somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরনো আমি

২০ শে মে, ২০১১ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৪ ঘণ্টা হল বাসে বসে আছি। এতক্ষণে বাড়ি গিয়ে ঘুম দেবার কথা ছিল। অ্যাক্সিডেন্ট হইছে- তাই রাস্তা বন্ধ। যা জ্যাম বাঁধছে তাতে রাস্তা খুলে দিলেও লাভ নাই। বাড়ি পৌছাতে অনেক দেরি..
এই ৪ ঘণ্টায় আম্মা ৭ বার ফোন করে বকাবকি করেছে- কেন এতরাতে রওনা দিলাম সেই জন্য। আমি যথারীতি বকা খেয়ে হেসে ফেলি- আম্মা আর কিছু বলতে পারে না। আমার হাসির অনেক মূল্য- সেটা আমার কোনদিন অজানা ছিল না!
বোকা মেয়েটা রেগে আছে। আমি মাত্র ৩৬ ঘণ্টার জন্য বাড়ি যাচ্ছি- এবং বাড়ি আসার কারণ তাকে বলছি না! সে জানে আমি কখনোই এসব কোশ্চেন এর রিপ্লাই করি না- তবু জেনে-শুনেই রাগারাগি করে! ফোনটা অফ করে দিলে ভালো হত, আম্মার কারণে পারছি না!

আমি যে কাজটা করিনা সেটা করায় মন দিলাম! স্মৃতি হাতরালাম..
আমাদের প্রকান্ড বাড়িটা- সাজানো একটা ছাদ! আমার বন্ধুদের খুব প্রিয় ছিল। বোকা মেয়ের প্রিয় ব্যালকুনিটা। আমার কাছে কোনটা প্রিয়? বোধহয় গানটা-
"আমি যে এই বাড়িতে নাকি
বাড়িটাই ভবঘুরে.."
আমার ভালো লাগে এই বাড়িটায় আমার ছেলেমানুষ আব্বুকে..আবেগী আম্মাকে.. আর চশমা পরা পাঁজিটাকে।
ছোট্ট শহরটাকে ভাল লাগে। চির পুরাতনের একটা গন্ধ আছে এই শহরে। আছে অনেক অনেক আধ-ভাঙা পুরনো দো'তলা বাড়ি আর শতবর্ষি গাছ।
আমার শৈশব কেটেছে জানালার ফ্রেমে বাধানো আকাশ দেখে! কৈশোরটা দাপিয়ে বেড়িয়েছি খুব! আমার বন্ধুরা কেউ আমার মত ছিল না..ওরা সবাই সাঁতার জানতো, গাছে উঠতে পারতো, ধুলো মেখে খেলার অনেক স্মৃতি ছিল ওদের! আর আমার ছিল নিয়ম ভাঙার সহজাত এক সাহস! আমিও যখন ওদের হয়ে গেলাম, আমাদের ঠেকাবার মন্ত্র কারো জানা ছিল না! আমাদের দিনগুলো যেন বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছিল!
লোকে শুনলে আঁতেল বলবে- আমরা বন্ধুরা কোনদিন অ্যাডাল্ট ফিল্ম নিয়ে আলোচনা করিনি! বোকা মেয়েটা, মিতুল আর আমার প্রিয় শ্যাওরাবৃক্ষবাসিনী যে মেয়ে- আর চির হতাশ তনু, জ্ঞানী আবির কিংবা কিংশুক যে ছেলে ছিল- এই বিষয়টাও মাথায় আসে নি কোনদিন! আসাটাও বোধহয় অন্যায় হত! এসবের থেকে আদারে-বাদারে ঘোরা অনেক বেশি ইমপোর্ট্যান্ট ছিল আমাদের কাছে!
এক্সাম খারাপ হলে আমরা হাঁটতে হাঁটতে শহরতলী ছাড়িয়ে যেতাম..ধানক্ষেতের ধারে বসে আড্ডা চলত যতক্ষণ ক্ষিদের জ্বালা অসহ্য হয়ে না উঠতো! বাড়ি ফিরলে আম্মা জিজ্ঞেস করত পরীক্ষা কেমন হয়েছে- আমি দাঁত কেলিয়ে বলতাম- "খারাপ হইছে আম্মা!:D"
অন্য কেউ হলে আম্মা কষে একটা থাপ্পড় দিত- কিন্ত আগেই বলেছি- আমার হাসির মুল্য আছে! আমি সেটা জানতাম!
আম্মার খুব পানির ভয়! আমি তার নিষেধ কখনো মানি নি..সুযোগ পেলেই চলে যেতাম নদীর ঐ পাড়ে- হাঁটতাম কাশের বন ধরে। শহরতলীর নিরব রাস্তায় সাঁই-সাঁই করে সাইকেল ছোটানোর নেশা ছিল আমাদের। ডানা ছাড়াই উড়ে বেরানোর নেশা ছিল! নেশা ছিল জারুল, কৃষ্ণচূড়া আর সোনালু ফুলে ভরা রাস্তাগুলোর!
ঘুড়ি ওড়াতে জানতাম না- তবু আকাশ ছুঁতে চাওয়া ঘুড়ি দেখার নেশা ছিল আমার! রঙিন ঘুড়ি কিনে এনে দিতাম পাড়ার পিচ্চিগুলোকে- ছাদে বসে দেখতাম আকাশটাকে রঙিন করছে ঘুড়িগুলো.. সন্ধ্যাবেলা একে একে যখন নেমে আসত ঘুড়িগুলো, আমারও ঘরে ফেরার সময় হত। নিজেকে মনে করিয়ে দিতাম- আমিও ঐ ঘুড়িগুলোর মতই.. নাটাই পড়ে আছে শক্ত, বোবা ঐ ভুমিতে!

চলবে..
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫১
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×