somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ভেড়ামারা পরিবার : একটি স্বপ্ন পূরনের গল্প...

২৭ শে নভেম্বর, ২০১২ ভোর ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যাত্রা শুরু হয়েছিলো ফেসবুক গ্রুপ থেকে। যে গ্রুপ টাকে আমরা ভেড়ামারা পরিবার বলে ডাকি। গর্ব করে বলি বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলা কম্যুনিটি। আমাদের কাছে ফেসবুক শুধু ফেসবুক গ্রুপ নয়, এর থেকেও অনেক কিছু। এখানে আমরা ভার্চুয়াল বিষয় গুলোকে একচ্যুয়ালে প্রতিফলনের চেষ্টা করি... এখন আমাদের সামান্য একটা উদ্যোগের গল্প বলি, হ্যাঁ অতি সামান্য কিন্তু আমাদের আবেগ আর ভালোবাসা ছিলো আকাশ সমান অথবা তারচে অনেক বেশী... আমাদের প্রানের শহরের জন্য কিছু করার চেষ্টা, প্রান ভরে সুবাতাস নেয়ার অদম্য আশ্বাস!!

চলুন, এবার আমাদের গল্পটা শুরু করি... মাস চা’রেক আগের কথা... গল্পটা শুরু এই ছবিটার মাধ্যমে...


Rakib Hasan: এই ছবিটা রি-এডিট প্রয়োজন..... লাইনের পাশের নোংরাগুলো কেউ কি পরিস্কার করে দেবেন... এখন যে কোন একজন ছবিটা পরিস্কার করুন... বাস্তবে কখনো পরিস্কার করার দরকার হলে আমারা সবাই হাত লাগাবো....

এবং....তারপর...


Shopnobaz Shourav: Rakib Hasan, পরিস্কার করে দিলাম!! খরচ কে দিবে?? :D এইবার ফটোশপ নয়, ঝাড়ু ধরার সময়!! কে কে আছেন??

Shahed Mahmud: সৌরভ ভাই খরচ টা না হয় আমরা সবাই দিবো । শুধু রাকিব ভাই কে বললে হবে না ভাইয়া , আমরা আছি তো । সবাই মিলে মিশে খরচ টা দিবো ।আর এটা তো তখন অনেক ভাল লাগবে কারন নিজ শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে । সৌরভ ভাই, রাকিব ভাইকে বলে দিয়েন আমরা ও আছি নিজ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমরা সবার সাথে আছি । আর সৌরভ ভাইয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই ছবি টা POST এর জন্য কারন এমন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কে না চায় । তাই সবার কাছে অনুরোধ একটা আসুন ভেড়ামারাটা কে ছবির মত গড়ে তুলি এটাই আমাদের কাম্য ।

Rakib Hasan: এইতো মাত্র দু’মিনিটে আমরা দু’জন হাজির হয়ে গেলাম.... আশাকরি যেদিন বাস্তবেই পরিস্কার হবে সেদিন তুমি আবার কাঁদবে... সেই আনন্দজল মাখা চা’টা আমি আর Shovon খাওয়াবো.... দেখি কে কে কাদঁতে চাই....

Mushariar Ahmmed : শুধু চা কেন, চা তো খাবই, তবে আগে না হয় ঝাল করে সবাই ঝালমুড়ি খেলাম....

Shopnobaz Shourav : চা হলো...ঝাল মুড়ি হলো...কান্নাটা আপাতত গলায় আটকে থাক, চোখে পানি হয়ে ছলছল করার আগেই চল পরিস্কার করি ফেলি আবর্জনা! ফটোশপে নয় বাস্তবে রুপ নিক স্বপ্নের ভেড়ামারা। গভীর রাতে ৪জন নাম লিখালাম, বাকিরা কাল হাজির হবে। এবং একদিন... কিবোর্ড ছেড়ে ঝাটা ধরবো, মাউসের বদলে ময়লা ফেলার ঝুড়ি!! অসম্ভব কিছু? না...আবশ্যই না! চলুন পরিচ্ছন্নতার মিছিলে শামিল হই...রাকিব, গ্রুপ থেকে একটা ইভেন্ট খোলা যায় নাকি দেখ। বাকিরা খুব শীঘ্র হাজির হবে....

