লান মুখ তার চেয়ে থাকে অতল বিশ্বাসে
জলের সিঞ্চন করে মূলে
যেন খরা ও বন্যার দেশে বিদগ্ধ কৃষক;
'তিক্ত বীজে মিষ্ট ফল'
কী দীর্ঘ সে আশার সীমানা!
স্বপ্নের চৌকষ ভেঙে অনিমেষ দৃষ্টির আড়ালে
এইভাবে কেটে গেছে অনেক বছর
প্রতীক্ষার মন শুধু গুণেছে প্রহর-
এইতো এবার গ্রীষ্ম গেলো
সামনের বসন্তেই পাবো ফলবান গাছ!
এরপর কতো না বসন্ত আসে
কাঙ্ক্ষিত চারাতে তার আসে না নূতন পাতা
ধরে না কোনোই ফল।
বিবর্ণ পাতায় ভ'রে হাত দগ্ধ চাষী তবু
চেয়ে থাকে তীক্ষ্ম চোখে আশার ওপার থেকে
আর শুধু জলের সিঞ্চন করে মূলে।
24.06.84
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



