somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তফ্রন্ট এবং একজন ভোটারের ভাবনা: রম্য

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাড়িওয়ালাঃ খবরদার কেউ দরজা ঠক ঠক করলেও খুলবি না ।
কাজের মেয়েঃ তাহলে কি করুম ?
বাড়িওয়ালাঃ চুপচাপ বসে থাকবি ।
বাড়িওয়ালীঃ বসে থাকবে মানে ? আজ আমার ভাইয়ের বন্ধুর বড় ছেলে তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসবে। আর তুমি বলছো কিনা গেট না খুলতে ? বুঝেছি, তুমি আসলে আমার পক্ষ্যের আত্মীয়দের এখনো সহ্য করতে পারোনা।

বাড়িওয়ালা বুঝতে পারলো, এরকম কড়া আদেশ দেওয়া তার ঠিক হয়নি। ৩৫ বছরে যে মহিলার সাথে সে কথায় পেরে উঠেনি, তার সাথে নতুন করে তর্কে যাওয়া মানে নিজের মাথায় গরম তেল ঢালা। তাই কিছুক্ষণ সে চুপচাপ বসে রইল। কিন্তু বাইরে হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ হওয়ায় সে আর বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারলো না। মেজাজটা আবার বিগড়ে গেল। কাজের মেয়েটাকে ডাক দেওয়ার আগেই গিন্নী এসে অাবার হাজির হয়ে বলল, দেখলে তো, বলতে না বলতেই ওরা চলে এসেছে। যাও, তুমি নিজেই গিয়ে দরজাটা খুলে দাও।
- আচ্ছালামুআলাইকুম আংকেল, কেমন আছেন ?
- ভাল, কিছুক্ষণ আগে তোমাদের কথায়ই হচ্ছিল। তা, এসে গেছো যখন ভাল হয়েছে।

ওরা পাঁচজন একে অপরে একবার করে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে নিলো। তারপর, একজন আরেক জনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে বলল, আমরা এখানে আসব, এনারা জানলো কিভাবে?

বাড়িওয়ালী এতক্ষণ ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল, সে বুঝে উঠতে পারছেনা, এদের মধ্যে আসলে তার ভাইয়ের বন্ধুর ছেলে কে ? তাহলে এরা কি অন্য কেউ ?
ওদের মধ্যে থেকে বেশ নেতা গোছের একজন এগিয়ে এসে বলল, আংকেল আমরা মুক্তফ্রন্টের লোক । মুক্তফ্রন্ট থেকে এ আসনে আমাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। আমরা আপনার দোয়াপ্রার্থী।

বাড়িওয়ালা প্রথমে কড়া চোখে একবার গিন্নীর দিকে তাকিয়ে নিলো তারপর স্বরটাকে কিছুটা নরম করে বলল, আমি তো এতদিন ঐক্যফ্রন্ট এবং পরে যুক্তফ্রন্টের কথা শুনেছি। মুক্তফ্রন্টের নাম তো এই প্রথম শুনলাম।

- আংকেল, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আমরা আসলে আওয়ামিলীগ কিংবা বিএনপি কারোর সাথেই নেই, বলতে পারেন এই দুই দল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাই, আমাদের ফ্রন্টের নাম দেওয়া হয়েছে মুক্তফ্রন্ট।
- বাহ, দারুণ নাম, আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তোমরাই পারবে এ জাতিকে উদ্ধার করতে।
- আংকেল, আমাদের জন্যে দোয়া করবেন, এখন তাহলে আসি।
- ঠিক আছে, এসো।

ওরা চলে যাবার পর বাড়িওয়ালা গিন্নীর দিকে কটমট করে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। তিনি ভেবে পাচ্ছেন না, এখন রাগটাকে কিভাবে প্রকাশ ঘটানো যায়। তবে শেষমেশ অনেকটা নরম সুরেই বলল, তোমার রান্না কি শেষ হয়েছে ?
- কোন কথা নেই।
- বুঝলে তো, কেন আমি দরজা খুলতে নিষেধ করেছিলাম ? ভোটের আগে ভিক্ষুকের চাপ বাড়বে । ছেঁড়া-ফাঁটা পোশাক পরা ভিক্ষুকের পাশা-পাশি অনেক দামী কোট-টাই পরা ভিক্ষুকও আসবে এবং এদের চাপ সহ্য করা কঠিন হবে। অতএব, পূর্বের আদেশই বহাল রইল, মানে বাইরে থেকে কেউ দরজা ঠক ঠক করলেও খোলা যাবেনা।
- গিন্নীর মুখে তখনো কোন কথা নেই।
এবার বাড়িওয়ালার বেশ গর্ববোধ হলো। ৩৫ বছর পর হলেও সে অন্তত: একটা নাতিদীর্ঘ ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য দিতে পেরেছে। তার চেয়েও বড় কথা, গিন্নী তার কথার এখনো কোন প্রতিবাদ করেনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×