Shofiq Shishir: আমার মনে হয় একদিন পোষ্টার মুক্ত ভেড়ামারা করতে হবে।সেদিন সব পোষ্টার তুলে ফেলতে হবে।যত্রতত্র যেন পোষ্টার লাগানো না হয় সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।


হ্যাঁ... আমাদের সামান্য কিছু কথা সাথে চলতে থাকলো স্বপ্ন জয়ের প্রস্তু্তি... সাথে কিছু সাহস আর আবেগের সমন্বয় ...

Sabit Khan: এখন যেই রকম ইউনিটি আছে আমাদের মধ্যে এই রকম ইউনিটি থাকলে আমারাই এক দিন সপ্নের ভেড়ামারাকে বাস্তবে পৃথিবী বুকে "ছোট্ট স্বর্গ" (ভেড়ামারা)কে তুলে ধরতে সময় লাগবেনা। আমি ওই দিনের অপেক্ষা আছি যেই দিন মানুষ আমাকে ছোট্ট স্বর্গর বাসিন্দা বলে চিনবে এবং আমি তখন বলবো যে এখানে জন্মে আমি গর্বীত, আপনিও কি.......

মুশারিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা হলো আমাদের গ্রুপ ইভেন্ট......



প্রানের শহরের পরিচ্ছন্নতা.....

"দেশ আমাদের মা। তবে শহর আমাদের মায়ের হৃদয় ছাড়া আর কি?
আমাদের শহরটা কি আমাদের বাড়ি নয়?
যদি তাই হয় তবে একটু ভাবুন তো........
আমরা কি কিছু খেয়ে প্যাকেট টা আমাদের ঘরের মধ্যেই ফেলি?
বাদাম খেয়ে খোসাগুলো ঘরের মধ্যে যত্রতত্র ফেলি?

আসুন সবাই মিলে আমরা আমাদের প্রাণের শহরটাকে পরিস্কার করতে শুরু করি। আপনাকে পরিস্কার করতে দেখে কতজন এগিয়ে আসবে সেটা ভাববেন না প্লিজ। বরং আপনাকে পরিস্কার করতে দেখে কতজন অপরিস্কার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চেস্টা করবে সেটি ভেবেই চালুন আগামি ঈদের পরদিন সকালে ঝাটা হাতে আমাদের প্রানের শহরকে পরিস্কার রাখাতে উদ্বুদ্ধ করি......
একদিন...
কিবোর্ড ছেড়ে ঝাটা ধরবো, মাউসের বদলে ময়লা ফেলার ঝুড়ি!! অসম্ভব
কিছু? না...আবশ্যই না! চলো পরিচ্ছন্নতার মিছিলে শামিল হই ফটোশপে নয় বাস্তবে রুপ নিক স্বপ্নের ভেড়ামারা। আমারা করবো জয়।


গ্রুপে আসতে থাকে একের পর এক পোস্ট, অনেকেই ভাবলো এটা সামান্য ফেসবুকীয় আস্ফালন!! কিন্তু আমরা চাই এই সামান্য ফেসবুকীয় আস্ফালন টা বাস্তবে প্রতিফলিত হোক।

