
জ্বর নেই, তবু কপালে হাত রেখে মাপি পৃথিবীর তাপমাত্রা । বুকের ব্যথা নিয়ে কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে যে পরিবারটি নিঃশ্বেষ হয়ে গেল, তাদের জন্যে আর শান্তনার ভাষা নেই । কী বিচিত্র, তেরো বছরের একটা নিস্পাপ কিশোরের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণ করতে পারল না তার পরিবার । ভিডিওতে দেখানো হলো তার লাশ দাফনের দৃশ্য অবরুদ্ধ পরিবারকে । এসব ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায়, কী কঠিন সময় পার করছে পৃথিবী !
এভাবে আর কত ? ছোট ভাই মারা যাবার পর বড় ভাইও যখন চলে গেল জীবনের ওপারে, তখন ঐ পরিবারের আর কোন পুরুষ সদস্যই রইল না । কী শান্তনা দেবে এসব পরিবারকে ? জানিনা, এ মহা দূর্যোগের শেষ কোথায় !
এখনো আমরা অবুঝ বাঙালি, নিজেরা ইচ্ছেমত যত্র-তত্র ঘুরে বেড়াচ্ছি, কেউ কেউ এ ভাইরাস নিয়ে হাসি, ঠাট্রা, মস্কারা করছি, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল্য করছি । কিছু নির্বোধ সাজু-গুজু করে পোজ দিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে তা পোষ্ট দিচ্ছি, নির্লজ্জের মতো উল্টা-পাল্টা কমেন্ট করছি । অথচ প্রতিদিনই খোদ আমাদের দেশেই বিভিন্ন জেলা থেকে মৃত্যুর খবর আসছে, যার অধিকাংশ মৃত্যু পূর্ববর্তী নমুনায় করোনা ভাইরাস স্পষ্ট, তবু সেসব মৃত্যুকে বলা হচ্ছে স্বাভাবিক মৃত্যু; অথচ তাদের প্রায় সবাই মারা যাচ্ছে জ্বর, ঠান্ডা, গলাব্যথা, কাশি এবং শ্বাস কষ্টে । কিন্তু আশ্চর্য ব্যপার হলেও সত্য যে, এ সকল মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রশাসন ঐ সকল পরিবার ও তার আশে-পাশের বাড়িগুলোকে কঠোরভাবে লকডাউন করে দিচ্ছে । এখন প্রশ্ন হলো, ঐ সব রোগী যদি করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হয়ে মারা না যাবে, তাহলে কেন এত কঠোরভাবে লকডাউন করা হবে আর কেনই বা মৃত ব্যক্তিদেরকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, সমস্যা কোথায় ? আমার তো মনে হয়, এভাবে তথ্য গোপন না করে সত্যটাকে প্রকাশ করলে মানুষ আরো বেশি সচেতন হবে এবং আমরা বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পাব এবং করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলা করাও আমাদের জন্যে সহজ হবে ।
সব কিছু দেখে শুনে এখন মনে হচ্ছে, একমাত্র সৃষ্টি কর্তায় আমাদের সহায়, তিনিই কেবল পারেন আমাদেরকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে, সেটা গরম আহাওয়ার কারণে হোক আর ভাইরাসটি দূবল হয়ে যাবার কারণে হোক ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



