বিতর্ক হয়তো অনেক আছে, থাকবে। বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্ক। জনতার রোষ নিয়ে বিতর্ক। আইনরক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক। কিন্তু একটা বিষয় খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করার মতো, তা হলো, আমাদের দেশে জনগণের আন্দোলনে ইদানিং তখনই গুলি চলছে যখন আন্দোলনকারীরা কোনো বিদেশী প্রজেক্টের বিরুদ্ধে নেমেছে। কানসাটের ঘটনায় পল্লী বিদু্যতের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যে মানুষগুলো প্রাণ দিয়েছে, তাদের অপরাধ যতোটা না ছিলো আন্দোলন করা, তার চেয়ে বেশি ছিলো বিদেশিদের মাথা থেকে বের হওয়া পল্লী বিদু্যৎ প্রজেক্টের বিরুদ্ধে কথা বলা। ঠিক একই ঘটনা ঘটলো ফুলবাড়ী কয়লাখনিতেও। বিদেশী টাকা যেখানে লগি্ন হচ্ছে সেখানে দেশের মুর্খরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার সাহস পেলো কোত্থেকে? অতএব চালাও গুলি। আর তার পরে দ্যাখেন না প্রতিক্রিয়াটা। আমাদের বিরোধী দল যেখানে ইসু্য পেলেই হরতাল ডেকে বসে সেখানে এতোবড় একটি ঘটনায় এক আবদুল জলিল বগুড়ায় বসে সাংবাদিকদের কাছে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া ছাড়া আর কোনো জটিলতায় গেলেন না। তারমানে কি আমাদের দেশে সরকার চালাতে যে দলগুলো আসে সেগুলো সবই সাম্রাজ্যবাদের লুটপাটের পাহারাদার? তাদের আচার-আচরণ কিন্তু তাই প্রমাণ করে। অতএব, সাবধান হে মুর্খ বাঙালি, যেখানে বিদেশি টাকা, যেখানে সাম্রাজ্যবাদের থাবা, সেখানে যদি তোমরা আন্দোলনে নামো তাহলে কিন্তু গুলি চলবে। আর যদি গুলি চালানো থামাতে হয় তাহলে দ্্বিদলীয় দ্্বিজোটিয় পালটাপালিট এইসব সাম্রাজ্যবাদের কেয়ারটেকারদের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন আন্দোলন গড়তে হবে, যেখানে মূল বিষয় হবে কেবল মানুষই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



