somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছায়ান্ধকার ঘর!

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২৫শে অক্টোবর রাত ১০ টা। বসে আছি বারান্দায়। হেমন্তের বাতাস শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আমার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে। দূরে উড়ে যাচ্ছে পাখির পেটে করে মানুষের দল দেশ হতে দেশান্তরে কেউ বা ফিরে আসছে আপন জনের কাছে। হলুদ বাতির রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছে কোন ডানপিটের দল। ওদেরকে দেখে মনে পড়ে গেলো ভার্সিটি লাইফের কথা। প্রায়ই বন্ধুরা মিলে সোডিয়াম লাইটের আলোয় চষে বেড়াতাম পুরো শহর। রাতের ঢাকা যেন প্রেমিকার মত আমাদের টানতো। সে জীবন আর আসবে না। যা চলে যায় তা আর কখনোই ফিরে আসেনা। সার্টিফিকেট অর্জনের সাথে সাথে যেন বিক্রি করে দিয়েছিলাম জীবনের সকল আহলাদ। হঠাৎ ফোনের আওয়াজে ভাবনার দল উড়ে চলে গেল। একটি এসএমএস এসেছে। নিশ্চয়ই ফোন কোম্পানির কোন অফার হবে। এদের জ্বালায় শান্তি মত কোন কিছু ভাবায় যায় না। এই নস্টালজিক সময়টাকে লন্ডভন্ড করে দিলো। মুখে বিরক্তি নিয়ে একটি সিগারেট ধরাতে ধরাতে এসএমএস ওপেন করলাম। মৃত্তিকার এসএমএস। ছোট্ট একটি টেক্সট “কাল বিকেল চারটায় মিরপুর সাড়ে ১১ এর বনলতায়”। এমন কিছু আশা করেছিলাম অনেকদিন ধরে মৃত্তিকার সাথে দেখা হয় না। আমাদের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ বছরের। সময়ের সাথে সাথে সম্পর্ক গুলোও বদলে যায়। একসময় রাত দিন ফোনে কথা বলতাম। তা কমতে কমতে এখন মাঝে মাঝে এসএমএস এর পর্যায়ে চলে এসেছে। কিন্তু দুজনের প্রতি দুজনের বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের জায়গায় একটুও চিড় ধরেনি।

বিকেল চারটায় বনলতায় বসে আছি। মৃত্তিকা এখনো আসেনি। হয়তো রাস্তায় জ্যাম বা বাসায় কোন কাজ পড়ে যাওয়ায় দেরি হচ্ছে। গত সপ্তাহে কেনা নীল পাঞ্জাবী ও সাদা জিন্স পরে এসেছি। নীল পাঞ্জাবীতে নাকি আমাকে ওর ভীষণ ভালো লাগে। চার বছর আগেও একই ক্যাফেতে আমাকে কিছু বলবে বলে আসতে বলে ও আর আসে নাই। আমি সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বসে ছিলাম। আজকেও তাই ঘটল। আমি কয়েক পর্ব কফি খেয়ে সাত টায় বাসায় চলে আসি। ঐদিনও তাকে কিছু বলিনি আজও কিছু বলার প্রশ্নই আসে না।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন যেনো লাগছিলো। ফোনটি হাতে নিয়ে মৃত্তিকাকে ফোন করলাম। প্রথম রিং এ ফোন ধরলো না। পরের বার ওপাশ থেকে ফোন ধরল।
- কে? শোভন।
- হ্যাঁ। আপনি কে?
- আমি মৃত্তিকার কাজিন। আপনি কি একটু বাসায় আসতে পারবেন?
- কেন? মৃত্তিকা কোথায়?
- আপনার জন্য একটা চিঠি আছে আমার কাছে । আপনাকে জানানোর সময় হয়নি। কালকে মৃত্তিকা আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেছে । কাল রাতেই ওকে দাফন করা হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে।

হেমন্তের শুভ্র সকালের শীতল বাতাস যেন আমার হৃদয় কেড়ে নিলো নিমিষে। হাজারটা ছুরি এসে বিদ্ধ হল আমার বুকে। মৃত্তিকা আর নেই। চোখ ধেয়ে বয়ে চলেছে জলের স্রোত ধারা। কেউ যেন এসে পায়ের তলার মাটি ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কাঁপিয়ে দিলো। হন্যে হয়ে ছুটে গেলাম মৃত্তিকার বাসার দিকে। পথ যেন ফুরাচ্ছে না। বুকটা যেন বিশাল নিঃসঙ্গ ফাঁকা। চিঠিটি হাতে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি ওর কবরের স্থান জেনে। চিঠিটি নাকি ওর টেবিলের ড্রয়ারে ছিলো। তড়িঘড়ি করে রাস্তায় এসে চিঠিটি খুলে দেখি ওর শেষ এসেএমএস এর মত ছোট্ট করে লেখা “ভালোবাসি ! তোমার মৃত্তিকা!!”।

চিঠিটি বেশ পুরানো। বুকের মধ্যে আছড়ে পড়ল কাল বৈশাখ। চার বছর আগেই কি তুমি ঠিক এ কথাটিই বলতে চেয়েছিলে? উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে চললাম আজিমপুরের দিকে। আমি আসছি মৃত্তিকা। আমি আসছি তোমার কাছে। একটু অপেক্ষা কর। একটু অপেক্ষা কর আমার জন্য। আমিও তোমাকে ভালোবাসি মৃত্তিকা।


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯
৪১টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির ক্যাবিনেট পদত্যাগ করেছে।

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:০৬



মনে হয়, আমেরিকা চাপ দিচ্ছে প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির নতুন ক্যাবিনেট গঠন করতে। আমেরিকা কি করার চেষ্টা করছে, তা পরিস্কার নয়; পুরো ফিলিস্তিনে কেহ এখন আর প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটিকে বিশ্বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘৃন্য মৌলবাদীরা জয়াদের ঘৃণা করলেও সৃষ্টিকর্তা তাদের ভালোবাসেন।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:১৪


ছবি - ব্যক্তিগত।
ব্লগে এক পাগল আমার পোস্টে ব্যবহৃত ছবির প্রাইভেসি নিয়ে হাউকাউ করছে। একটা আস্ত পোস্টও প্রসব করছিল। অথচ এই পর্যন্ত যতো ছবি আমি ইউজ করছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×