ইভেন্টের দিন ঠিক করা হলো ঈদুল আযাহা'র পরের দিন ,
২৮ই অক্টোবর ২০১২।


আমাদের মূল উদ্দেশ্য সমূহকে বুকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গেলাম------
১. সবাইকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করা ।
২. সবাইকে অপরিচ্ছন্নতার ক্ষতিকর দিক গুলোর বিষয়ে অবগত করা ।
৩. সবার মধ্যে এমন ভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেন সবাই নিজেকে অপরিস্কার করা থেকে বিরত রাখে।
৪. নিরধারিত স্থান গুলোতে ডাস্টবীন বসানোর ব্যবস্থা করা ।
৫. এই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান দীর্ঘ্ মেয়াদী করা, যাতে করে বিষয়টি সবার কাছে কিছু ছেলে- পেলের হঠাৎ খেয়ালে করা একটা বিষয় হয়ে না দাঁড়ায় ।
৬. কোরবানীর ঈদ-কে সামনে রেখে এই সময়ে কোরবানীর বর্জ্য তৈরী হয় তা নিয়ন্ত্রণের ব্যপারে গণ সচেতনতা বৃদ্ধি করা ।
৭. স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রীয় ভাবে জড়িত করা ।
৮. স্থানীয় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের সক্রীয় ভাবে জড়িত করা ।
৯. বিভিন্ন মাধ্যমে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রচারনা অব্যহত রাখা ।
১০. মূল কথাঃ সমগ্র ভেড়ামারায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক একটা অলোড়ন আমি আবার লিখছি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করা ।


একটি ইভেন্টের জন্য চাই পর্যাপ্ত বাজেট, আমরা বিশ্বাস করি ভালো কাজে কোন বাঁধায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, আমাদের ১৩০০ সদস্যের পরিবার সকল প্রতিকুলতা পেরতে সক্ষম! নাহ যতটা সহজ ভেবেছিলাম, ততোটা নয়--- কেউ কেউ বিদ্রপের হাসি হাসল কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলো। সব কিছু ছাপিয়ে আমরা মুখ থুবড়ে পরলাম বিশাল বাজেটের কাছে !!

এবং হঠাত করেই একটা পোস্ট আমাদের ভীষণ ভাবে নাড়া দিলো---

”আপনাদের এই আয়োজন দেখে আমার মনে হল, রাজনীতিবিদদের দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নাই যেটুকু সম্ভব নিজেরাই করতে হবে । এর আগে আমার মনে হয়নি যে এমন কিছু সম্ভব । কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কেন সম্ভব নয়।অবশ্যই সম্ভব ।”---- যে এই কথাগুলো বলেছে সে নিজেও জানে না যে আমার মত চরম এক হতাশাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সে কতক্ষানি আশার সৃষ্টি করেছে । আমরা কেউ-ই হয়তো নাম পাওয়ার জন্য কাজগুলো করছি না। তবে পাশের ঘরে বসে - চোখের সামনে দেখেও যেখানে বিদ্রুপের হাসি দিয়ে কেউ সরে যাচ্ছে, সেখানে সূদুর পরবাসে বসে কেউ যদি এভাবে অনুভব করে তবে তার প্রাপ্প সম্মানটুকু না দিলে সেটা অন্যায় ছাড়া আরকি???
তোমার ১০,২৪৮ টাকা এবং এই হিমালয় সমান মনের অনুভূতির কোনটার মূল্যই আমাদের কাছে কম নয়।
আমাদের ছোট ছোট আর্থিক সহযোগিতার সাথে বাড়তে থাকলো আমার স্বপ্ন, আমাদের উৎসাহ, অনুপ্রেরনা আর জয় করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা!আনন্দজল....

Rakib Hasan: প্রানের শহরের জন্য কীবোর্ড-মাউস ছেড়ে এবার ছাঁটা-ঝুড়ি ধরার অপেক্ষায়.... আমরা করবো জয়....

Proshun Zahar: আমার কর্ম দক্ষতা খুব কম তবু ভেড়ামারার জন্য সামনের কাতারে গিয়ে যদি না দাঁড়াই তবে নিজেকে নেহায়াতই বেহায়া মনে হবে! সব সময় ই ছিলাম...আছি...থাকবো...

