somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলোর পথে হোঁচট খেয়ে দেখি হারিয়ে গেছি আধাঁরে .......

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




১.

কেন তোরা প্রোটেকশন নিস্ নাই ?
না , ভেবেছিলাম কিছু হবে না !
পাগল নাকি ? এমন করতে গেলি কেন ? এখন বাদ দে। কিছুদিন পরেই তো তোদের বিয়ে। এখন এমন সিদ্ধান্ত নিস্ না, বাচ্চাটাকে পৃথিবীতে আন। ভাইয়া কি বলে ?
তোদের ভাইয়া কিছুই বলে না। চুপ থাকে। যেন সব সিদ্ধান্ত আমার।

বান্ধবীদের অনুরোধ তাদের সিদ্ধান্তকে থামাতে পারিনি। তাদের সিদ্ধান্ত তারায় নিয়েছিল। তাদেরকেই নিতে হয়েছে।

নুমাদের বিয়ে হয় এই ঘটনার আড়াই মাস পরে। ওদের বিয়ের ৫ বছর হয়ে গেছে। নুমা এখনো কনসিভ করতে পারেনি। সদা হাসিখুশি নুমা নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে ছবি আপলোড দেয়। তাদের জীবনটা বেশ স্বাভাবিক ,আনন্দময় বলেই ধরে নেয় সবাই। যদিও গোপন অবসরে বৃষ্টির মত লোনা জল ঝরে নুমার চোখে।

২.
নতুন সংসার। টাকা পয়সার টানাটানি। এই মুহূর্তে বাচ্চার আগমন। কি ভাবে কি করবে ভেবে পায় না নীলা আর রুবেল। এই মুহূর্তে বাচ্চাকে পৃথিবী আনার অবস্থা কি তাদের আছে ? বাড়তি খরচ কোথা থেকে আসবে ? তারপর নীলাকে চাকুরী করতে হবে। এখন বাচ্চা নেয়ার সময় না। সাময়িক মন খারাপ হলেও বাস্তবতাকে মেনে নেয়া উচিত। বাস্তবতা খুব কঠিন।
সেই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নীলার শরীর থেকে ফিটাস আলাদা করা হয়। সেটা ছেলে না মেয়ে ছিল নীলা বা রুবেল কেউই জানতে পারেনি।

কয়েক বছর পরে নীলা একটা মেয়ে জন্ম দেয় । ভাগ্যবানদের নাকি আল্লাহ নেয়ামত হিসাবে কন্যা সন্তান দান করেন। নীলা রুবেল খুব খুশি। তাদের সংসারে কোন অভাব নেই।
সেই ফিটাসের নিষ্পাপ প্রস্থান নিয়ে হয়তো তারা আর ভাবে না। কিংবা কে জানে আমরা যা দেখি সেটা সঠিক নাও হতে পারে।
আধাঁরে হারিয়ে যাওয়া সেই ফিটাসের কান্না কিংবা মা ডাক নীলা নিশ্চয় শুনতে পান কখনো কখনো।

৩.
'দুঃখিত , আমি আবরোশন করা করাই না । একটি ভ্রূনকে বাচ্চা রুপে পৃথিবীতে আনতে আমি চিকিৎসা দিয়ে থাকি। ভ্রুণকে চলে যেতে নয়।'
দেশসেরা গাইনিকোলজিস্ট ডাঃ কামরুন্নেসা কথাগুলো বেশ কঠিন ভাবেই বললেন। এই কথা তিনি অনেকবার বলেছেন।
তার সামনে তরুণ-তরুণী বসা । তারা তাদের ভ্রূণকে বড় হতে দিতে চাননা। বিয়ে নিয়েও তারা আপাতত ভাবছে না। । তাদের সাথে কথা বাড়াতে ইচ্ছা হচ্ছে না।

আপনার সমস্যা কি? আমরা তো টাকা দিয়ে চিকিৎসা নেবো। - মেয়েটা বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠ বলে উঠলো। ছেলেটার কপাল কুঁচকানো। নামকরা ডাক্তারের কাছে আসা ঠিক হয়। এদের দাম বেশি।

