১৯৮৪ সালের পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিন আমার জন্ম... অবশ্য আমার পৃথিবীর আলো দেখবার কথা ছিল ঈদের আরও তিনদিন পর কিন্তু বিধাতার প্ল্যান ছিল অন্যরকম... আমার জন্ম রাত নয়টার সময় হলেও জন্মের সুসংবাদটি সবাইকে জানানো হয় তারও তিন ঘণ্টা পর .... তিনদিন আগে জন্মগ্রহণ করবার তিন ঘণ্টা পর কেন সবাইকে তা জানানো হয়েছিল সে কথা বলবার আগে তিনজন মানুষ সম্পর্কে একটু বলে নেই
আমার মা খুব চঞ্চল প্রকৃতির মানুষ... আমার চরিত্রের চঞ্চলতার সম্পূর্ণটাই আমার মার কাছ থেকে পাওয়া... আজ থেকে সাড়ে একত্রিশ বছর আগে স্বাভাবিকভাবেই আমার মা আরও অনেক বেশী চঞ্চল ছিল... ঈদের আগের দিনও মেডিকেল চেকআপ করানোর পর তাকে জানানো হয়েছিল সব ঠিকঠাক... বাবু আসতে আরও দিন কয়েক বাকি ... তাই চটপটিপাগল আম্মু ঈদের খুশীতে ঈদের দিন সকালে কয়েক বাটি চটপটি আর বেশ কয়েকটি কাবাব খেয়ে ফেলেছিল (এই কারণেই খুব সম্ভবত কাবাব আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোর একটি)
আর দশ ভাইবোনের মধ্যে আমার বাবার অবস্থান ২য় এবং ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, একমাত্র আমার জ্যাঠা ছাড়া বাকি আট ভাইবোনই দাদার চেয়েও আমার বাবাকে বেশী ভয় পেত... এবং আমার কেন যেন মনে হয় আজ থেকে সাড়ে একত্রিশ বছর আগে আমার বাবার পারসোনালিটি অনেকটা দিলওয়ালে দুলহানিয়ার কাজলের বাবার মত ছিল
এবং তৃতীয়জন হচ্ছেন আমার নানীজান ... আমার নানী সেই ২০০১ সালে মারা যান এবং আজ পনের বছর পরও তাঁর প্রতি আমার অনুভূতির এতটুকু পরিবর্তন হয়নি... আমার নানু (মানে নানী) হচ্ছেন আমার দেখা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ
ঈদের দিন সন্ধ্যায় একদম হুট করেই আম্মুর খারাপ লাগতে শুরু করে ... যেহেতু ঈদের দিন তাই আমার নানুর বাসা ভর্তি তখন মেহমান ... সেই ঘরভর্তি মেহমানদের কাউকে কিছু না জানিয়ে আমার নানু অনেকটা জোর করে আম্মুকে রাজী করিয়ে আব্বুসহ বেবি ট্যাক্সি করে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ থেকে রহমতগঞ্জের ডাঃ সালমা সিরাজের ক্লিনিক/হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়... আম্মু প্রথমে রাজী হচ্ছিলনা কারণ আগের দিনইতো ডাক্তার বলেছেন সব ঠিকঠাক!
যে তিনজন মানুষের সাথে আপনাদের একটু আগে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি সে তিনজনের কেউই ট্যাক্সিতে বসে কল্পনা করেনি একটু পরই তাদের জন্য ঈদ উপহার অপেক্ষা করছে ...
ডাঃ সালমা সিরাজ সেই ক্লিনিকের উপরেই একটি ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি নিয়ে থাকতেন... সৌভাগ্যক্রমে তাকে পাওয়া গেলে তিনি কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে বুঝতে পারলেন আমার কোন মুভমেন্ট নেই ...খুব সম্ভবত পাপের দুনিয়ায় আসবার আগে আমি শেষবারের মত মায়ের গর্ভে গভীর শান্তির ঘুম দিয়েছিলাম
খুব সম্ভবত আমার মেজখালা (কিংবা অন্য কেউ) মজা করেছিল বলেছিল, বাপরে বাপ এই ছেলে জন্মানোর সময়ই সবাইকে এত টেনশন দিল বড় হয়ে নাজানি কি হয়! এখনও পর্যন্ত আমি খুব সফলভাবেই মেজখালার আশংকা পুরোপুরি সত্য প্রমান করে চলেছি... নানারকম পাগলামি আর খামখেয়ালীর কারণে এই বয়সেও আম্মুর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তাগুলোর একটি হলাম আমি
কোনদিন কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে আপনার সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদ কোনটি তাহলে নিশিচতভাবেই বলব, আমার সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদ কোনটি ঠিক নিশ্চিত নই তবে আমার বাবামার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদ যে আমার জন্মদিন ছিল সেই ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশিচত!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