S.i. Rubel: সবাই প্রিয় ভেড়ামারা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য কত ব্যাস্ত গ্রুপ টাতে ঢুকে পোষ্ট গুলো দেখলেই হৃদয়টা শীতল হয়ে যাচ্ছে, আর সেই সাথে খুব হিংসাও হচ্ছে আমি ভেড়ামারাতে নাই বলে, যদি আমি ভেড়ামারাই থাকতাম তবে আপনাদের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করতাম। :(

Farhad Alom: আমাদের সবার কথার সুর মেলায় বলি ,এমন কিছু করা উচিত্‍ ভেড়ামারার তরুনের উপর বড়দের মনভাব বদলে যাবে।
সর্বপরি যে কোন কাজ করতে আনন্দ যখন সঙ্গী হয়, সে কাজের ফলাফল অবশ্যই উত্তম। আমাদের সাধ আনেক হলেও সামর্থ্য হয়তবা খুবই কম। কিন্তু আমরা ভেড়ামারার এই দামাল পাগলা গুলো হাল ছারবার নয় ..

Shopnobaz Shourav:
আমরা আশাবাদী চমকপদ একটা ইভেন্ট অপেক্ষা করছে সবার জন্য!.... না এখানে কোন গানবাজনার আসর থাকবে না, ভালো মন্দ খাবারেরো কোন ব্যবস্থা নেই... শুধু থাকবে প্রাণের শহরের আবর্জনা গুলো সরিয়ে ফেলার আনন্দ, বুক ভরা এক তরতাজা সুবাতাস...স্বপ্নের ভেড়ামারার জন্য কিছু একটা করলাম! ভেবে দেখুন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন কিনা।

MD Yousuf ; আমরা যারা প্রবাসে থাকি তারা হয়তো স্বশরীরে উপস্হিত থাকতে পারবোনা কিন্তু আমাদের মনটা তো ওখানেই পড়ে থাকবে। আপনাদের সবার মত আমরাও এই অনভূতিটাকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে চায়।

R Islam Rossi :
আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই আনন্দ ভাগাভাগি করে স্বপ্নের শহর ভেড়ামারারপরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখবো । পরিশেষে বুকের হাপরে সুবাতাস....



Neel Akash: এই না হলে পরিবার, গর্জে উঠবো বার বার......

Go Dhuli : শত বাধা পেরিয়ে পৌছে যাও সাফল্যের চূড়ায় এই কামনা তোমাদের সবার জন্য.... ভালো থেকো সবাই....

এরকম অনেক ছোট ছোট অসংখ্য পোস্ট আমাদের বড় স্বপ্ন পুরনের অনুপ্রেরনা!! তবে বিদ্রুপ অবহেলা চলতেই থাকলো, বরাবরের মত কিছু লোক মুখ ফিরিয়ে নিলো, বন্ধুর মুখে ছুঁড়ে ফেললো প্রচারনা লিফলেটটি--- :(


এবার মাঠে নামার পালা.... একবুক স্বপ্ন নিয়ে আমরা কাজ শুরু করলাম প্রাণের শহরের বুকে.... আমাদের কর্মসুচী শুরু হলো ঈদের নামাযের পর থেকে লিফলেট বিলির মাধ্যমে...



আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আপনাদের সহযোগীতা সচেতনতা আগামীতে সুন্দর একশহরের জন্ম দেবে, ঠিক যেন রুপকথার গল্পের মত সুন্দর! আমরা এই রুপকথার শহরের নাম দিয়েছি 'স্বপ্নের ভেড়ামারা'।

আসুন পরিচ্ছন্নতায় শামিল হই... প্রানের তাগিদে, প্রাণের শহরের তাগিদে। আসুন বাঁচতে শিখি, বাঁচাতে শিখি... আসুন আরো একবার বুক ভরে টাটকা হাওয়ার বাঁচি... আসুন প্রাণের শহরের তাগিদে, পরিচ্ছন্নাতার মিছিলে..

