somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন কয়েকটি গল্প শোনাই.....

১৫ ই জুন, ২০২২ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
বহুদিন পর শিপনের সাথে দেখা। আমার থেকে দুই তিন বছরের বড়। আমি শিপন কাকা বলতাম। বিকেল বেলা আমাদের সাথে খেলতো। শিপন কাকার মা গরু পালতো। সেই গরুর দুধ এ বাড়ি ও বাড়ি দিয়ে আসতো। মাস শেষে টাকা।
শিপন কাকার ছেলেদের খেলার চেয়ে মেয়েলি খেলার প্রতি আগ্রহ ছিল বেশি। মেয়েদের সাথে গল্প করতে পছন্দ করতো। সবাই ভেঙ্গাতো । বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাড়ার ছেলেরাও ওকে খুব বিরক্ত করতো। ধীরে ধীরে ঘরবন্দী হলো। দুধ দিতে আসতো না। খেলতেও দেখা যেত না।

তখন বুঝিনি আমি। এভাবে কেটে গেল কয়েক বছর। একদিন খবর পেলাম শিপন কাকা কে ইন্ডিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর আর দেখা নেই।
একদিন দেখলাম পৌরসভার ঢালে রিকশাতে। শাড়ি পড়ে বসে আছে। মাথা নিচু। আসে পাশে জটলা।
আরেকদিন দেখা রাস্তায়। এগিয়ে গেলাম। মাথা নিচু। আমি বললাম , কেমন আছিস শিপন কাকা ? ও চুপ করে থাকে। মাথা নিচু , বলল - '' আমাকে কেউ আর কাকা বলে না। বলে , শিপন ফুফু।'' ওর কন্ঠ টা কেঁপে উঠলো।
আমার কেঁপে উঠলো বুক। জানলাম টঙ্গীতে থাকে।

এরপর মাঝে মাঝে দেখতাম এর ওর মোটর সাইকেলের পিছে বসা। কথা বলার সুযোগ হয়নি। এড়িয়ে চলতো। কথা বলতে চেতনা। নিদারুন করুণ চোখের ভাষা আমি বুঝতে পারতাম।

বহুদিন পর শিপনের সাথে দেখা। সনো গলির সামনে। আমার কোলে আমার ছেলে। শাড়ি পরে সেঁজে গুঁজে পার্লার থেকে বের হচ্ছে। সাথে আরেকজন। তার সাজসজ্জা একই রকম। আমি ডাকলাম , শিপন কাকা ? সালাম দিয়ে বললো , ভালো আছেন ? আমি বললাম , তুই আমাকে আপনি বলতি না।
অনেক কিছুই বদলায় , এইযে আমি কাকা থেকে ফুফু হয়েছি।
আমি কিছু বললাম না। কি বলবো ?
এটা তোর ছেলে?
হুমম , আমার ছেলে ।
একটু কোলে নিবো ?
ছেলেকে কোলে নিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। সদ্য মেকাপ করা চোখ ভিজে উঠতে দেখলাম। পাশের জনার চোখেও জল।

২.
জুঁই আপা ইন্টারে ভালো রেজাল্ট করেছিল। ভর্তি পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় যেতে হবে। ঢাকায় জুঁই আপার তেমন পরিচিত কেউ নেই যে তার বাসায় গিয়ে উঠবে। সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো ছিল না। জুঁই আপারা খোঁজ পেলো তাদের পরিচিত এক মেয়ে এক বাসায় ভাড়া থাকে। বেশ কয়েকজন মেয়েও ওখানে থাকে। জুঁই আপার বাবা মেয়েকে ওই বাসাতে রেখে বিকালে রওনা হলো।

সকালে খবর পাওয়া গেলো ওই বাসাতে পুলিশ রেড দিয়েছে। পেপার পত্রিকায় ছবি এলো। যৌন কর্মী গ্রেফতার। কাস্টমারের ছবির চেয়ে মেয়েদের ছবির দিকে মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া জুঁই আপা এর পর আর বাড়ি ফেরেননি।

৩.
কুটি আপা মারা গেছে। শশুর বাড়ি পাশের বাঁশ ঝাড় থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কুটি আপা আমাকে সময় দিতো ছোটবেলায়। আব্বা আম্মা কর্মক্ষেত্রে গেলে আমি প্রায় একা হয়ে যেতাম। সেই সময় সে সময় কুটি আপা এসে খেলতো। আম গাছতলায় আম কুড়াতো। পাকন পিঠা ভেজে দিতো। কুটি আপার নাম 'রেহানা'। ছোটোখাটো গড়নের ছিল বলে 'কুটি ' বলে ডাকতো।

কুটি আপার লাশ আমি দেখতে যায়নি। শুনেছি গলায় আর গালে অনেক গুলো ব্লেডের পোঁচ! না মরা পর্যন্ত হয় তো পোঁচ দিয়েই গেছে। কিংবা শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার পর ব্লেডের পোঁচ দেয়া হয়েছে।
কুটি আপার স্বামী পলাতক। শ্বাশুড়ি আর ননদ পুলিশ হেফাজতে। কুটি আপার নামে কোন এনজিও কিংবা সমিতি থেকে লোন নিয়েছিল শশুরবাড়ির লোক। ঋণ গ্রহীতা অপঘাতে মারা গেলে নাকি ঋণ মওকুফ হয়ে যায়।

৪.
২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ মস্কোর ক্রেমলিন শহর। শেষবারের মতো উড্ডীয়মান সোভিয়েত পতাকা। ঠিক সন্ধ্যা ৭:০২ মিনিটে সোভিয়েত পতাকা নামিয়ে সেখানে রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করা করা হলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ পদত্যাগ করলেন। পদত্যাগ করার পর বললেন , "আমরা বাস করছি এক নতুন পৃথিবীতে!"

পরদিন সকালে আব্বা বললেন , "তোমার সোভিয়েত ভেঙে গেছে। "
সকালবেলা উঠে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললাম , আর আমার সোভিয়েত বই ? প্রগতি প্রকাশনী !
আব্বা বললেন , "ওগুলো আর কোনদিনই ছাপা হবে না !"

ছবিঃ সমান্তরাল চলচ্চিত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭

.



শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×