
আমার এক অফিস কলিগ একদিন তার পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছিল, ছুটির দিনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি নাকি বেশি হয় । কারণটা স্পষ্ট, অন্যদিন দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকে, তার চেয়েও বড় কথা দু'জনে একে অপর থেকে সারাদিন দূরে থাকে এবং রাতে যখন বাসায় ফিরে তখন ঝগড়া-ঝাটি করার মত আর সময় থাকেনা । কারণ পরের দিন কাজে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরী হতে হয় এবং তার জন্য দরকার হয় পর্যাপ্ত ঘুম ।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আমাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করেছে । রোগটি অসম্ভব রকম ছোঁয়াচে হওয়ায় আমরা ইচ্ছে করলেই ঘরের বাইরে যেতে পারছি না । কিন্তু সব কিছুরই একটা লিমিট আছে, একটা সহনীয় পর্যায় আছে, যে পর্যন্ত মানুষ ঐ অবস্থাটিকে মেনে নেওয়ার মত ক্ষমতা রাখে । আজ দীর্ঘ এক মাসের উপরে হতে চলল লকডাউনের কারণে আমরা অনেকটা বন্দী জীবন কাটাচ্ছি । কিন্তু তাই বলে জীবন তো আর থেমে থাকবে না, সে চলমান এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে মৌলিক কিছু চাহিদার যোগান তাকে দিতেই হবে ।
এই মুহূর্তে খাদ্য-সামগ্রীই হলো তার প্রধান উপাদান । কিন্তু সেই খাবারটা কেমন হবে, সেটাও একটা ব্যাপার । সভ্যতার এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানুষের দৈন্যদিন খাদ্য তালিকা বা অভ্যাসেরও পরিবর্তন ঘটেছে । ইচ্ছে করলে কিংবা বাধ্য হলেও সে আর ডালভাত, আলুভর্তা দিয়ে দিনের পর দিন খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেনা । তাই, দেরিতে হলেও বাজার বা কেনাকাটার জন্যে বাইরে তাকে যেতেই হয় মিনিমাম কিছু চাহিদা পূরণের জন্য । কিন্তু বাইরে যে মানুষ এই মুহূর্তে বের হবে, কিভাবে ?
ধরে নিলাম প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিংবা উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে বাইরে বের হলাম বাজার করার জন্যে । তাতে ঝুঁকিটা কার বেশি ? যেখানে বলা হচ্ছে, বাজারে বিক্রিত প্রতিটা পণ্যের সাথেই থাকতে পারে করোনাভাইরাস, কারণ প্রথমত এ পণ্যটি অনেকগুলো হাত ঘুরে বাজারে আসছে, এরপর আরো অনেক মানুষ সেটি কেনার আগে নেড়েচেড়ে দেখছে । তাছাড়া আরেকটি ব্যাপার হলো টাকা; আপনি যে টাকাটা বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে গিয়েছেন, সেটিতে হয়ত কোন ভাইরাস নেই, কিন্তু কিছু কেনার পর বিক্রেতা যে টাকাটা আপনাকে ফেরৎ দিচ্ছে, সেটাতে ভাইরাস না থাকার গ্যারান্টি কতখানি ?
এই অবস্থায় অনেকটাই নিরুপায় আমরা, দেরিতে হলেও শত ঝুঁকির মধ্যে আমাদেরকে বাজারে যেতে হবে । তারপরও যদি সম্ভব হয়, কিছুদিনের জন্যে আমরা না হয় ডালভাত, আলুভাতে বাঙালি হয়েই থাকলাম - সমস্যা কি ? এই মুহূর্তে বেঁচে থাকাটাই যখন আমাদের জন্যে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।
তাই, অখন্ড এই অবসরে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও আমাদের পারিবারিক আনন্দটুকু বজায় রাখা জরুরী । তাতে করে আমরা সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকতে পারব ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

