-"তুই একটা অমানুষ!"
আমি অমায়িক হাসি হেসে বললাম.."সেই ছোটবেলা থেকে!"
হেসে ফেলল বাকীরা.. ওদের দিকে এক পলকের অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে সে আরো বেশী মুখ ফুলিয়ে বসল!
কাল রাত থেকেই আমাদের কথপোকথন এর সুরটা এরকম!
আমি ৩৬ঘণটার জন্য বাড়ি এসেছিলাম। দেখা করা হয়নি বন্ধুদের সাথে! এই নিয়ে কাল থেকে চলছে তাহার ইমোশনাল অত্যাচার। রাগগুলো দলবল নিয়ে এসে যেন তার সাধের চশমাটা ঝাপসা করে না দেয়, তাই আজকের ক্লাশগুলো বাদ দিতে হল! সফরের মেয়াদ ২৪ঘণ্টা বৃদ্ধি করিয়া আমি এখন বাসায়!
বন্ধুদের সাথে ডে আউট এর প্ল্যান! সবাই এখনো পৌছায় নি তাদের জন্য অপেক্ষা চলছে! আর চলছে তার ছেলেমানুষী!
আমি আমার ইম্পোর্ট্যান্ট ক্লাশ বাদ দিয়ে এখানে বসে আছি, সেটা কিছু না! আর টিভির চ্যানেল চেঞ্জ করে দিয়েছি বলে আমি অমানুষ হয়ে গেলাম!
ফোন নামিয়ে রেখে তনু(পুরো নাম তন্ময়) জানাল মিতি- মানে শ্যাওরাবৃক্ষবাসিনী ডিরেক্টলি গন্তব্যেই আসবেন, আমরা যেন বেরিয়ে পড়ি! শ্যাওরার সাথে কথা বলা দরকার কিন্ত বন্ধুদের এই হৈ চৈ এর মাঝে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ হয়ত হবে না! আমার অকারণেই একটু মন খারাপ হল!
রেস্টুডেন্টে ঢুকেই শ্যাওড়ার চিৎকার- "তনুরে তুই তো সুন্দর হয়ে গেছস!"
-"অ্যাহ্! আমি কালা আছিলাম কবে?"
মিতুলও যোগ দিল- "তনু, তুই না মোটা হয়ে গেছিস!"
-"হুমহ! চিকনা ছিলাম কবে?"
এবার আমিও- "দোস্ত! তুই না ছেড়ি হয়ে গেছস!"
-"ছ্যাড়া আছিলাম কবে?" বলেই জিভে কামড় পড়ল! আর আমাদের অট্টহাসি!
খাওয়া শেষে পা বাড়ালাম আমাদের প্রিয় নদীর ঘাটটার দিকে। বোকা মেয়ের আবদার- চা খাবে! সেটাও হতে হবে নদীর ওপারের টং এর চা!
-"এক কাপ চা খাওয়ার জন্য ওপারে যাব!" আমি অনেকদিন পর অনীহা দেখালাম!
-"কি হয় গেলে!?"
-"আরে এই মাত্র না খেলাম! এখন আবার চা!?"
ঠাস করে থাপ্পড় পড়ল পিঠে! অনেকদিন পর মিতুলের মার খেলাম!
-"তুই এরকম বুড়া হৈছিস ক্যান রে? চল-"
তনু ততক্ষণে নৌকায়..আমিও পা বাড়ালাম!
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খেয়াল হল- আমি বাড়ি ছাড়ার পর আর চা খাইনি! ক'দিন হয়েছে?
হঠাৎ তনু বলল- "ওই! তোরা ঐ বজ্জাত পোলাটারে দেখছিস- সারাক্ষণ আমাদের টেবিলের দিকে তাকায় ছিল?"
সঙ্গে সঙ্গে মিতুল ফোঁড়ন কাটল- "তনু রে!!! তুই এখন পোলা দেখে বেড়াস? তুই তো আসলেই-"
-"ছ্যাড়া আছিলাম কবে?" (আমরা সবাই একসাথে বলে উঠলাম! সেই সাথে হাসি..)
-"আরে ধুর! তোগোর খালি শয়তানি! ঐ বেটা পাশে গার্লফ্রেন্ড রেখে আমাদের টেবিলের মেয়েদের দিকে তাকিয়ে ছিল, তাই বললাম!"
এরপর আড্ডায় মজার একটা প্রশ্নের উদয় হল- "তোর গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড যদি তোর পাশে বসে অন্য কারো দিকে তাকিয়ে থাকে- কি করবি?"
মিতুল- "আমি হইলে থাবড়ায়া দাঁত ফালায়া দিতাম!"
তনু- "অ্যাহ্! ঐখানেই ঐ মেয়ের সাথে সব সম্পর্ক শেষ!"
বোকা মেয়েটা মুখ কাঁচুমাচু করে বলল- "সান-গ্লাস পরিয়ে দিব! দেখলে তো আর ফেরাতে পারব না- সান-গ্লাস পরলে অন্তত আমি সেটা জানতে পারবো না! কষ্টও পাব না তাহলে!"
আমরা অনেক কষ্টে হাসি চাপলাম!
শ্যাওড়ার উত্তরটা ছিল মনে রাখার মত..সে উদাস মুখে বলল- "দেখুক না! না দেখলে বুঝবে কি করে আমাকে পেয়ে সে কততত.. লাকি!"
(চলবে কিনা বুঝতে পারছি না! ভাল লাগছে না লিখতে..)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


