যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখনই জানতে পাই মুজাফফর আলী তালুকদার স্যারের কথা। তাঁর লেখা 'বিএ পাশ' উপন্যাস তখন আশেপাশের গ্রামের শিক্ষিত লোকের মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও তিনি আমাকে দীর্ঘকাল পড়াননি, তথাপি তাঁকে স্যারই বলেই জানি। কেননা শখের বশে ক্লাস সিক্সে উঠে প্রাইমারী স্কুল ডিঙানো কয়েকজন বন্ধুর সাথে স্যারের ক্লাস করি। আর এভাবেই তিনি হয়ে যান স্যার- এখনও দেখা হলে তাঁকে স্যার বলেই সম্বোধন করি। যদিও পারিবারিক পরিমন্ডলে ক্লাস সিক্সে থাকাকালীনই আমার লেখালেখির শুরু, তবুও স্যার আমার লেখার অনুপ্রেরণাদাতাদের মধ্যে একজন। তাই বিরানপুরের যাত্রীর প্রথম পর্বেই স্মরণ করছি আমার সেই স্যার-কে।
মুজাফফর আলী তালুকদার টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সাইটশৈলা গ্রামে 1944 সালের 18ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ছাবেত আলী তালুকদার। জীবনের নানারূপ প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে তিনি নিরলসভাবে সাহিত্য সাধনা করে যাচ্ছেন। তিনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষকও বটে। এ পর্যন্ত তাঁর বেশ কয়েকটি ছড়া-কবিতার বই, গল্পগ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনী এবং উপন্যাস প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিএ পাশ, নীল আকাশে অনেক ডাক, ছড়া দিয়ে গড়া, অঞ্জলী ও অন্যান্য কবিতা, চাঁদের বুকে জল এবং এ পথে অনেক রোদ উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাস আমার মন কাড়ে। তাঁর কবিতায় আছে সারল্য- যা আমাকে মুগ্ধ করে। শাশ্বত বাংলার দরিদ্র জনপদের দুঃখ-সুখ গাথাই তাঁর লেখার উপজীব্য। টাঙ্গাইলের অনেক সংগঠন এবং পশ্চিমবঙ্গের মফস্বলভিত্তিক একটি সংগঠন লেখালেখির জন্য স্যারকে পুরস্কৃতও করেছেন। তাঁর লেখা 'চাঁদের বুকে জল' কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম-
[গাঢ়]মধ্যরাত [/গাঢ়]
বংশাইয়ের তরতরে স্রোত ঠেলে
কে যাও তুমি উজানে?
কতো দুর যাবে?
ঐ দেখো সূর্য ডুবে যাচ্ছে
তারপরেই নামবে অন্ধকার
তারপরই তোমার সামনে পড়বে
সেই চিনাখোলা বাঁক।
উজান বেয়ে বেয়ে মধ্যরাতে
নিশি পাওয়া মানুষের মতো
হে মাঝি তুমি ঘুরেই মরবে শুধু।
কে যাও উজান বেয়ে হে মাঝি!
একলা আমি এই মধ্যরাতে
বংশাইয়ের তীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি
জীবন নদীর হাজার বাঁকে
নৌকা বেয়ে বেয়ে গন্তব্যে পেঁৗছাতে পারিনি
শুধু ঘুরছি
শুধু ঘুরছি
রাত বাড়ছে-
বাড়ছে শুধু!
ছবি: নেট থেকে
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



