somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তন এবং আমাদের সুশীল সমাজ।

১১ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে আমাদেরকে যোগাযোগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং জ্বালানী খাতে উন্নয়ন করতে হবে । কিন্তু এসব খাতে উন্নতি করতে হলে প্রয়োজন বিদেশী বিনিয়োগ । সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান ও চীনে সফল সফর এবং অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতার যে সব ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে তার ফলে আমাদের দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যেমন উজ্জ্বল হয়েছে তেমনি অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, কারিগরি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে হবে আমাদের। অন্যদিকে রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্র নির্মানে রাশিয়ার সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার পথে।

সর্বশেষ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে জাপানের প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার সাহায্যের প্রস্তাব এক কথায় বলা যেতে পারে অভাবনীয়। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরেও অনুরূপ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভবনা, সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে এবং আমাদের দেশে বিনিয়োগে চীনের জন্য বিশেষ ‘অর্থনৈতিক জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব খুবই উল্লেখযোগ্য। চীন সফরের শুরুতে কুইমিন্টাং এ চীন-দক্ষিণ এশিয়া বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত সড়ক করিডোর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করারও আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এ সব পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট চাঙ্গা করা এবং এশীয় অঞ্চলে ধনবাদী দেশগুলোর একচেটিয়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আধিপত্য হ্রাস করতে এশীয় দেশগুলোর যে মহা অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তারই ইংগিত বহন করে।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে আগামী দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও একগুচ্ছ এশীয় দেশ মিলে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। এশিয়ার কিছু দেশ মধ্যম আয় ও উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আমাদের দেশে বিগত ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো নাখোশ রয়েছে এখনো, তারা আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রাজনীতির পূর্বাপর যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কিংবা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে অবস’ান নিয়েছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনাকে বিকল্প প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করতে হয়েছে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনোত্তর সরকারকে বৈধতা দানের ক্ষেত্রে কেবল ভারতই নয়, চীন, রাশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া দৃঢ় ভূমিকা নিয়েছে, ফলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত পশ্চিমা তোষণ নীতির ব্যতিক্রমী পরিবর্তন ঘটাতে চান।
এই দেশগুলোর সাথে বর্তমান সরকারের কার্যকর ও উষ্ণ সম্পর্ক পাশ্চাত্য দেশগুলি মেনে নিতে পারছেনা, মেনে নিতে পারছে না আমাদের দেশের সুশীল সম্প্রদায়। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব উইলিয়াম কেরি এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া তথা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যে ভাবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, শেখ হাসিনা সে সব অভিমত বিবেচনায় না নেওয়ায় ঐ সব দেশের পররাষ্ট্রনীতি যে ভাবে ধাক্কা খেয়েছে, তাতে বর্তমান সরকার নিয়ে তাঁদের নতুন ভাবনা চিন্তার বহিপ্রকাশও দেখা যাচ্ছে নানাভাবে।
বিশেষ করে ভারত-জাপান-রাশিয়া চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিবিধ সম্পর্ক উন্নয়ন তারা ভাল চোখে দেখছে না।

সরকারের অনড় অবস’ান এবং এশিয়ার বড়ো শক্তিগুলো এই সরকারের পাশে দৃঢ় অবস’ান নেয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সরকারের প্রতি সমালোচনার সুর কিছুটা নরম করেছে। আমাদের সুশীল সমাজ জাপান, চীন, ভারত, রাশিয়ার সাহায্য সহযোগিতায় খুশি নয়, তাদের দুর্নিবার আকর্ষণ এখনো আমেরিকা এবং পাশ্চাত্য দেশগুলোর প্রতি। এশিয়া মহাদেশে যে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিগুচ্ছ পুঁজিবাদী দুনিয়াকে পেছনে ফেলে এগুচ্ছে তাতে আমাদের সুশীল সমাজ খুশি নয়, তারা এখনো পুরনো সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের তোষণে ব্যস্ত। পদ্মাসেতু এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মতো মৃত ইস্যুগুলো তারা খুচিয়ে খুচিয়ে জীবন্ত করে তুলতে চাইছে। এরা ভারতের নতুন সরকারের উত্থানে প্রথমে খুশি হলেও বাংলাদেশের সরকারের প্রতি নতুন মোদী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে যে কোনরূপ পার্থক্য ধরা পড়ছে না তাতে কতিপয় সূশীল আবার হতাশ হয়ে গেছে।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×