
বিএনপি'র থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসাবে যে দুইজনকে ধরা হইত তাদের একজন ছিলেন শফিক রেহমান । যিনি বেশ কয়েক বছর আগে জেল খাটোনের পর অনেক কসরতে বাহির হইয়া সেই যে চুপ হয়ে গেলেন
ইহার পর তার আর কোন জবান আমরা শুনতে পাই নাই । তিনি কি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে রয়েছেন - সে খবরও এখন আর কেউ রাখে না ।
অবশ্য না রাখনটাই ভাল; কারণ উনি দীর্ঘদিন জেল খাটোনের পর ছাড়া পাইছেন বলে আপনিও যে ছাড়া পাইবেন - তাহার কোন গ্যারান্টি নাই ।
আরেক জন ছিলেন ডঃ এমাজউদ্দীন আহমদ স্যার । যিনি বলা যায় জীবিত থেকেও অনেকটা সাড়াশব্দহীন ছিলেন । উনার জবানও তেমন একটা শোনা যাইত না । হঠাৎ করে প্রেসক্লাবের কোন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা, বিবৃতি আর টুকটাক কিছু নির্বিষ লেখালেখি চোখে পড়ত । সেটাও তেমন উল্লেখ করার মত কিছু না ।
তবে এসব কিছুর উর্ধ্বে তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, গবেষক, ধীর-স্থির এবং নিরোপেক্ষ চিন্তার মানুষ । ছিলেন ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য ।
এবার অভিভাবক তুল্য বড় মনের এই মানুষটিও চলে গেলেন জীবনের ওপারে । এবং এই মহামারী করোনা কালেই । বাধাগ্রস্থ্য মেধা ও মননের দেয়াল ভেংগে এক অসীম শূন্যতায় ।
দিগম্বর গণতন্ত্রের যে রাজনীতি আজ রাস্তার লুটেরাদের হাতে; সেই গণতন্ত্রে একজন বুদ্ধিদীপ্ত রাজনৈতিক পরামর্শক বা বিশ্লেষক হিসেবে উনার শিক্ষা, জ্ঞান, গবেষনা, ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার সব কিছুই যেন আজ বড্ড বেমানান হয়ে পড়েছিল ।
তাই উনার এই চলে যাওয়াতে কিছুটা খারাপ লাগলেও অবাক হইনি । ভাল থাকুন ওপারে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



