somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেট্রোনাস টাওয়ার: মালয়েশিয়ার সৌন্দর্যের প্রতীক

২৭ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


উচ্চতার দিক থেকে বর্তমানে ৩ নম্বরে রয়েছে মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’। ১৯৯৭ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হলে সে সময়ে সর্বোচ্চ ভবন ‘সিয়ার্স টাওয়ার’কে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব নিজের দখলে নেয় সুউচ্চ এই ভবনটি। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল। ২০০৪ সালে এসে তাইওয়ানের ১০১ তলা বিশিষ্ট ‘তাইপে-১০১’ ভবনের কাছে শ্রেষ্ঠত্ব ছেড়ে দিতে হয় ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’কে। উচ্চতার দিক থেকে বর্তমান বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে পেট্রোনাস টাওয়ার। উদ্বোধনের পর থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এ টাওয়ারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা ছিল। তবে টুইন ভবন বিবেচনায় এটির উচ্চতা এখনো পৃথিবীতে নাম্বার ওয়ান। এই পেজটিতে ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অবস্থান:
‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ হচ্ছে মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের সদর দফতর। ৮৮ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কুয়ালালামপুর শহরের যে স্থানে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার অবস্থিত তার নাম কেএলসিসি বা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার। কেএল সেন্ট্রাল থেকে মনোরেলে সরাসরি যাওয়া যায় কেএলসিসিতে। স্টেশনের নামও কেএলসিসি। এটি টুইন টাওয়ারের একদম নিচেই ভূগর্ভে অবস্থিত।১৯৯৮ সালে টাওয়ারটি উদ্বোধন করা হয়।

নির্মাণগত কিছু তথ্য:
পেট্রোনাস টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১ মার্চ ১৯৯৩ সালে। দুই দফায় নির্মাণ কাজ শেষে এটি উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট। টাওয়ারটির উচ্চতা ১৪৮৩ ফুট (৪৫২ মি.) এবং ডিজাইন করেছেন আর্জেন্টাইন-আমেরিকান স্থপতি মিজার পেলি্ল। এ টাওয়ারটি তৈরি করতে সময় লেগেছে একটানা সাত বছর। মালয়েশিয়ার মোবাইল কোম্পানি মাক্সিস ও তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এ টাওয়ারটি। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার। বাইরে থেকে টাওয়ারটিকে দেখে অনেকে ভাবেন শুধুমাত্র স্টিল ও কাঁচ দিয়ে টাওয়ারটি তৈরী করা হয়েছে। তবে টাওয়ারটি তৈরীর মূল উপাদান হচ্ছে স্টিল ও পাথর। ৩৬ হাজার ৯১০ টন স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে টাওয়ারটি নির্মাণে। পেট্রোনাস টাওয়ার আসলে একজোড়া দালান। টাওয়ারটি দুটি ভবনে বিভক্ত। এই দালান জোড়ার নিচে প্রায় ১২০ মিটারের ফাউন্ডেশন গাঁথুনি আছে। এই ফাউন্ডেশন গাঁথুনি করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যাচি সোল্টাঞ্চ (Batchy Soletanch ), যারা ভূগর্ভস্থ প্রকৌশল কাজে সিদ্ধহস্ত। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কংক্রিট পেট্রোনাস টাওয়ারের মূল উপাদান। বিল্ডিং দুটির মধ্যখানে একটি সংযোগ সেতু আছে, যা ৪১ এবং ৪২তম তলায় অবস্থিত। এই সেতুটি ৫৮ দশমিক ৪ মিটার লম্বা এবং এর ওজন প্রায় ৭৫০ টন। পেট্রোনাস টাওয়ারের ব্যবহার্য ফ্লোর স্পেস ৮০ লাখ বর্গফুট, ভবনের জানালার সংখ্যা ৩২ হাজার। স্থপতি নকশাতে মালয়েশিয়ার ইসলামি প্যাটার্ন ব্যবহার করেছেন।

টাওয়ারের ভিতরের কিছু তথ্য:
মালয়েশিয়ার প্রধান তেলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের অফিস এখানে। এই পেট্রোনাস কোম্পানির নামেই টাওয়ারটির নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও এখানে একটি অত্যাধুনিক শপিং মল আছে। এখানে অবস্থিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক দফতরের মধ্যে রয়েছে আলজাজিরা, বোয়িং, আইবিএম, ক্রওলার নেটওয়ার্ক, মাইক্রোসফট, রয়টার্স। পুরো টাওয়ারটির নানারকম সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি ঠিকঠাক রাখার জন্য পেট্রোনাস টাওয়ারের পশ্চিম দিকে একটি 'সার্ভিস বিল্ডিং' আছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এই 'সার্ভিস বিল্ডিং' থেকে তদারক করা হয়। বিল্ডিংদ্বয়ের মধ্যবর্তী সংযোগ সেতু (যা 'স্কাই ব্রিজ' নামে অভিহিত) সপ্তাহের প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে। এই স্কাই ব্রিজটিও একটি রেকর্ডের অধিকারী। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থানে স্থাপিত দ্বিতল বিশিষ্ট সেতু এটি। টাওয়ারটির নিচের ৮ তলা শপিং মল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার মধ্যে ৫ তলা মাটির নিচে এবং ৩ তলা মাটির উপরে অবস্থিত। ৪১ তলার উপরে সাধারণ দর্শনার্থীরা যেতে পারেন না।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু:
পর্যটক আকর্ষণের সকল ব্যবস্থা রয়েছে এই টাওয়ার ও টাওয়ারের বাইরের পরিবেশে। পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের চারপাশ খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো। টাওয়ারের পেছনের দিকটা শুধুই পর্যটকদের জন্য। এখানে রয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানে বিকাল বেলায় আয়োজন করা হয় ওয়াটার শো’র। এখানে রয়েছে কৃত্রিম একটি সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে পুরো টাওয়ারের ছবি তোলা যায়। পর্যটকদের জন্য স্কাই ব্রিজ হচ্ছে সেরা আকর্ষণ। সেখানে উঠতে পারাটা জীবনের এক বিশাল সংগ্রহ। আর তাই কেউই কুয়ালালামপুরে এসে স্কাই ব্রিজ না ঘুরে যায় না। তবে পর্যটকদের জন্য শুধু ৪১তম তলায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উপরের অংশটি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত। স্কাই ব্রিজে যেতে হলে গুণতে হয় ৮০ রিঙ্গিত (২০০০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা।) টিকিট অবশ্য গেলেই করা যায় না। প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকেট বিক্রি করা হয়, আগে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করেন টুইন টাওয়ারের সামনে।


আরও দেখতে পারেন:
* বুর্জ খলিফা
* বুর্জ আল আরব
* টোকিও স্কাই ট্রি
* বিশ্বের উঁচু ভবনগুলোর তালিকা

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×