somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাথি মারি এ রাজনীতি: দুষ্ট রাজনীতির আগুনে রাসেলের সর্বনাশ!!

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় বাবাকে ডাক্তার দেখিয়ে নিজের শরীরটাও চেকআপ করিয়ে নিয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ (৩০)। চারপাশে কত রোগ-বালাই। তাই হয়তো নিজের শরীর চেকআপ করিয়ে জীবনের শেষাবধি ভালোভাবে বাঁচার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাও তাকে নিশ্চিন্ত করতে পারেনি। রাসেল মাহমুদ জীবন দিয়েই বুঝালেন দেশের অপরাজনীতি শেষতক কারো জন্যই মঙ্গল কিছু বয়ে আনতে পারে না।
দেশের দেহে কত বড় রোগ যে বাসা বেঁধেছে তা বোধহয় তিনি অাঁচ করতে পারেননি। আর সে রোগ দেশের মানুষকে কীভাবে কুরে কুরে খাচ্ছে তাও তিনি বোঝেননি। কেনই বা বুঝবেন। সেসব বুঝে তার কী এমন লাভ হতো? দেশের এই পচা-গলা রাজনীতি থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই তো মঙ্গল। বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী আর দেড় মাসের শিশুপুত্র নিয়ে তার জীবন তো বেশ যাচ্ছিল। সেখানে অত কিছু নিয়ে ভাবার দরকারইবা কী তার! হ্যাঁ, তিনি কিছুই নিয়ে ভাবতেন না হয়তো। ভাবতেন স্ত্রী, সন্তান নিয়ে। ভাবতেন বাবার চিকিৎসা নিয়ে। তাই বাবাকে ডাক্তার দেখানোটা সেদিন খুবই জরুরি ছিল তার কাছে। গত সোমবার বিকালে উত্তরায় বাবাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসে করে দক্ষিণখানের বাসায় ফেরার সময় হঠাৎ জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তাদের বহনকারী বাসটিতে। আর সে দুষ্ট রাজনীতির আগুনেই অকালে প্রাণ দিতে হলো এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদকে।
মঙ্গলবার তার মৃত-নিথর দেহ যখন তার দক্ষিণখানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তখন কান্নার রোল পড়ে। রাসেলের স্ত্রী তন্বী তার দেড় মাসের শিশু সন্তানটিকে বুকে জড়িয়ে ভেঙে পড়েন গগনবিদারী কান্নায়। আর দুর্দৈবক্রমে বেঁচে যাওয়া তার বাবা সাইফুল ইসলাম ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন বেঁচে থাকার যন্ত্রণা নিয়ে!
বাসায় লাশ নেয়ার পর পরিবারের সদস্যদের গগনবিদারী কান্নার আওয়াজে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। রাসেলের স্ত্রী তন্বী তার দেড় বছরের ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের অন্য সদস্যদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নিহত রাসেলের বড় ভাই রাশেদ মাহমুদ জানান, গত সোমবার বিকালে বাবা সাইফুল ইসলামকে নিয়ে রাসেল উত্তরার মেডিনোভা হাসপাতালে যায়। পিতাকে ডাক্তার দেখানোর পরে রাসেল নিজেও শরীর চেকআপ করিয়ে নেন। মঙ্গলবারের হরতালের কারণে ওইদিন ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর ভিড় জমে যায়। সিরিয়াল পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় পিতা-পুত্রকে। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাদের বহনকারী বাসটিতে হামলা চালায়। তারা বাস থেকে নামার আগেই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাসেলের মামাতো ভাই নাহিদ জানান, বাসটির পেছনের দিকে রাসেল ও তার বাবা বসে ছিলেন। জামায়াত-শিবিরের লোকজন বাসটিতে ইটপাটকেল মারা শুরু করলে সামনের দিকের কিছু লোক পেছনে চলে যায়। অনেকে বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন। পেছন দিকে আটকা পড়েন রাসেল ও তার বাবা সাইফুল ইসলাম। একপর্যায়ে রাসেল তার বাবাকে কোনো রকমে বাসের জানালা ভেঙে বাইরে বের করে দেন। এ সময় তার বাবা বাস থেকে নিচে পড়ে আঘাত পান। কিন্তু রাসেল বের হওয়ার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। রাসেলের গায়ে আগুন লেগে গেলে তিনি আর বাস থেকে বের হতে পারেননি। অগি্নদগ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যান রাসেল। নাহিদ আরো জানান, রাসেল মাত্র দেড় বছর হলো বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম তন্বী। মাত্র দেড় মাস আগে রাসেল এক পুত্র সন্তানের জনক হয়েছেন।
রাসেল মাহমুদ জীবন দিয়েই বুঝালেন দেশের অপরাজনীতি শেষতক কারো জন্যই মঙ্গল কিছু বয়ে আনতে পারে না।
আহ! দায়িত্ববান সন্তান, দায়িত্ববান পিতা আর একজন দায়িত্বশীল ও নিরীহ মানুষের এই অকাল প্রয়াণ, তা কেবলই পচা আর গলিত রাজনীতির ফল। লাথি মারি যুদ্ধাপরাধি জামাত-শিবিরের এ রাজনীতি।
লিঙ্ক

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৩
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×