
গত সপ্তাহে দুইয়ের ঘরে উঠে যাওয়া উত্তাপ, মাঠ জুড়ে শুয়ে থাকা বরফদলকে খেদিয়ে দিল মাত্র এক রাত্রে। সকাল থেকে সন্ধ্য পর্যন্ত দেখেছিলাম সাদা মাঠ দিগন্ত ব্যাপী গভীর ঘুমে।
কিন্তু সকালে উঠে দেখলাম ছেঁড়া কাপড়ের মতন এখানে ওখানে কিছু টুকরো পরে আছে যেন শ্রভ্র কাপড়ের। দক্ষিণের হাওয়া প্রবল বেগে উড়ছিল সাথে যেন উড়িয়ে নিবে সব কিছু। ঘরের দরজা খোলার সাথে সাথে ছুটে হাওয়া ঘরে ঢুকে লণ্ডভণ্ড করছে ঘরের জিনিস পত্র। হালকা জিনিস উড়ে যাচ্ছে, ধুপধাপ পরে যাচ্ছে অল্প ভাড়ি ফুলের টব থেকে কাগজের বক্স যার মধ্যে থাকে সিরিয়াল, বিস্কিট এমন কিছু,ঘরটা হয়ে উঠছে হাওয়ার ঘর। আমার কোন নিয়ন্ত্রণই থাকছে না। শরতের ঝরাপাতারা শুয়েছিল মাঠে বরফের কম্বল জড়িয়ে। তাদেরও উড়িয়ে নিচ্ছে বাতাস এখান থেকে ওখানে। কখনো এতটাই উপর দিয়ে উড়ছে মনে হচ্ছে পাখি উড়ছে। ভুল করে ভাবছি বসন্ত
এসে গেছে। পাখিরা ফিরেছে ঘরে।

এখনো সব পাখি আসেনি তবে কদিন আগে একঝাঁক স্টারলিং দেখলাম। উড়ছে ঢেউ তুলে।
পুকুরের জলের উপরে ভাড়ি হয়ে মাঠ বানিয়ে, দেওয়া সব তুষার, হালকা বরফ হয়ে ভাসছে। জলের উপর আঁকি বুঁকি আঁকছে ভাঙ্গা বরফ সুন্দর মানচিত্র। জলের নিচে ছয় মাস ধরে ডুবে থাকা প্রাণী গুলো, বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেলো যেন ভাঙ্গা ফাঁক ফোকর দিয়ে। আর অল্প দিনেই ভেসে উঠবে জলের উপর সাঁতার কাটবে পুচ্ছ নাচিয়ে।
বাইরে বেরিয়েছিলাম বেশ দূরের পথে। যত দূর গেলাম বাতাস আমাকে ধাওয়া করল তীব্র বেগে । সাথে সাথে ছুটল। সুযোগ পেলেই ধরে উড়িয়ে নিবে যেন কোন তেপান্তরের দেশে। মাঝে মঝেই গাড়ি কেঁপে উঠছে হাওয়ার ধাক্কায়। ভিতরে বসে কেঁপে উঠছি আমি সাথে। শো শো শব্দ ঘিরে আছে চারপাশ থেকে, ছুটছে সাথে সাথে।

রাস্তার পাশের মাঠগুলো দেখলাম, ঘুম ভাঙ্গিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া বরফ, জল হয়ে নদী পুকুর থেকে সমুদ্র পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছে। তরতর খড়স্রোতা নদী বয়ে যাচ্ছে রাস্তার দুপাশে। কোন বাড়ির ভিতর ঢুকে পরেছে জল। কোথাও ছুঁইছঁই বন্যা যেন বরফ গলা জলের। আমার গলা ছেড়ে গাইতে ইচ্ছা হলো থৈ থৈ জলে ডুবে গেছে পথ এসো এসো পথ ভোলা। কিন্তু এমন ঠাণ্ডা জল মাড়িয়ে পথভোলা কেমনে আসবে সেটাও চিন্তার কারণ। ভেবেছিলাম জমা জলে নৌকা ভাসাব । এই সময়ে এটা আমার প্রিয় খেলা। নানা রঙের নৌকা বানিয়ে জলে ছেড়ে দেই তারা ভেসে যায় বাতাসের স্রোতে। কিন্তু এবার খুব দ্রুত পানি শুকিয়েও গেল। নৌকা ভাসানো হলো না।
কাজ সেরে ঘুরে ফিরে বাড়ি এসে আটকে গেলাম উঠনের মাঝে। গাড়ি আর কিছুতেই নড়তে পারছে না। সরে যাওয়া বরফের নিচের মাটি থকথকে কাদা হয়ে আটকে ধরে আছে গাড়ির পা। যেন বলছে থাকো আমার কাছে, যেওনা সাথি। যতই গ্যাসে চাপ দেই মাটি ছুটে ছুটে যায় স্ফুলিঙ্গের মতন দিক বিদিক। গাড়ির ছাদ পর্যন্ত মাখামাখি কাদামাটির ভালোবাসায়। যতই আমি সরাতে চাই গাড়িটাকে, ততই মাটি তাকে ভিতরে ঢুকিয়ে কাছে টেনে নেয়। কি এক দারুন টানাটানি চলল অনেক সময় ধরে। তার পর সফল হলাম মাটির কাছ থেকে তুলে আনতে গাড়িকে। অতপর দিতে হলো তাকে একটা ভালো গোসল। প্রবল বাতাস পানি সরিয়ে নিয়ে যায় অন্য দিকে যখন আমি পানি ঢালতে চাই গাড়ির গায়ে।

দুই সংখ্যার উত্তাপ ঝুপ করে নেমে গেল আবার মায়নাসে। বাতাস যেন তীব্র হুল ফোটাচ্ছে শরীরে এমন মনে হলো। আজ সকালে দেখলাম তাড়িয়ে দেয়া বরফরা এসে আবার ঘুমিয়ে ছিল মাঠ জুড়ে।
সূর্য মহাশয় বেশ জ্বলছে আকাশ আলো করে। ঘরে বসে বাইরে তাকালে মনে হয় চৈত্রের তুমুল আলো,খরায় পিড়িত মাঠ আর হাহাকার জাগানো উদাসি শুকনো রুক্ষ বাতাসে ভরে আছে দিগন্ত যেন। এই সময়টা কেমন যেন শূনাতা ভর করে মন জুড়ে। ন্যাড়া গাছ। খালি মাঠ আর অজস্র রোদের আলো।

তবে আশার কথা প্রথম ভূঁই চাপারা এর মাঝেই মাথা তুলেছে মাটির উপর আর মাত্র কদিন এত্ত ফুল ফুটবে নানা রঙের। আলোকিত করে দিবে মন। রঙের বন্যায় আর সুগন্ধ ছড়িয়ে। পাখি প্রাণীদের মেলা বসে যাবে গান আর ভালোবাসায় ফুলদের ঘিরে।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




