somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

'আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান'

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। মার্টিন লুথার কিং ১৯৬৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
আমাদের মহাত্মা গান্ধীর কর্মকান্ড লুথার খুবই পছন্দ করতেন। ১৯৫৫ সালে লুথার বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ফিলোসোফি ডিগ্রি লাভ করেন। লুথার এক ভাষনে বলেছিলেন- 'আই হ্যাভ আ ড্রিম'। কথাটা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। লুথারের স্বপ্ন পূরন হয়নি। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তাকে গুলি করে হত্যা করে। অবশ্য আসামী একমাসের মধ্যে ধরা পড়ে। তার ৯৯ বছরের জেল হয়। কারাগারেই আসামীরে মৃত্যু হয়। একবার লুথার কিং তার স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে আসেন। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- জহরলাল। মহাত্মা গান্ধীর সাথে লুথারের দেখা হয়নি। ততদিনে গুলি করে গ্রেট মহাত্মা গান্ধীকে স্বর্গবাসী করা হয়েছে। ১৯৬৫ সালে আমেরিকা ভিয়েৎনাম যুদ্ধ শুরু হয়। শান্তি প্রিয় লুথার কিং এই যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। লুথারকে যখন হত্যা করা হয়, তখন নেলসন মেন্ডেলা কারাগারে ছিলেন। মেন্ডেলা এবং লুথারের স্বপ্ন ছিলো- কালো আর সাদা মানুষের বৈষম্য দূর করা।

লুথার কিং মোট ৩০ বার জেলে যান।
জেলে অবসর সময়ে তিনি বই লিখতেন। তিনি মোট পাচ টা বই লিখেছেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় বইয়ের নাম- 'হোয়াই উই কান্ট ওয়েট'। লুথার কিং এর মাকেও গুলি করে হত্যা করা হইয়েছিলো। আসামী ধরা পড়ে। আসামীর সাজা হয় ফাঁসি। কিন্তু লুথার কিং এর পরিবার থেকে বলা হয়, আসামীকে ছেড়ে দেন। ক্ষমা করে দেন। আদালত আসামীকে ছেড়ে দেয়নি, ক্ষমাও করেনি। তবে ফাঁসি না দিয়ে আমৃত্যু কারাবাস দেয়। আমাদের হাদির খুনী যদি ধরা পড়ে তাহলে তার অবশ্যই ফাঁসির হুকুম হবে। তারপর আসামী আপিল করবেন। হয়তো ফাঁসি হবে না। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। কারাগারে অনেক কষ্ট নিশ্চয়ই। তারপরও মানুষ অন্যায় করে এবং কারাগারে যায়। অনেক অন্যায় করেও মানুষ হাসে, হাসায় এবং বেঁচে থাকে। এদিকে এক জুলাই যোদ্ধা মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটা ঘুমিয়ে ছিলো। বাসায় পুলিশ গিয়ে মেয়েটাকে গ্রেফতার করে। মেয়েটা নাকি এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে অনেক টাকা নিয়েছে। এই মেয়েটা রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে বলেছিলো- লীগ মারবো। রাস্তায় বেড়িয়েছি, লীগ মারার জন্য। কই? লীগ কই?

২। মেয়েটার নাম জ্যোতি রায়।
সহজ সরল সুন্দর একটা মেয়ে। আমাদের সাথে পড়তো। পড়াশোনায় ভীষন রকমের ভালো। জ্যোতিকে দেখলে মনে হতো তার জীবনে লেখাপড়া ছাড়া আর কিচ্ছু নেই। কোনোদিন ক্লাস ফাঁকি দেয়নি। কলেজের এক অনুষ্ঠানে জ্যোতি শাড়ি পরে আসে। জ্যোতিকে শাড়ি পরা দেখে মিজান মুগ্ধ হয়ে যায়! মিজানও আমাদের সাথে পড়তো। সেদিন মিজান কোনো রকম ভনিতা না করে সরাসরি বলে ফেলল- জ্যোতি আমায় বিয়ে করবে? জ্যোতি বললো, না আগে প্রেম করবো। ছোটবেলা থেকেই আমার প্রেম করার খুব শখ। প্রেম করে বিয়ে করবো। তারপর শুরু হয় ওদের প্রেম পর্ব। প্রেমে অনেক মজা আছে, আনন্দ আছে। মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, প্রেমের সময়। প্রেমে কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। দায়-দায়িত্ব না থাকলে উপভোগ করা যায় নিশ্চিন্ত মনে।

