সেশনাল শেষ হয়ে গেল আগে-ভাগেই..অন্য গ্রুপগুলো এখনো প্রাণহীন যন্ত্রদের ঘাঁটাঘাঁটি করে চলেছে। বাইরে পা বাড়াতেই দেখি বৃষ্টি..অসহ্য!
টের পেলাম আমার চোখের রঙ বদলাতে শুরু করেছে..
চাই না- চাই না তোমাকে।।
আমার জন্ম কোন এক শীতের দুপুরে। বাবার মুখে শুনেছি পৌষের শুকনো পাতাদের অবাক করে দিয়ে সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল। আমার আগমনে আকাশ কেঁদেছিল কিনা জানিনা- কিন্ত সেই থেকে বৃষ্টির সাথে আমার আড়ি..
ঠিক ২০ বছর পর- কম্বল থেকে মাথা বের করে দেখি আমার জানালার কাঁচে বৃষ্টির আঁছড়ে পড়ে ডাকাডাকি। মনে মনে মুন্ডুপাত করি এই বৃষ্টির- এই হাড় কাঁপুনি শীতে তার আসার সময় হল!?
মোবাইলটা টেনে নিতেই দেখলাম-
11 missed calls
24 messages
মনে পড়লো- আজ আমার জন্মদিন..
আমি বৃষ্টির দিকে তাকালাম..
আবার বেজে উঠল ফোনটা.. প্রিয় সেই নাম মোবাইল স্ক্রিনে..
চাই না- চাই না তোমাকে।।
বৃষ্টি ভীষণ প্রিয় ঐ ছেলেটার- আমি যখন সন্ধ্যেবেলা কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরি- মনে মনে বকতে থাকি হতচ্ছাড়া বৃষ্টিকে.. ও তখন ছাদের উপর পিচ্চি ভাইটাকে নিয়ে ফুটবল খেলে। ঝড়-বাদলে বেরিয়ে পড়ে সাইকেল্টাকে নিয়ে।।
আমি বলি- ভুত?? হাহ!
সে তখন জীবনে প্রথমবারের মত ভয় পাইয়ে দেয় আমাকে..
আমি যখন তাকে ভুলে যেতে বসি- আমাকে চমকে দিয়ে ফিরে আসে সে.. বারবার..আবার..
ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাশে বসে কোনটা যে বুঝেছি আর কোনটা বুঝিনি সেটাই ভেবে পাই না। আলসেমিরা তখন চোখের পাতায় আসন পেতে বসে.. কানের কাছে ফিসফিসিয়ে তার নাম শুনতে পাই..
আমি অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা করি। মাথার ভেতর এলোমেলো কিছু লাইন ঘুরপাক খায়-
...তুই আমার অন্তঃপুরে
রাত্রি জাগা আলো
বুকের পাশে লুকিয়ে রাখা ঝড়-
তুই আমার স্বপ্ন-সায়র মত্ত আনাচ-কানাচ
থেমে যাওয়া সহস্র প্রহর...
জানালার বাইরে তাকিয়ে মুন্ডুপাত করি বৃষ্টির। চোখ ফেরাই বোর্ডের দিকে।
আমি চাই না- চাই না তোমাকে।।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


