somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকুরীর পাশাপাশি অন্য কিছু করার জন্য ভাবা উচিত

২৩ শে আগস্ট, ২০২২ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




করোনা মহামারীতে আমার উপর দিয়ে বড় একটা ঝড় গিয়েছিল। সীমিত পরিসরে অফিসে যাতায়াত শুরু হলো। যারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে এবং অফিস থেকে দূরে বাসা তাদেরকে অফিসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হলো। আমার ছেলের বয়স তখন সম্ভবত দুইমাস। সেই ভয়েই অফিসের নিরুৎসাহিত করণে উৎসাহিত হলাম। একদিন শুনলাম আমার আর অফিসে যাওয়া লাগবে না। অর্ধেক বেতন দেয়া শুরু করলো এরপর একদিন না করে দিল।

সহ্য করতে কষ্ট হলেও কাউকে জানিয়েছিলাম না। এরপর একদিন এই শহরের উপর ভীষণ অভিমান নিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম।

দীর্ঘ ২০ মাস পর আবার ঢাকায় ফিরে এলাম। চাকুরী জয়েন করলাম পুনরায়। রোজগারের একটা স্থায়ী ব্যবস্থা হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকুরীর পাশাপাশি কিছু না করলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। করোনার আগে সেটা খুব একটা ভাবায়নি। বরং ভেবেছিলাম সময় তো আছেই, পরে দেখা যাবে। কিন্তু করোনা ধাক্কাতে প্রেক্ষাপট পাল্টে গেল। খরচ বাড়তে শুরু করলো। জিনিসপত্রের দাম, যাতায়াত, অন্যান্য জীবন যাবনের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা গুলো নাগালের বাইরে চল যেতে লাগলো।

কিন্তু করোনার আগের রোজগার যা ছিল এখনো সেটাই আছে। এই টাকা থেকেই রিক্সাওয়াকে বাড়তি দিতে হয়। সিএনজি আগের থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। বাবুকে নিয়ে আগে উবারে উঠতাম, এখন নাগালের বাইরে বলে আনস্টল করে দিয়েছি। মুদির দোকানে মাসিক খরচ প্রায় ৩০ ভাগ বেড়ে গেছে। ৫৮ টাকার চাল এখন ৮০ টাকা। তেলের হিসাব আর কি বলবো।বাবু ফর্মুলা মিল্ক খায় সেটার দাম বেড়ে গেছে। বেকারীর বিস্কুট কিনতাম ৩০০ টাকা কেজি, সেটা এখন ৪২০ টাকা। অনেকদিন কেনা হয় না।

এগুলো বাদেও প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী আছে। যেগুলো জন্য মাত্রাতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। সেই নির্দিষ্ট রোজগারের হিসাব আর মিলছে না। কারণ রোজগারটা তো আর বাড়েনি।

করোনার প্রভাবের আগে চাকুরীর পাশাপাশি বড় কিছু করার কথা ভাবতাম। কারণ তখনো পিঠ ঠেকেনি। করতেই হবে এমন তাগাদাও মনে আসেনি। কিন্ত আমরা এখন যে সময় পার করছি তাতে করে কিছু করার সময়ও চলে যাচ্ছে।

করোনাকালীন সময়ে বাড়িতে হোমমেড ফুড নিয়ে কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। কেক, পিৎজা, শর্মা, চাপ, গ্রীল, বসনিয়ান পরোটা আর বিয়ে বাড়ির জর্দা বেশ আলোড়ন তুলেছিল। সেখান থেকে চাকুরী না থাকাকালীন অবস্থায় অন্তত কিছু রোজগার হতো। কিন্তু সময় লাগতো প্রচুর। ৯ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত অফিস করে এটা চালিয়ে নেয়া একেবারেই সম্ভব না। অনেকেই অনলাইনে ইনকাম করে থাকেন। কিন্তু আমাদ এই ধরনের কোন কাজই জানা নেই, যেটা ৯ টা ৬টা অফিস করেও মেন্টেন করা সম্ভব।

মাঝে মাঝে অফিস সময়ের পরে এমন অনেকেই দেখা যায় যারা খাবার কিংবা গার্মেন্টস সামগ্রী নিয়ে বসে আছেন। ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকায় কোয়ালিটিফুল প্যান্ট/শার্ট নিয়ে বসে থাকতে দেখি। যেটা তারা অনায়াসেই ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকাতে বিক্রি করতে পারে। এরা বসে অফিস শেষ করে। প্রতিদিন ৬টা থেকে ৯টা মানে এই ৩ঘন্টা তারা কার্টুন নিয়ে বসে থাকে। ১০ থেকে ১৫ টা বিক্রি করে দিনে ১৫০০ টাকা ইনকাম করে থাকে। মানে মাসে ৪৫ হাজার টাকা। চাকুরীর পাশে দূর্দান্ত একটা সাপোর্ট।



সামনে আরো খারাপ সময় আসছে। চাকুরীর পাশাপাশি অন্য কিছু নিয়ে ভাবা জরুরী। মাঝে মাঝে মনে হয় তেমন কিছু থাকলে হয়তো ঐ সময় এই শহর ছেড়ে চলে যেতে হতো না। আমার মনে হয় সবাইকে এই বিষয়ে ভাবা উচিত। আশারাখি কোন আইডিয়া বের হয়ে আসবে।


জানিনা এই পোষ্টটা শুধুই আমার জন্য কিনা। কিংবা হতে পারে এই পোষ্ট পর্যালোচনার পরে হয়তো অন্য কারো ইনকামের রাস্তা বের হলো।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০২৩ বিকাল ৩:২০
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোরআন , হাদিস ও ফিকাহ মতে ইসলামে সঠিক পথ অনুসরণ প্রসঙ্গ কথামালা ( সাময়িক পোস্ট)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১৫


“আল্লাহ অভিন্ন ফিকাহ মানার কথা বললে রাসূল (সা.) কোরআন ও হাদিসের মানার কথা কিভাবে বললেন? “ এই শিরোনামে গতকাল সামুতে প্রকাশিত ব্লগার মহাজাগতিকচিন্তার একটি বিশালাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×