
চরিত্রহীন কথাটা বলতেই তুমি আমার মুখের দিকে এমনভাবে তাকালে যেন বিরাট কিছু অন্যায় করে ফেলেছি । আমি তখন আকাশের দিকে চেয়ে বললাম - মেঘলা।
- মানে ?
- মেঘের স্ত্রীলিঙ্গ । বিশেষণও বলতে পারো ।
- হঠাৎ মেঘ আর মেঘলা নিয়ে এমন বিশ্লেষণের কারণ ?
- আষাঢ়ের বৃষ্টি । দ্যাখ না, এই আছে এই নাই । এখানে হচ্ছে তো ঐখানে নাই । এদের চরিত্র বলতে আসলে কিছু নাই ।
- কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, কথাটা তুমি আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছ ।
- কিন্তু তুমি তো চরিত্রহীন নও । লিঙ্গের দিক থেকে বিচার করলেও বড় জোর চরিত্রহীনা বলা যায় । তুমি সেটা নও বা তা বলার সাহসও আমার নেই ।
- তাহলে তুমি আমার কাছে এই শব্দটা কেন উচ্চারণ করলে ?
- বললাম তো মেঘকে বলেছি । আষাঢ়ের মেঘ আর বৃষ্টির চরিত্রকে বলেছি ।
- শোন, তোমার এই ঘোরানো প্যাচানো কথার এত কাব্যিকতা আমার ভাল লাগে না । আমি স্ট্রেইট কথা বলতে এবং শুনতে পছন্দ করি ।
- ঠিক আছে, আষাঢ় চলে যাওয়ার পর আর বলব না ।
- আষাঢ়ের সাথে তোমার ঘোরানো প্যাচানো কথার কি সম্পর্ক ?
- ঐ যে বললাম, মেঘ আর বৃষ্টির চরিত্রহীন কার্যকলাপ ।
- ঠিক আছে এবার বুঝলাম । এখন চলো ফিরে যাই । তোমার চরিত্রহীন মেঘ-বৃষ্টি কখন আবার ন্যাকেড হতে শুরু করবে ।
- তুমি মনে হয় ভুলে যাচ্ছো আমরা আজ এখানে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে ভিজতে এসেছি ।
- ভুলিনি, কিন্তু তোমার মুখে মেঘ-বৃষ্টির চরিত্রহীন গল্প শুনে আর ভিজতে ইচ্ছে করছে না ।
- ঠিক আছে, চলো ।
ততক্ষণে বৃষ্টি চলে এসেছে । বলা যায় বেশ ভারী বর্ষণ । ধানকাটা মাঠে অনেকটা জল জমে ছিল আগে থেকেই । তা এখন আরো বেড়ে চলেছে । আমরা খানিকটা উচু জায়গার উপর দাঁড়িয়ে আছি । এরপর বৃষ্টি কখন যে থেমে গেছে, বুঝতেও পারিনি ।
আমরা কি বাড়ি ফিরে যাবার কথাও ভুলে গেছি ?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