'টাকা নিয়ে যেখানে এবরোশন করায় আপনারা সেখানে যান। ডাক্তারের অভাব নাই। আর যাবার আগে ফীসটা রিটার্ন করে নিবেন। '

ডাঃ কামরুন্নেসা বেল টিপলেন। তিনি কিছুক্ষন রুগী দেখবেন না। সেলফে রাখা পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছেন। তার মনটা বিষণ্ণ।

মেডিক্যাল কলেজে প্রথমে যেদিন তিনি ল্যাব রুমে ঢোকেন তখন বয়ামে মাতৃগর্ভে শিশুর প্রতিকৃতি দেখেছিলেন। ভেবেছিলেন এগুলো মোমের পুতুল। পরে জানলেন যেসব শিশু জন্মের আগে মারা যায়। তাদের বাবা মা এখানে দান করে দিয়ে যায়।

ডাঃ কামরুন্নেসার মনখারাপ হতে শুরু করেছে। আগেও হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে। ডাঃ কামরুন্নেসা নিঃসন্তান অথচ তিনি হাজার শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখতে সাহায্য করেছেন।

৪.
বাংলাদেশের লেজেন্ডারি ব্যান্ড অর্থহীন। তাদের নিজেদের অর্থহীন দাবি করলেও ভীষণ অর্থবহ গান তৈরি করেছে 'ফিটাসের কান্না' শিরোনামে। ফিটাসের কান্না জন্মাবার আগেই হারিয়ে যাওয়ার গান , নাড়ি ছিন্নের গান। গর্ভপাত নিয়ে গান। আবরোশন নিয়ে বাংলা ব্যান্ডের ইতিহাসে আর কোন গান আছে নাকি আমার জানা নেই। অর্থহীনের একটা আন্ডাররেরেড গান বলা চলে এটাকে। গানটা আমার প্রিয় গানের একটা। গীটারিস্ট শিশিরের গিটার সোলো আমার মোবাইলের রিং টিউন হিসাবে রাখা আছে।


ফিটাসের কান্না

বেঁচে ছিলাম জন্মাবার স্বপ্ন নিয়ে
মিশে ছিলাম তোমার রক্তস্রোতে,
আলোর পথে হোঁচট খেয়ে দেখি
হারিয়ে গেছি আধাঁরে

কালো জলে…..কালো জলে।

বেঁচে ছিলাম জন্মাবার স্বপ্ন নিয়ে
মিশে ছিলাম তোমার রক্তস্রোতে,
আলোর পথে হোঁচট খেয়ে দেখি
হারিয়ে গেছি আধাঁরে
কালো জলে…..কালো জলে।

ঝরবো আমি নোনা জলে
বৃষ্টি হয়ে তোমার গোপন অবসরে,
অলস চোখে ভাঙ্গবো আমি
ভোরের ঐ শিশির বিন্দু
কষ্টে গড়া সূর্যের আর্তনাদে….আর্তনাদে।

কষ্টের এই নষ্ট সময়ে
ছায়ার মাঝে বন্দী এ হৃদয়,
মায়ার শূন্যতায় লুকাবো তোমায়
কষ্টে গড়া আলোর আর্তনাদে….আর্তনাদে।

ঝরবো আমি নোনা জলে
বৃষ্টি হয়ে তোমার গোপন অবসরে,
অলস চোখে ভাঙ্গবো আমি
ভোরের ঐ শিশির বিন্দু
কষ্টে গড়া সূর্যের আর্তনাদে….আর্তনাদে।

ভালোবাসার তীব্র জোসনা দিয়ে
পারোনি তুমি মমতায় বাঁধতে,
নিষ্পাপ আমার প্রস্থান লিখা থাকবে না
সাজানো কোন এপিটাফে…………



ছবিঃ ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৫:০৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা কিউ আর কোড এর ব্যাবহারের বাধা ও সমাধান।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:১০




Bangla QR: সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ, তবে কিছু বাস্তব সমস্যার সমাধান জরুরি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেনকে সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে Bangla QR একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি QR কোড ব্যবহার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×