somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা"

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুত্ব হল মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। বন্ধুত্ব শব্দের মাঝে মিশে আছে নির্ভরতা আর বিশ্বাস। বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা এ যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । দুটি সম্পর্ক একই সুতোয় গাঁথা । বন্ধুত্ব মানেই যেন হৃদয় এর সবটুকু আবেগ নিংড়ে, ভালবাসা দিয়ে মন খুলে কথা বলা। আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হল বন্ধুত্ব। হয়তো শব্দ দুটি ভিন্ন , কিন্তু সম্পর্কের দায়িত্ব গুলো প্রায় একই । তারপর ও রয়েছে দুটি সম্পর্কের মাঝে ভিন্নতা এবং পার্থক্য । কিন্তু সে পার্থক্য অনেক সময় ধরা যায় না। বন্ধুকে অনেকে প্রেমের সঙ্গে বা ভালবাসার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। বন্ধুত্ব ও ভালবাসা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, একটা কথা আছে— প্রেম মন্দির ও বন্ধুত্ব বাসস্থান। মন্দির হইতে যখন দেবতা চলিয়া যায় তখন সে আর বাসস্থানের কাজে লাগিতে পারে না, কিন্তু বাসস্থানে দেবতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
কার কাছে কোন সম্পর্ক টি বেস্ট তা আমি জানিনা । তবে আমার কাছে বন্ধুত্ব ই বেস্ট মনে হয় । কারণ, বন্ধুত্ব মচকায় কিন্তু সহজে ভাঙ্গেনা। কিন্তু ভালোবাসা!
তা মচকায় কম , বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ভেঙ্গে যায় । তাহলে চলুন দেখে নেই দুটি সম্পর্কের সংজ্ঞা -

বন্ধুত্বঃ বন্ধুত্ব হলো সেই সম্পর্ক যেই সম্পর্কে নেই কোন নিয়ম নীতি ।করা লাগেনা কথা বলার সময় ভাবনা, চিন্তা । আপনার যখন যা ইচ্ছা তাই বন্ধুকে বলতে পারবেন । আপনার মনের সবগুলো কথা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে পারবেন আপনার লাইফের গোপন যত কথাই থাকুক , সব শেয়ার করতে পারবেন আপনার বন্ধুর সাথে ।
তাই তো নিটসে বলেছে,

"বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রেরণাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।"

বন্ধু বুঝবে আপনার মনের আনন্দ বা দুঃখ । কখনো সিরিয়াস কোন কথা নিয়েও মজা করবে আবার মজা করা শেষে দিবে আপনাকে শান্তনা ।
তাইতো বন্ধুত্বের জন্য গেয়ে ওঠা যায়,

হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে,
দেখা হবে তোমার-আমার অন্য দিনের ভোঁরে।

বন্ধুত্ব করা যায় সবার সাথেই, যেখানে থাকেনা কোন বয়সভেদ বা লিঙ্গ ভেদাভেদ । আপনার যাকে ভালো লাগে তার সাথেই বন্ধুত্ব করতে পারবেন । আপনি যেকোন সমস্যার সমাধান পাবেন আপনার বন্ধুটির কাছে । আপনার জীবনে যদি কয়েকজন বন্ধু থাকে তাহলেই আপনি অনেক সুখী । তাই তো কবিগুরু বলেছেন,

"বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি পদার্থ বুঝায়।দুই জন ব্যক্তি ও একটি জগৎ। অর্থাৎ দুই জনে সহযোগী হইয়া জগতের কাজ সম্পন্ন করা।
আর, প্রেম বলিলে দুই জন ব্যক্তি মাত্র বুঝায়,আর জগৎ নাই। দুই জনেই দুই জনের জগৎ। অতএব বন্ধুত্ব অর্থে দুই এবং তিন,
প্রেম অর্থে এক এবং দুই।