"দয়া করে এই লিফলেট টি যত্রত্ত্র ফেলে নোংরা করবেন না। একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। এখান থেকেই শুরু হোক আপনার পরিচ্ছন্নতা অভিযান"


হ্যাঁ অবাক হলেও সত্যি, ঈদগাহের মানুষ লিফলেট টা রাস্তা ফেলেনি ! নিয়ে গেছে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য ! আমাদের পরবর্তী কর্ম প্রেরণা ওখান থেকেই ....

প্রানের শহরের পরিচ্ছন্নতা....
২৮ই অক্টোবর ২০১২, ঈদের পরের দিন।
চরম অপেক্ষা, উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার একটা দিন। আমাদের প্রধান ইভেন্ট। ঈদের পরের দিন , ভেবেছিলাম আশানুরুপ সদস্য পাবোনা। সবাই হয়তো সবাই ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত থাকবে। না, প্রাণের শহরের তাগিদে ঘুরাঘুরি তুচ্ছ হলো আমরা করবো জয়ের মিছিলে, ৯০ জন সদস্য সকাল ৯টার মধ্যেই হাজির, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সামনে! আমাদের ইভেন্ট শুরু সকাল ৯টা থেকেই...


প্রাণের মিছিলঃ যে পথ স্বপ্নের কথা বলে...


স্বপ্নযাত্রাঃ বহুদূর যেতে হবে...


অনুপ্রেরণা: প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির কাছে সামান্য জ্বরে কাবু হবার মত মানুষ তিনি নন ! তিনি আমাদের শক্তি, সবচে বড় অনুপ্রেরনা। সকল ভালো কাজে আমাদের সাথেই আছেন। তিনি আমাদের "হেডস্যার" । পুরো ভেড়ামারার হেডস্যার। মোঃ রুহুল ইসলাম... আমার বাবা! স্যালুট..স্যালুট!


বক চত্বরের বোকা বকটা। সেদিন বোকা বক তিনটেও হয়তো থমকে গিয়েছিলো আমাদের দেখে...


চললো সাফাইঃ অবহেলা আর অসচেতনায় জমে ওঠা লজ্জা !!



বন্যেরা বনে সুন্দর... ঝাঁড়ু (সুন্দর) নারীহস্তে.. ;)


বিশ্বাস হয় ?? লতা পাতার ঘর বসতি, সাথে পোকা মাকড়ও ছিলো!!

বক চত্বর পরিষ্কার!! চলো এবার অন্যখানে যায়...


রাস্তা বা বাদ যাবে কেনো?? মেতেছি যে পরিস্কারের নেশায়!!


আমাদের প্রিয় আসলাম ভাইঃ ছোট বেলায় যে শহরে আমরা বড় হয়েছি স্কুলের ব্যাগ পিঠে ঝুলিয়ে, সেই পিঠেই প্রাণের শহরের তাগিদে তুলে নিয়েছি ময়লার বস্তা...


আমাদের রাকিব হাসানঃ চেহারাতেই উদ্যোমী ভাব। তবে এখানে সাব্জেক্ট রাকিব নয়, পিছের মানুষটা, তাতক্ষনিক ভাবে তার ছেলে মেয়ে নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিলো !!


শাপলা চত্বরঃ আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ভেড়ামারা বাস স্ট্যান্ড, পোস্টার লাগানোর জায়গার বড় ই অভাব। তাই নিজেই একটা পোস্টার!


বিশাল ডাস্টবিনঃ হ্যাঁ, এটা আমাদের প্রিয় শাপলা চত্বরের ফোয়ারার জলাধার !! এটাই হয়তো এই এলাকার ডাস্টবিন !!


সংগ্রামঃ এই বিশাল জলাধারটা পরিস্কার করতে শুভ, অনিক ও তাদের ব্যাচ যে অদম্য সাহস আর পরিশ্রম করেছে... তার বর্ননা দেয়ার কোন ভাষা আমার নেই। শুধু একটি কথায় বলবো... স্যালুট তোদের... অনেক কিছু ভাবালি... অনেক কিছু শেখালি ভাই আমাদের...


নাহ! আর দেরী করা যায় না! চলো বন্ধু ,হাত লাগায়....