এরপর জ্যোতি আর মিজানের প্রেম কাহিনী সবার জানা হয়ে যায়।
অস্থির প্রেম তাদের। প্রেম মানেই তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, ফুচকা খাওয়া, পার্কে-লেকে বসে গল্প করা, রিকশায় করে ঘুরে বেড়ানো, রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা, বিশেষ বিশেষ দিনে ঘুরতে যাওয়া। টানা তিন বছর জ্যোতি মিজান প্রেম করলো। তাদের প্রেম কি বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে? কারন জ্যোতি হিন্দু। মিজান মুসলমান। প্রেম করার সময় কি তাদের মাথায় এই বিষয়টা আসে নাই? হিন্দু মুসলিম বিয়ে হয় না। হয় মিজানকে হিন্দু হতে হবে, নয়তো জ্যোতিকে মুসলমান হতে হবে। যুগ যুগ ধরে হিন্দু মুসলিমের লড়াই চলছে। এই আধুনিক যুগে এসেও হিন্দু মুসলিম লড়াই হচ্ছে। ধার্মিকেরা সুযোগ পেলেই হিন্দুদের মুর্তি ভেঙ্গে ফেলে। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে ধর্মের কারণে। কয়েকদিন আগে আমাদের দেশে একজনকে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। ধার্মিকেরা বদ্ধ উন্মাদ।

জ্যোতি এবং মিজানের বিয়ে হয়ে যায়।
বিয়ে দুইভাবে হয়। মুসলিম নিয়মে এবং হিন্দু নিয়মে। গতকাল জ্যোতি আর মিজান আমাদের বাসায় এসেছিলো। প্রায় ছয় বছর পর দেখা। জ্যোতি আর মিজানের দুই মেয়ে, এক ছেলে। অনেকদিন পর ওদের দেখে ভালো লাগলো। আজকাল তো ঘরসংসার দীর্ঘদিন টিকে না। এরা হিন্দু মুসলিম হয়েও একসাথে আছে। ভালো আছে। টিকে আছে। সুন্দর সংসার। দেখেও শান্তি। জ্যোতি-মিজান দুজনেই চাকরি করে। জ্যোতি আর মিজানের মতো, হিন্দু মুসলিম যদি মিলে থাকলে বহু লোকের জীবন বেঁচে যেতো। প্রথম প্রথম জ্যোতি আর মিজানের বাবা মা মেনে নেয়নি। যখন তারা দেখলেন, জ্যোতি মিজান ভালো আছে। তখন দুই পরিবার মেনে নেয় তাদের। ইদে জ্যোতির বাবা মা আসে। বলে, সেমাই দিন। কোর্মা দিন, পোলাউ দেন। পূজোয় মিজানের বাবা মা যায়। গিয়ে বলে, বেয়াইন সাহেব নাড়ু মন্ডা মিঠাই খেতে এলুম গো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:০৭
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতঃ স্মৃতির অর্ঘ্য

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


প্রথম থেকেই ভেবেছিলাম
ভালোবেসে তোমাতে মগ্ন থাকবো আজীবন।
জলোচ্ছ্বাসে মতো ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম যেদিকে দুচোখ যায়
অথবা
জলপ্রপাতের জল হয়ে তোমার শরীর বেয়ে গড়াতে চেয়েছিলাম আজীবন।
ছুটন্ত নদী
উড়ন্ত মেঘ
অথবা
খেজুর রসের পাটালীর মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×