somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ জলিল
জন্ম-মৃত্যু ও ভালোবাসার পাশাপাশি

উপন্যাসের(?) খসড়া-৩

১১ ই মে, ২০০৭ রাত ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফারাহদের বাসা কলেজ রোডের শেষ মাথায়। রেললাইনের ঠিক পশ্চিম পাশে। গাছপালায় ঘেরা বাড়িটি দোতলা বিল্ডিং এর । গেটে কড়া নাড়তেই খুলে দিলেন যে মহিলা উনার পরিচয় পেলাম পরে।

কাকে চাচ্ছেন ?

মুজিদ মাহমুদ সাহেব কে।

কোত্থেকে এসেছেন ?

বাগমারা থেকে।

আপনার নাম ?

আকাশ আহমেদ।

ও, মাহমুদের কাছে আপনার নাম অনেক শুনেছি। আপনি খুব ভাল কবিতা লেখেন। আসুন মামু, ভেতরে আসুন।

আলাপ পরিচয়ে বুঝলাম উনি মাহমুদ সাহেবের স্ত্রী। ভেতরে গিয়ে সোফায় বসলাম। পাশের রুম থেকে ভেসে আসছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতচর্চার সুর। মাঝে মাঝে পুরুষ কন্ঠ এবং ঠিক পরেই নারী কন্ঠের চর্চার সুর শুনলাম মগ্ন মনে। কোনো ওস্তাদ হয়তো তালিম দিচ্ছেন সারাহ-ফারাহকে। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কখন আসবেন কবি মুজিব মাহমুদ সাহেব।

কী মামু, কী খবর ?

আমার আত্মমগ্নতার ধ্যান ভাঙে। চোখ বুঁজে চিন্তা করছিলাম আর শুনলাম সঙ্গীতের রাগ। মুজিব মাহমুদ এলেন। পাশে বসলেন।

তারপর কেমন আছেন ?

ভালো, মামু।

কেমন চলছে কাব্যচর্চা।

এই, মোটামুটি।

মামুর বেটা, আপনি তো খুব খাসা কবিতা লেখেন।

আরে যা বলেন। যখন যা মনে আসে লেখি। তবে মামু আজকে কিন্তু আমার লেখালেখি নিয়ে কোনো আলোচনা করবো না।

আপনার খবর বলেন।

এই চলছে, এক রকম।

আমি জানি কবি মুজিব মাহমুদের এক রকম মানে ব্যবসার ভালো অবস্থা। তার উপর শখের বসে কবি। তবে ঘরে তাঁর দু'বোনের সঙ্গীত চর্চা আমাকে মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ফারাহর কন্ঠ স্বরে যেন মধু ঝরে। মনে মনে ভাবি, এই বুঝি প্রেমে পড়ার নমুনা। যাকে ভালো লাগে তার সব ভালো মনে হয়। প্রেমে পড়লে প্রেমিকার কোনো খুঁত চোখে পড়ে না কারও।

একটু পরে ঘরে ঢোকে সারাহ-ফারাহ। ওস্তাদজীকে বিদায় দিতে পিছু পিছু গেষ্ট রুমে ঢোকে তারা। কবি মুজিব মাহমুদ ওস্তাদজীকে এগিয়ে দিতে গেট পর্যন্ত যান। সারাহ-ফারাহ দাঁড়িয়ে থাকে রুমে। আমাকে বসা দেখে চেনার চেষ্টা করে তারা। আমি তাদের দু'বোনের ডাগর-কালো নয়ন দেখি। বিশেষ করে ফারাহর। কীভাবে যে আলাপ শুরু করবো বুঝে উঠতে পারিনা। এরই মধ্যে এসে পড়ে আমার মামু-বন্ধু কবি মুজিব মাহমুদ।

কী মামুর সাথে কথা হয়েছে তোদের ? চিনতে পারিসনি ? ঐ যে একুশে ফেব্রুয়ারীর রাতে পরিচয় করিয়ে দিলাম।

ও সেই কবি মামু ? একযোগে বলে ওঠে সারাহ-ফারাহ দুই বোন। আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ি।

যা তোর ভাবীকে চা-নাস্তা করতে বল। আজ মামুর সাথে আড্ডা হবে। আর তোরাও রেডি হয়ে যা। আমার কবি মামুকে গান শোনাতে হবে। কথাগুলো শেষ করে কবি মুজিব মাহমুদ আমার দিকে ফেরে।

তারপর, গান লেখার কথা বলেছিলেন। শুরু করেছেন ?

না করিনি! তবে তাড়াতাড়িই হয়তো লিখা শুরু হয়ে যাবে।

বেশ ভালো হবে। আমাকে কিছু গান দিয়েন তো মামু।

আচ্ছা দেবো!

কবি মুজিব মাহমুদ স্ত্রী অর্থাৎ মামী ঘরে প্রবেশ করলেন ট্রে হাতে। সামনে চা-নাস্তা রাখলেন। আমার মাথায় চুল দেখে বলে উঠলেন-মামুর মাথা দেখি একেবারে ষ্টেডিয়াম! বুঝলাম মামী আমার খুব রসিক। অল্প বয়সে টাক পড়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও ফুটবল মাঠ হয়ে যায়নি। এসবই উচ্চশিক্ষার ফসল। তার উপর আবার কাব্যচর্চা।
কবি মুজিব মেহেদী এবার সারাহ-ফারাহকে ডাকলেন। ভেতর থেকে ছুটে এলো দু'বোন। মামু বললেন-যা হারমোনিয়াম, তবলা নিয়ে আয়। সারাহ-ফারাহ দু'বোন একজন হারমোনিয়াম, একজন তবলা-ডুগি হাতে ঘরে ঢুকলো । আবার শুরু হলো গানের আসরের আয়োজন। এরপর কে কার আগে গাইবে সেজন্য আরেকবার শুরু হলো দরকষাকষি। আমি ফারাহর চাঁদমুখের দিকে চুপিচুপি তাকাই। আর বুঝতে চেষ্টা করি ওর মনের ভেতরের অবস্থা। বাইরের বাতাস ঝড় বইয়ে দিতে যাচ্ছে ভেতরের বাড়িতে- ফারাহ কি বোঝে তা ?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৭ রাত ১২:১৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×