গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে সৌদি আরবে মর্মান্তিক ক্রেন দুর্ঘটনাতে হেরেম শরীফে সর্বমোট ১০৭ জন (গতকাল পর্যন্ত) এর মৃত্যু এবং ২৩৮ জন আহত হয়েছেন।
সকলের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের কোন পাপ থাকলে আল্লাহ্ যেন তাঁদের ক্ষমা করে দেন।
এখন প্রশ্ন হল আমাদের বাংলাদেশীরা এই মৃত ব্যক্তিদের জান্নাতি বলে ফেসবুকের পাতা ভারি করতে ব্যাস্ত। যদিও এই পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ শুধুমাত্র ১০ জন পেয়েছিলেন (হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং অন্য নবী রাসুল (আঃ) ব্যতিত)। আচ্ছা যারা মারা গেছেন তাঁদের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে যে সুদের টাকাতে হজ্ব করতে গেছেন? কিংবা এতিমের সম্পদ লুণ্ঠন করে হজ্বে গেছেন তাঁদের জান্নাতের যে গ্যারান্টি আপনি দিচ্ছেন এটা কি খুব কঠিন গুনাহ হয়ে যাচ্ছে না?
আচ্ছা যারা মারা গেছেন তাঁরা বেঁচে গেছেন কিন্তু যে ২৩৮ জন মারাত্মক আহত হলেন তাঁদের কি হবে? একবার ভেবে দেখেছেন তাঁদের বাকি জীবন টুকুন কীভাবে কাটবে?
হজ্বের মত মৌসুমে এই সকল ক্রেন ওখানে কি করছিল? এই প্রশ্ন করা কি অবান্তর? কেন সৌদি সরকার হজ্বের মৌসুমের পূর্বেই সকল উন্নয়ন কাজের সমাপ্তি করল না?
আমাদের দেশে আরবিতে কথা বলতে জানলেই তাঁদের সাতখুন মাফ করে তাঁদের আল্লাহ্ ওয়ালা ভাবতে শুরু করে। আসলে এরা কত টুকুন আল্লাহ্ ওয়ালা তা কেউ ওদের দেশে কিংবা ইউরোপ আমেরিকা তে ওদের বেপরোয়া জীবন দেখলেই সহজে অনুমেয়। হাজার হাজার মুসলিম শরণার্থী খাদ্য, বাসস্থান কিংবা চিকিৎসার অভাবে জর্জরিত। অথচ, সৌদি, কাতার, আবুদাবি, কুয়েত এই সকল দেশের শেখ গণ স্বর্ণের টয়লেট নির্মাণে ব্যাস্ত। তাঁরা ব্যস্ত গাড়ির চাকাতে হীরার কারুকার্য কিংবা পতিতাদের গলাতে ডলারের মালা ঝুলাতে। আর এদের এই সকল কর্মকাণ্ডের নিরব স্বীকার সাড়া বিশ্বের লাখো কোটি মুসলমান।
আমার ল্যাবের এক জাপানিজ আমাকে এদের এই সব কুকর্মের ভিডিও দেখিয়ে বলে তোমারা মুসলমানরা ইউরোপ বা অন্য দেশে আশ্রয় চাও বা খাদ্য চাও অথচ এদের এই অপচয়ের টাকাতে নতুন দ্বীপ ক্রয় করে সেই দ্বীপের উন্নয়ন করে অনাওএসে এই সকল মানুষকে রাখতে পারে। আমি ওর উত্তরে বলেছিলাম এদের যদি এই টুকুন জ্ঞান থাকত তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে এতো উদ্ধাস্তুই হইত না।
মুসলিম সমাজকে বর্তমানের অবস্থাতে নিয়ে আসতে এদের অবদান অনস্বীকার্য। আল্লাহ্ এদের হেদায়েত করুন। আল্লাহ্ আমাদের হুজুগে বাঙ্গালী মুসলমানদের সঠিক ইসলাম শিক্ষার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ্ আমাকেও হেদায়েত নসীব করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