আমাদের শ্রদ্ধেয় সামাদ স্যার কোদাল হাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন!


ময়লা বের হলো বস্তার পর বস্তা... আমাদের সোলায়মান ভাই, তাঁর ইচ্ছে ছিলো পুরো শহরটাই সাফ করে ফেলার! তাঁকে কেউ ডাকেনি, নিজেই আগ্রহী হলো আমাদের কাজ দেখে...


ভেবে গর্ব হচ্ছে, যা শিখিয়েছেন তা প্রয়োগ করতে পারছি। এই মূহুর্তে নিজেকে হেডস্যার মনে হচ্ছে আর পাশে দাঁড়ানো বুড়ো লোকটা আমার ছাত্র! আমি এবং আমার বাবা (হেডস্যার) । মাঝে মাঝে বয়সের সীমানা পেড়িয়ে


এক্কেবারে নতুন!


এবার চলো রেল স্টেশনে... আমাদের সাইফুল, একাই দেয়ালের সব পোষ্টার তুলে ফেলতে চাই!!!


পরিষ্কার হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম...


আমাদের কাজ দেখে ষ্টেশন মাস্টার নেমে গেলেন ময়লা কুড়তে, পাশের ওই মহিলা টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষামান যাত্রী :(


যাত্রীরা বসে থাকলেন না!


একাত্তরের রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া চাচা!! এবার পরিচ্ছন্নতার যুদ্ধে...

ফেসবুক ছেড়ে রাস্তায় নেমেছি, কীবোর্ডের বদলে ঝুড়ি আর মাউসের বদলে ঝাঁটা। আজ আমরা সবাই এক-একটি জ্যান্ত ফটোশপ টুলস...






ভালো কাজে কতোই না আনন্দ!পরিশেষে বুকের হাপরে সুবাতাস..


ক্লান্ত সবাই....চলো একটু আড্ডা হয়ে যাক...



অবশেষে, ক্লান্তি ছেড়ে...গলা মেলাতেই পারি, বুক ভরে সুবাতাস নিতেই পারি, চিৎকার করে বলতেই পারি... আমরা করবো জয়, আমরা করবো জয়!!!

আমাদের ইভেন্ট টা ওখানেই শেষ হয়েছিলো। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো এলাকাবাসী কে সচেতন করা, বিবেকে নাড়া দেয়া। হয়তো অনেক খানি সফল। ইভেন্টের পর দিন প্রসুন যাহারের একটা পোস্ট ভীষণ ভাবে নাড়া দেই। আমাদের প্রাপ্তিটা নতুন দিগন্ত পায়....

Proshun Zahar :
লোকটি এসেছিলেন জয়পুরহাট থেকে। ট্রেনের অপেক্ষায় বসেছিলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, " ভাই আপনারা কি করছেন?" আমি বললাম নিজের শহরটাকে একটু পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছি। উনি বললেন, "আপনাদের মত বাংলাদেশের প্রতিটি শহরে এই কাজগুলো করে সবাইকে একটু লজ্জা দেওয়া উচিত।"

বাসস্ট্যান্ডে পরিস্কার করার সময় একজন বয়স্ক ভদ্রলোক এসে বললেন, " তোমরা কি করছ?" আমি বললাম, "চাচা আমরা পরিস্কার করছি।" উনি ভাবলেন আমরা টাকার বিনিময়ে কাজ করছি। বললেন, "তোমরা শিক্ষিত ছেলেপেলে এই কাজ করছ কেন?" আমি বললাম, "চাচা, আমরা আমাদের শহরটাকে একটু পরিস্কার করার চেষ্টা করছি। শুনে উনি আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলেন। আমার কথা শুনে উনি একটু কাছে গেলেন। তখন কাজে ব্যস্ত আমাদের এক বড় ভাই বললেন, "চাচা আপনি একটু সরে দাঁড়ান গায়ে ময়লা লাগবে।" উনি বললেন,"বাবা তোমরা এত কষ্ট করে গায়ে ময়লা লাগাচ্ছ আমি তো আর তা পারবো না, আমি না হয় দেখতে দেখতেই ময়লা লাগাই।"


