somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

ভালো থেকো ভূমি

২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর এই সময়ে জাপান ছিলাম। যেদিন হিরোশিমা বেড়াতে গেলাম। সারাদিন ঘুরে ফিরে রাতে হোটেলে ঘুমানোর সময় জানলাম সুনামির এর্লাট আছে। জাপান ভূমিকম্পের দেশ ছোটবেলা থেকে এই জেনে বড় হয়েছি। জাপানিরা ছোট ছোট কাগজের ঘর তৈরী করে। তাদের ঘরে আসবাব পত্র বেশী থাকে না। ভূমিকম্প ধ্বসে যেন ক্ষয়ক্ষতি বেশী না হয় তার জন্য এমন ভাবেই নির্মিত হয় বাড়ি ঘর। কিন্তু স্বচক্ষে যে জাপান দেখলাম সেখানে ছোট ছোট কাগজের বাড়িঘর খুঁজে পেলাম না। বিশাল বিশাল দালান কোঠা। হাইরাইজ ঝা চকচকে রাস্তা, ফ্লায়াইওভার দেখে মনেই থাকল না জাপান ভূমিকম্পের দেশ। এত এত সাবওয়ে টোকিও জুড়ে এবং তার প্রতিটি সাবওয়ের ভিন্ন সৌন্দর্য গঠন প্রণালী এবং সব চেয়ে আকৃষ্টকারি দৃষ্টিনন্দন, পরিচ্ছন্নতা মন কেড়ে নিল।
উত্তর আমেরিকার বা লন্ডনের টিউব রেলওয়ে ম্লান হয়ে যায় জাপানের রেলওয়ের গঠন প্রনালি এবং পরিচ্ছন্নতার দিক বিচার করলে। পরিপাটি রাস্তা, পার্ক, বড় বড় দোকান পাট আলো এবং সাজ, আধুনিকাতার শেষ সীমাটি ধরে রেখেছে প্রতি ক্ষেত্রে। জাপানে প্রথম চড়লাম চালকবিহীন ট্রেনে। কম্পিউটারাইজ ট্রেন সময় মাফিক যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোন রকম ভুল না করে।
সেদিন হিরোশিমায় রাতে ঘুমানোর আগে টেলিভিষনের খবর জেনে নতুন করে মনে পরল জাপান ভূমিকম্পের দেশ। এবং এই শতকেই কি বিশাল সুনামি তান্ডব ঘটল, বলা চলে স্বচক্ষে দেখেছি। ভিডিও ফুটেজে এবং টিভিতে দেখা সুনামির ছবিগুলো কী ভয়াবহ ছিল সবারই মনে আছে। প্রকৃতির তাণ্ডব কতটা ভয়াবহ হতে পারে । সাজানো ঘরবাড়ি, গাড়ি মানুষসহ কী ভাবে টেনে নিয়ে গেলো পানি । যেন ঝরাপাতা নাচছিল জলের উপর। কারও সাধ্য হলো না প্রকৃতির ছিনিয়ে নেয়া থেকে কিছু রক্ষা করার। যতটুকু নেয়ার আপন মনে নিয়ে গেলো সুনামি। তারপর আপন মনেই থামল। মানুষ শুধুই অসহায়ের মতন দেখল।
রাতে একটু ভয় ভয় মনে ঘুমালাম হিরোশিমায়। হয়তো বা সুনামির ধাক্কা খেতে পারি। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে সব ঠিকঠাক পেলাম। প্রকৃতি নড়াচড়া করেনি তেমন। আর বাকি কদিন জাপানের বুকে র্নিবিঘ্নে ঘুরে বেড়িয়ে আমার অন্য গন্তব্যে চলে গিয়ে ছিলাম।
কিন্তু সেদিন প্রকৃতি জাপানকে নাড়া না দিলেও নাড়িয়ে দিয়েছিল চীনের কিছু অংশ থেকে নেপাল, দুলে উঠেছিল বাংলাদেশও। তবে নেপালের কাটমুণ্ডু হয়ে ছিল লণ্ডভণ্ড।
ফিরে আসার পর বাংলাদেশে একদিন হালাকা ঝাঁকুনির দেখা পেয়েছিলাম। এই সময়টা ভূমিকম্পের কিনা কে জানে। শীতের তীব্রতার পর কি প্রকৃতি একটু গা ঝাড়া দিয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গে, আর তাতেই গড়িয়ে যায় মানুষের সাধের সাজানো ঘরবাড়ি? কিছুদিন আগে বয়ে গেল বাংলাদেশে মিয়ানমারের উপর দিয়ে ভূমিকম্প। তারপর জাপান এবং ইকুয়েডর। প্রতিদিন আশংকা করা হচ্ছে যে কোন সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পে বদলে যেতে পারে ভূখণ্ড। কয়েক বছর আগে বসন্তের এই সময়ে পাহার ধ্বসে ঘরবাড়ি ঢুকে গিয়েছিল মাটির নীচে। আর সিঙ্কহোলের ভিতর টপাটপ ঘর গাড়ি পরে যাওযার খবরে আতংকিত হচ্ছিলাম।
সত্যি প্রকৃতির রহস্য জানা কঠিন। ভয়াবহ কিছু না ঘটুক শান্ত থাকুক ভূমি। প্রকৃতির সৃজন শীলতায় শান্ত প্রকৃতির মায়াময় রূপের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই ভয়াবহতায় নয়। ভালোবেসে ফুলে ফলে সাজাতে চাই প্রকৃতি বসুধা যেন আমাদের তার বুকে রাখে ভালোবেসে। উড়িয়ে না নিয়ে যায় দারুণ টানে।




সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৫৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×