somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

কত যে অজানা

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ চেনা বড় কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। সব চেয়ে কাছের মানুষটিও হয়ে উঠে একদম বিপরীত, অচেনা অন্য রকম। মাঝে মাঝেই এমন অবস্থার শিকার হন অনেকেই।চেনা মানুষ বদলে গিয়ে অন্য কেউ হয়ে উঠেন। এ তো এক ধরনের চেনা। কিন্তু অন্য আরেক ধরনের অচেনা মানুষ থাকে আমাদের পাশে। যাদের যে রূপে আমরা চিনি, তার অন্য একটি ভিতরের রূপ থাকে যা পরিচিত জনের কাছে অচেনা।
হঠাৎ কখনো এমন রূপ দেখে আমরা হয়ে উঠি সত্যি কীংকর্তব্যবিমূঢ়।
কত ভাবেই প্রতি নিয়ত চিনতে হয় মানুষ।
অনেক অনেক বছর আগে যখন প্রথম আমেরিকার মুখ দেখলাম। ঘুরি ফিরি যা দেখি তাতেই অবাক হই এমন দশা। বিশাল বিশাল দোকান, মলে ঘুরি ফিরি আর অবাক বিষ্ময়ে দেখি কত রকম বিচিত্র জিনিস। সব কিছু কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে কিন্তু সবই সাধ্যের বাইরে।কোথাও কেউ পাহাড়া দিচ্ছে না। দোকানদার এগিয়ে এসে কিছু বলে না। নিজের মতন ঘুরে ফিরে দেখে পছন্দের জিনিস নিয়ে কাউন্টারে গিয়ে দাম পরিশোধ করতে হয়।
মাথার উপর বড় বড় কালো লাইট বাল্বগুলো যে আসলে ক্যামেরা, কে কোথায় যাচ্ছে, কি ধরছে কি নাড়ছে, কি পকেটে ঢুকাচ্ছে সব ভিডিও করে রাখছে, তা আমাকে তখন কেউ চিনিয়ে দেয়নি। আমারও এমন কোন সতর্কতার দরকার ছিল না। অবাক বিষ্ময়টুকুই ছিল যথেষ্ট আমার জন্য।
এত ইচ্ছার ভিতর বহু বাছাই করে বিদেশী ডিজাইনের, একটি রূপার চেইন কিনে ছিলাম বিখ্যাত ম্যাসি থেকে।
এরপর আমি আবার ঘুরছি। আমার কেনা প্যাকেটটা যিনি আমাকে সাথে নিয়ে গিয়েছেন তার বাচ্চার হাতে।
কথা ছিল উনাদের বাসায় যাবো বেড়ানো শেষে। কিন্তু আমাদের ঘোরা ফেরার মাঝে অন্য একজনের সাথে দেখা হয়ে গেলো এবং তিনি আমাকে তার বাসায় নিয়ে গেলেন।
খাওয়া, গল্পে অনেক রাত হয়ে গেলো, ঘুমাতে গেলাম। সকালে ঘুরতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আগের দিনের কেনা প্যাকেটটা নজরে এলো।পলি ব্যাগের ভিতর থেকে কাগজের মোড়ক বের করে, তার ভিতর থেকে চেইনের বক্সটা বের করলাম। সাথে টুক করে কাগজের মোড়ক থেকে পাথর বসানো একটি ব্রেসলেট বেরিয়ে এলো। আমিতো অবাক। এ কি ভাবে হয়? আমি তো কিনলাম একটা জিনিস সাথে অন্যটা কি ওরা গিফট দিয়েছে? বেশ তো আমেরিকার দোকানগুলো খুব ভালো। কিছুই বুঝতে না পেরে হতভম্ব আমি, যাদের সাথে গিয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞাস করে জেনে নিব মনে করলাম ওদের বাসায় ফিরে গেয়ি। তখন তো আর এমন হাতে মোবাইল ফোন ছিল না।
তাই অপেক্ষা করতে হবে আমার সঠিক আস্থানায় যাওয়া পর্যন্ত। একটা অস্বস্থি মন জুড়ে রইল। ঘুরতে ঘুরতে বন্ধু স্বজন এক একজনের বাসায় কয়েকদিন কেটে গেলো।
চার পাঁচ দিন পর যখন আমি ফিরলাম তখন শুনলাম ঐ বাসায় প্রতিদিন আমার খোঁজ করেছেন, যার সাথে গিয়েছিলাম মলে তিনি।
এখন তো উনি কাজে রাতে ফোন করব। রাতেও করা হলো না। ঘুরতে বেরিয়ে। পরদিন ঘুম ভাঙ্গল আমার উনার ফোনে,
কেমন অাছেন আপনাকে যে খুঁজে পাচ্ছি না।
জ্বী শুনেছি আপনি ফোন করেছিলেন, বলুন তো কি ব্যাপার?
আপনি যে সেদিন একটা জিনিস কিনলেন ম্যাসিতে, সেই প্যাকেটের ভিতর একটা জিনিস রেখেছিলাম আমি।
জ্বী মনে পরেছে, আমিও ভাবছিলাম আপনাকে জিজ্ঞেস করব, ওটা এলো কি করে প্যাকেটে বুঝতে পারছিলাম না।
আমি রেখেছিলাম। জিনিষটা আমার। হাতে ছিল খুলে প্যাকেটে রেখেছিলাম।
ঠিক আছে আপনি এসে নিয়ে যান আজ সন্ধ্যায়।
আজও ভেবে কুল কিনারা পাইনা। নিজের জিনিস আমার কেনা প্যাকেটের মধ্যে কেন উনি রেখে ছিলেন উনার তো প্যান্টের জ্যাকেটের পকেট ছিল, ব্যাগ ছিল সাথে। বাচ্চার কাধেও একটা ব্যাগ ছিল। আর আমি দিব্যি সীলমারা অবৈধ্য একটা জিনিস নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলাম। যদি ধরা পরত ক্যামেরায় বা বার্জ বেজে উঠত অসম্মান যা আমার হতো। অথচ আমি কিছুই জানি না। আমার প্যাকেটের ভিতর অন্য একটি মাল আছে।
ঘটনাটা মনে পরলেই সারেং বউ ছবিতে খুশি মনে জাহাজ থেকে নামতে প্রস্তুত, ফারুকের মুখটা ভাসে। তার অজান্তে পকেটে ততক্ষণে চলান হয়ে গিয়েছিল অবৈধ মাল। ধরা পরে বিদেশের জেলে কাটাতে হলো কয়েকটা বছর বেচারাকে।
নিজের অজান্তে অনেক ঘটনার শিকার হয়ে যায় মানুষ অপরাধী না হয়েও। মানুষকে বিশ্বাস করতেই ভালোবাসি। কিন্তু মানুষের কুৎসিৎ রূপ যখন মানুষ দেখায় তাদের থেকে সতর্ক হওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না।
কত ভাবেই প্রতি নিয়ত চিনতে হয় মানুষ।
জিনিসটা ফিরিয়ে দেয়ার সাথে একজন মানুষকেও চেনা হয়ে গিয়েছিল। যাকে হৃদয় থেকে ফিরিয়ে দিয়েছি কোন কথা না বলে।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৮
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×