দুঃখের বিষয় লোকাল প্রেস থেকে কোন নিউজ ছাপানো হয়না লোকাল পেপার গুলোতে, আমরা চেয়েছিলাম আরো মানুষ জানুক, সচেতন হোক। কিন্তু লোকাল পেপার গুলো কোন আগ্রহ দেখায়নি। অবশেষে ফেসবুকে কিছু পোস্ট শেয়ার হয়...
আদনান মুকিত ভাইয়ের এই পোস্টটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে-----
'"ঈদ শুভেচ্ছা দিতে গিয়ে স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম, আমরা চাইলেই আমাদের শহর - মন দুটোই পরিষ্কার রাখতে পারি। আমি তো স্ট্যাটাস দিয়ে আরামে বসে বসে মাংস চিবাচ্ছি, আর ওদিকে ঈদের পরদিন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় ভেড়ামারা ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা পথে নেমেছিলো 'প্রাণের শহরে পরিচ্ছন্নতা' ইভেন্ট নিয়ে। ভেড়া মেরে নয়, টিটকারি -তামাশাকারীদের মুখে তালা মেরে, ঝুরি আর ঝাড়ু হাতে সকলে মিলে পরিচ্ছন্ন করেছে তাদের শহর ভেড়ামারাকে। তারা আবার পথে নামবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর! শাবাশ ভেড়ামারা গ্রুপ! আপনারা প্রমাণ করলেন যে চাইলেই সবাই মিলে নিজ শহরকে পরিষ্কার করতে পারে। :)"

না... এখানেই থেমে যাচ্ছি না !
এখান থেকেই আবার শুরু... জনসচেতনতায় আবার ঝাপিয়ে পড়বো, আবার ফেসবুক থেকে রাস্তায় নামবো প্রানের শহরের জন্য, আবার অনেক কিছু হবে! হ্যাঁ আমরা আবার শুরু করছি মহান দিনে মহান ব্রত নিয়ে... আমরা করবো জয়ের প্রত্যয়ে !

Sheikh Fidel Hasan :
"মহান বিজয় দিবস অমর হোক বললেই বিজয় দিবস অমর হয়ে যায় না। কাজের মাধ্যমে অমর করতে হয়। মহান বিজয় দিবস সফল হোক বলে সেমিনার, মিছিল, মিটিং করলেই সফল হয় না। সফল করতে হয়। আসুন এই বিজয় দিবসে, বিজয়কে সফল করি পরিচ্ছন্নতার মিছিলে যোগ দিয়ে। অমর করি আমাদের বিজয়কে। ভেড়ামারাবাসী গর্জে ওঠো আর একবার, বার বার। আমরা করবো জয়...

Muhosina Mitha
গত ইভেন্টে আমাদের ব্যাচের মেয়েরা অনুপস্থিত থাকলেও পরবর্তী ইভেন্টে আমরা অংশগ্রহণ করতে চাই । আমরা এইবারের ইভেন্টের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী এবং অংশ নিতে প্রস্তুত। গ্রুপ এর সিনিয়র ভাইয়া ও আপুদের এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । এইবার আর মিস নয়, আমরা এবার করবই জয়......

শুধু ফিদেল বা মিঠা না... আমাদের আগামী অভিযানের জন্য আরো অনেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে... আর আমাদের পথভ্রষ্ট পথিক (টোটন) তো বলেই ফেলে, LETS GET INSPIRED.... আর রসি সুদুর দুবাইয়ে বসে আমাদের এ লড়ায় ছড়িয়ে দেয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে... আর সাথে রাকিব-র অসাধারণ অনুপ্ররেণামূলক ফটোশপ তো থাকছেই... যেন অপরাজেয় ভেড়ামারা...



