অনেকদিন পর তোমাকে দেখে/ শেখ জলিল
অনেকদিন পর দেখায় হঠাৎ হৃদকন্দরে ওঠে ধুকপুক
ভূত দেখার মতোন চমকে ওঠার থাকে ভয়
বর্ষণে তুমুল ভিজতে পারে চোখের পাতা
কিংবা বুকের ভেতর বয়ে যেতে পারে কাল-বোশেখীর ঝড়!
এরকম অনেক বছর পর সেদিন তোমার সাথে দেখা
বিনামেঘে বজ্রপাতের মতোন আচমকা একদিন!
দুর্ঘটনার খবর শুনেই এসেছিলে জানি, তবু
এতোকাল পর কোনো অঘটন ঘটতে দাওনি আর।
তুমিও নিষপ্রাণ ছিলে দুই যুগ আগের উচ্ছলতা আগলে
বলেছিলে- কেমন আছেন, ভালো তো? ছেলেমেয়েরা কোথায়?
অথচ এই আমিই একদিন তোমার বিচ্ছেদ-বেদনায়
অলকা সিনেমার গলিতে দাঁড়িয়ে ভিজিয়ে কণ্ঠ সুগভীর
সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পুরনো বাড়িতে রাত জেগে গেয়ে গান
কোনো এক শবেবরাতের রাতে বুড়াপীরের মাজারে
সকলের সাথে দু'হাত তুলে করেছিলাম প্রার্থনা অগাধ!
এক সন্ধ্যায় সানকি পাড়ার রেললাইন ধরে বাগমারা পর্যন্ত
আনমনে হাঁটতে গিয়ে ট্রেনের শব্দে ছিটকে পড়েছিলাম পাশে
রুমে ফিরে চৌদ্দটি ঘুমের বড়ি খেয়ে হয়েছিলাম বেহুঁশ
বেঘোরে আবোল-তাবোলে রুমমেটরা সব জানলেও
এসব কাহিনী জানার সময় ছিলো না তোমার!
কী আশ্চর্য! দেখো বুকের খাঁচায় ডাকছে স্মৃতির পাখি
যাকে নিয়ে লেখা কবিতার ফুল ফুটলো সকালে
তার হাতে শোভা পাচ্ছে তা সৌন্দর্য মনোহর।
শুভেচ্ছা উপহার আমার বইটি নিয়ে অনায়াসে
এসি কারে ফিরলে একা মালিবাগের সেই ফ্ল্যাটে-
এ আমি, তোমার জীবনে আবাস পেলাম না শুধু!
10.04.2007
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ৮:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



