
জমি চাষ করতে করতে ক্ষুধার্ত এক কৃষক ভাবল লবণ, কাঁচামরিচ আর পিঁয়াজ দিয়ে বাড়ি থেকে আনা তার পান্তা ভাতটা এবার খেয়ে নেওয়া যাক । তারপর সে লাঙ্গল, গরু রেখে একটা বাবলা গাছের ছায়ায় বসে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল ।
তখন পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এক বিদেশি, যিনি দূর থেকে অনেকক্ষণ ধরেই কৃষককে নজরে রেখেছিল, উনি কি খায় তা দেখার জন্য । কৃষক যখন তার পান্তার গামলাটা বের করে খাওয়া শুরু করবে, আর তখনি বিদেশি দৌড়ে এসে কৃষককে অনেক অনুনয়-বিনয় ও ইশারা-ইংগিতে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করল যে, তুমি যদি এই পানি দেওয়া বাসি, পচা, পান্তাভাত খাও তবে এখনি মারা যাবে; কারণ এর ভেতরে অসংখ্য ব্যাক্টেরিয়া আছে, যেগুলো তোমার পেটের ভেতর গেলে নির্ঘাত তোমার মৃত্যু হবে, খালি চোখে সেসব ব্যাক্টেরিয়া তুমি দেখতে পাচ্ছো না ।
বেচারা ক্ষুধার্ত কৃষক বিদেশির এসব ইশারা-ইংগিত বোঝার কোন চেষ্টাই করল না; আর কেনই বা করবে, তার চৌদ্দ পুরুষ এই পান্তাভাত খেয়ে আসছে বছরের পর বছর । কেউ তো কখনো মরেনি এবং তার বিশ্বাস ভবিষ্যতেও কেউ পান্তাভাত খেয়ে মরবে না । শুধু শুধু এই বিদেশি তাকে কি বোঝানোর চেষ্টা করছে, আল্লাই জানে । সে রীতিমত এবার গাপুস-গুপুস করে খাওয়া শুরু করল । বিদেশী তখন তাকে বোঝাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ও নিরুপায় হয়ে তার খাওয়া দেখতে শুরু করল আর ভাবতে লাগল, মরণঘাতি এই ব্যাক্টেরিয়াযুক্ত ভাত খেয়ে কৃষক কতক্ষণ পর মারা যায় - তা দেখার জন্য ।
কৃষক যথা সময়ে খাওয়া শেষ করে শোকরআলহাম্দুলিল্লাহ বলে আবার লাঙ্গল বাওয়া শুরু করল । বেচারা বিদেশি তখনো ভাবতেই আছে, ব্যাটা কৃষক তো দেখি দিব্যি বেঁচে রইল, ব্যাক্টেরিয়া তো ওর কিছুই করতে পারল না । এটা কিভাবে সম্ভব হলো !
ইটালি, স্পেন, ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর আমরা বাংলাদেশীরা শুনে আসছি, এদেশে বিশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ লোক মারা যাবে । আজ প্রায় দেড়মাস হতে চলল আমরা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছি, এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে ইউরোপ-আমেরিকার মত আমাদের এখানে মহামারি আকার ধারণ করেনি । এরমধ্যে অবশ্য কেউ কেউ বলছে, আমরা নোংরা পরিবেশে বাস করি, ভেজাল ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার খাই, ময়লা-নোংরা পানি পান করি, নোংরা বায়ু সেবন করি, নোংরা রাজনীতি দেখি, নোংরা কথা শুনি, নোংরা মানুষের সংস্পর্শে যাই - অতএব, করোনাভাইরাসের মতো ভদ্ররোগ আমাদের কিছুই করতে পারবে না ।
তাই বলে আমি বলছি না, দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তবে দাগই ভাল । আমরা অবশ্যই করোনাভাইরাসমুক্ত জীবন চাই এবং তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