প্রাণের শহরের পরিচ্ছন্নতা... প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে...
দ্বিতীয় পর্যায় : ১৬ই ডিসেম্বর’ ২০১২ : সকাল ৯:০০ টা

প্রথমবারের কিছু অনুভূতি আমাদের সাহস যোগায়...আগুন উস্কে না দিলে দাবানল হয় না। আমরা আগুনটাকে দাবানল বানাবো। শহরের প্রতি ভালোবাসার আগুনটা আমরা উস্কে দিলাম... ষ্টেশন মাস্টার নোংরা পরিস্কারে নেমে গেলেন, সামাদ স্যার কোদাল ধরলেন, বৃদ্ধ দাঁড়িয়ালা চাচাটি আলখাল্লায় ময়লা লাগালেন, সোলেমান ভাই বস্তা ঘাড়ে নিতে দ্বিধা করলেন না, মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া ময়লা ফেলার ভ্যান টানলেন, বুড়ো হেডস্যার হেঁটে গেলেন আমরা যেখানে যেখানে গিয়েছি.....
আমরা স্বপ্ন দেখি, এ ছোট্ট শিখাটা একদিন দাবানল হবে...ছড়িয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে... শহর থেকে শহরে... আমরা করবো জয়...





(ব্লগের প্রতিটা ছবি ভেড়ামারা গ্রুপ থেকে নেয়া। আমাদের গ্রুপ ক্যামেরাবাজ ছিলো হাসানাত, আর ফটোশপ কারিগর রাকিব হাসান।)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৪
২৪টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি হবে জিডিপি দিয়ে যদি আপনার পকেটে টাকা ন থাকে.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই মে, ২০২২ সকাল ১০:৫০

কি হবে জিডিপি দিয়ে যদি আপনার পকেটে টাকা ন থাকে.......

যিনি ভালো আছেন, তিনি দেখছেন যে দেশ খুব ভালো চলছে।
যিনি ভালো নেই, রোল মডেলে তার পেট ভরে না।
জিডিপি বাড়ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজ হাতে নিজেদের গাছের আম, কাঁঠাল পাড়ার মজাই আলাদা।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৭ ই মে, ২০২২ সকাল ১১:৫২


দিন যত যাচ্ছে ততই আমরা শহর কেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছি। গ্রামে ছড়ানো আমার শিখড়। যতবার যাই ততই ভালোলাগে। আর এখনতো ফলের সিজন। তাই নিজেদের গাছের তাজা ফল দেখলেও আনন্দ, খেতেও ভারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু মানুষ ভুত, পেত্নী, জ্বীনে বিশ্বাস করলে সমস্যা কোথায়?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৭ ই মে, ২০২২ বিকাল ৪:০৫



সমস্যা আছে, এবং বেশ বড় ধরণের সমস্যা আছে; ভুত, পেত্নী, জ্বীনে বিশ্বাস করলে যেই সমস্যাটা আছে, উহা হলো, যিনি এগুলোতে বিশ্বাস করেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মাত্রাহীন ভিনগ্রহী

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ১৭ ই মে, ২০২২ বিকাল ৪:৩০


ছবিঃ গুগল

১)
মঙ্গলে ঘাটি গেড়েছে এক এলিয়েন সপ্রদায়। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪২ আলোকবর্ষ দূরের ক্যানিস গ্যালাক্সিতে এদের উদ্ভিব। এর পর এরা ছড়িয়ে পড়ছে সারা মহাবিশ্বে। এদের শরীর গঠন মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ বেঁচে থাকি পৃথিবীর মায়ায়

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:২৫



অনেক স্বপন ছিল দু'চোখ জুড়ে
কিন্তু
ঘরে ভাত ছিল না বলে
সব একে একে চাপা পড়ে গেছে
দুমুঠো খাবার জোগাড়ের ধান্দায়।

প্রেম সেতো অনেকই ছিল মন জুড়ে
কিন্তু
চারদিকের অপ্রেম সুলভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×