somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবাবদের মৃতু্য কামনা ও প্রফেসর ইউনুসের নোবেল

২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রফেসর ইউনুস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কেতাব পড়ুয়ারা আর আমাদের কর্পোরেট মিডিয়াগুলো (যাদের টাকায় আমাদের মতো অনেক শিবলী নোমান খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে, যাদের দৌলতে আমার মতো সাংবাদিকেরা অনেক নাম-টামও কামিয়েছেন) তাকে নিয়ে স্তুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালি গ্রামের নাদিরার মনে শান্তি নেই। কীভাবে শান্তি থাকবে? ুদ্র ঋণের সুমহান দারিদ্র্য দূরীকরণের কেতাবি থিওরি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস তার স্বামীর জীবন যে কেড়ে নিয়েছে। তা নিক না। সমস্যা কী? ওদের কথা তো আর কেউ লিখবে না। প্রফেসর ইউনুসের মতো এতোবড় একজন মানুষ যে থিওরি দিয়েছেন তার গ্যাঁড়াকলে পড়ে হতদরিদ্র প্রান্তিক মানুষগুলোর মনে অশান্তি যতোই থাক, প্রফেসর ইউনুস তো বিশ্ব শান্তির দূত! তাই নাদিরাও স্তম্ভিত হয়, এতোবড় একজন শান্তির দূতের এনজিওর কর্মীরা কীভাবে কলার ধরে টাকা আদায় করতে না পেরে তার স্বামীকে বিষ খেয়ে মরতে বলেছিলেন! খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়, এ বছরের 17 আগস্টই ঘটেছিলো সেই মর্মান্তিক ঘটনা। ঘটনাটি খুবই সামান্য! যে মানুষ খেতে পেতো না, সে ঋণ নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে 'নিজের দোষেই' সুদাসলে শোধ করতে না পেরে বিষ খেয়ে মরেছে। ছোঃ, সংবাদ মাধ্যমগুলোর ব্যবসা প্রসারের জন্য এ আবার কোনো খবর হলো? মুষ্টিযোদ্ধাদের মতো হাত ওপরে তুলে প্রফেসর ইউনুস বিগলিত মুখে জাতিকে সামনে এগুনোর কথা যখন বলছেন, তখন এই সব মরা মানুষদের কথা যারা বলে তারা তো পেছন থেকে টেনে নামানোর উপায় খোঁজা চক্রান্তকারী! মৃত লোকটির নাম নবাব। বয়স খুব বেশি নয়, ছিলো 25-26। নিহত নবাবের বাবা শাজাহান আলী জানান, মুদি দোকানদার নবাব আলী দোকানের জিনিস কেনার জন্য প্রথমে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে 5 হাজার টাকা ঋণ নেয়। এরপর কারিতাস থেকে 12 হাজার টাকা, ব্র্যাক থেকে 10 হাজার টাকা এবং বোনের নামে ব্র্যাক থেকে 16 হাজার টাকা ঋণ তোলে। কিন্তু দোকানের জিনিস বাকীতে বিক্রি করে টাকা আদায় করতে না পেরে ঋণের কিস্তি চালাতে ব্যর্থ হয়। ফলে এনজিও'র মাঠকর্মীরা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। নবাবের স্ত্রী নাদিরা অভিযোগ করে বলেন, নবাব মারা যাবার এক সপ্তাহ আগে গ্রামীণ ব্যাংকের এক মাঠকর্মী এসে বলেন, টাকা দিতে না পারলে বিষ খেয়ে মর, তাহলে টাকা শোধ দিতে হবে না। এ ছাড়া ব্র্যাকের এক মাঠকর্মী নবাবের শার্টের কলার চেপে ধরে ঋণের টাকার জন্য অপমান করেন। ফলে 17 আগস্ট রাত 12 টার দিকে নবাব সকলের অগোচরে বিষপান করেন। রাত 1 টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তার মৃতু্য হয়। ুদ্র ঋণের সেই কিস্তি এখন টানতে হচ্ছে স্বামীহারা নাদিরাকে। প্রফেসর ইউনুস যখন শান্তিতে নোবেল পেলেন সেই ুদ্র ঋণের ক্যারিশমার জন্য তখন নাদিরর কিছুই আসে যায় না । আমরাও অবাক হই না। আমরা মাঠে ঘোরার চেয়ে কেতাবি তকমা, কেতাবি থিওরিতেই যে আস্থা রাখি! তাই জয় হোক এই নোবেল বিজয়। নবাবরা তো এভাবেই মরবে! চুদির ভাইয়েরা, ঋণ নিয়েছে, শোধ করতে পারে না! আগে বড় ব্যাংকে তো তোরা যেতেই পারতিস না। এখন টাকা তোদের দুয়ারে দুয়ারে চলে আসছে, তবু টাকা নিয়ে টাকা শোধ দিতে পারিস না। বানচোত, তোরাই তো অশান্তির মূল। তোরা মরে যা! তাহলেই আমরা আরো বেশি করে শান্তিতে নোবেল পাবো!

এই লেখাটির প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করেছিলেন সমকালের পুঠিয়া প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সৌরভ। তাকে কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৩:১০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×