কারণ , এই বন্ধুগুলোর জন্য আপনার মনটা কখনো খারাপ হওয়ার সুযোগ পায়না । সবসময় আড্ডা আর বিনোদন এর মাঝেই জীবন টা কেটে যায় । আপনি ইচ্ছে করলেই অনেকের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবেন। সময়ের প্রয়োজনে বা ভাগ্যের খেলায় বন্ধু দূরে সরে যেতে পারে কিন্তু মনের দূরত্ব কখনোই তৈরি হয় না। স্কুল শুরুর দিনে যে ছেলেটি বা মেয়েটি আপনার পাশে বসেছিল তাঁকে কি ভোলা যায় সহজে?
তাই তো জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন,

" যদি থাকে বন্ধুর মন গাং পাড় হইতে কতক্ষন।"

ভালোবাসাঃ যা নির্ভর করে আত্নবিশ্বাসের উপর। ভালোবাসা বা প্রেম হলো সেই সম্পর্ক যেই সম্পর্কে থাকে অনেক নিয়ম নীতি । কথা বলার সময় অনেক ভেবে-চিন্তে কথা বলতে হয় । কথা বলার আগেই ভাবতে হয় এটা বললে আবার ও রাগ করবে না তো ! আপনার যখন যা ইচ্ছা তা শেয়ার করতে পারবেন না । কারন, সেই মানুষটি আপনার সব কথা সাধারণ ভাবে নাও নিতে পারে । মাঝে মাঝে দেখা যাবে আপনার অতি সাধারণ কথায় সেই মানুষটি রাগ করে ফেলতে পারে । আপনি হয়তো মাঝে মাঝে তার কাছ থেকে শান্তনা পেতে পারেন । তবে অনেক সময় ঝাড়ি ও খাওয়া লাগতে পারে । এই সম্পর্ক টা হয় সাধারনত , দুটি ছেলে-মেয়ের মাঝে । দুজনের থাকে বয়সের পার্থক্য । বা অনেক সময় সমবয়সী কারো সাথেও হতে পারে । সম্পর্কটা গড়ে ওঠার পর থেকেই আপনার মনে বাসা বাঁধতে পারে তাকে হারানোর ভয় । এই সম্পর্ক টি একই সাথে অনেকের সাথে করা যায়না (যারা করে তারা প্রকৃতভাবে ভালোবাসেনা কাউকেই) । সেই মানুষটির কারনে অনেক সময় আপনার মন ভালো থাকতে পারে আবার অনেক সময় মন খুবই খারাপ থাকতে পারে ।(যার কারনে আত্মহত্যার মত মহাপাপ করতেও দ্বিধাবোধ হয়না) । ভালবাসা কি? তা এক কথায় বলা জীবন সাথী আর বন্ধুত্ব মানে কাছের একজন মানুষ। যার সাথে দুঃখ এমনকি ভালবসার মানুষের সাথে মনমালিন্য হলে সেই কথাও বন্ধুর সাথে অনায়াসে সেয়ার করা যায় যা অন্য কারো সাথে করা যায় না। মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, এমন কিছু কথা আছে যা কাউকে বলা যায় না এমনকি জীবন সাথীকেও না কিন্তু বন্ধুর সাথে তা ঠিক ই সেয়ার করা যায়। তাই আমার কাছে সব মিলিয়ে বন্ধুত্ব সম্পর্কটা ই বেস্ট মনে হয় ।

বিঃদ্রঃ উপরোক্ত কথা গুলো শুধুই আমার চিন্তা-ধারা থেকে লিখা । অনেকের ই ভিন্ন ধারণা থাকতে পারে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইবাদতে মানুষের লাভ, না করলেও আল্লাহর কোন ক্ষতি নাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



সূরাঃ ১০৩ আসর, ১ নং থেকে ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। মহাকালের শপথ।
২। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ্য
৩। কিন্তু উহারা (ক্ষতিগ্রস্থ্য) নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৭


বাংলাদেশে কোনো অর্থমন্ত্রীর বিদায়ের পর একটা জিনিস প্রায় দেখা যায় । তাঁর একটা লিগ্যাসি তৈরি হয় । স্মরণসভার মতো পত্রিকায় “যুগান্তকারী সংস্কার”, “সাহসী সিদ্ধান্ত”, “দূরদর্শী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×