
একটা সময় ছিল চোর সম্প্রদায় শরীরে তেল জাতীয় পিচ্ছিল জিনিস মেখে তারপর মাটি খুঁড়ে চুরি কার্যক্রম চালাত। এই কর্ম করার আগেই তারা এসে ঘরের চারপাশ ভালো করে দেখে নিয়ে যেত। একটা থ্রিলিং ব্যাপার স্যাপার ছিল!কারণ চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না খায় ধরা।
এ সম্প্রদায়ের আরেকটু উঁচু শ্রেণী হলো ডাকাত। এক সময় এরা খুব নায়ক এর মতন কাম কাইজ করতে পছন্দ করা শুরু করল। যেমন যার বাড়িতে হানা দিবে তাকে সোজা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিত। অমুক দিন অমুক তারিখে আসছি! ভাবা যায় কত বড় বুকের পাটা! যেহেতু এরা চিঠি লিখে আসত তারমানে এরা শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে পড়ে।
একবার আমার নানাকে এমন চিঠি দেয়া হয়েছিল।নানা সবাই কে সাবধান হতে বলল আর ভয়েও ছিল কারণ যদি এরা গুলি করে জীবন নিয়ে নেয় তাহলে কি হবে?
এর চেয়ে ভালো কম মুল্যবান জিনিস ঘরে রেখে দামী বলতে স্বর্নের জিনিস ব্যাংকে রেখে দেয়া বুদ্ধিমান এর কাজ। নানা তাই করেছিলেন। সে সময় যোগাযোগ এত ভালো ছিল না। আর থানায় এমন একটা উড়ো চিঠি নিয়ে গেলে থানার বড় কর্তা হেসে উড়িয়ে দিবেন।সাহায্যের বদলে হাসি তামাশা করবে।
ডাকাতদল ঠিকই এসেছিল। আমাদের সাদাকালো টিভি আর কিছু টাকা পয়সা নিয়ে গেছিল।নানাকে শাসিয়ে কিছু চড় থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। পরে ফাঁস হয়েছিল আমার এক পরিচিত আত্মীয় এই ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।
এই চোর, ডাকাত সম্প্রদায়ের মান ইজ্জত ধুলায় লুটিয়ে দিল যখন জাতির পিতা বললেন " আমার কম্বলখানি কোথায়? "
এরা ভেরি ভেরি হাই অফিসিয়াল সম্প্রদায়! তারা বিলেত থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসে। নামের আগে পিছে বহু কিছু বহন করে। ফটফট ইংলিশ বলে। টিভি, রেডিওতে বিশেষ দিনে বিশেষ অতিথি হয়ে আসে।
এদেরকে আরও এক ধাপ উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করে দিতে রাইফেল জিয়া এগিয়ে এলেন। জাতির পিতা স্ব পরিবারে নিহত হওয়ার পরে।
রাইফেল জিয়া শুধু চোর ডাকাত দলে নেননি নিয়েছেন কালেমা চোর, নারী লোভী, ধর্ষণ, হত্যার মতন ভয়ানক অপরাধের সাথে জড়িত তাদের। যারা এ দেশ এর চেনা গাদ্দার!
এর পর আর এ সম্প্রদায়ের পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সগৌরবে এগিয়ে গেছে। মুখের লোম বড় করে মাথায় টুপি লাগিয়ে। ধর্মের নামে অধর্ম বিলিয়ে।
এরশাদ আসল।সে অবশ্য এদের কাউরে তেমন গুতাগুতি করেন নি।উনি গুতাগুতি করেছেন জিনাত মোশাররফ আরও অন্য জায়গায়। যাক মৃত ব্যাক্তি নিয়া বেশী কিছু বলা ঠিক না।
এর পর আফোঁস হীন একজন এলেন এরশাদ পতনের পর। তিনি তাঁর স্বামীর সহচরীদের বুকে টেনে নিলেন থুক্কু ভুল হইয়া গেছে মানে দলে টেনে নিলেন।
এই টানাটানি তে তাঁর ছেলে ততদিনে তাগরা জওয়ান হয়ে গেছে। তিনি হাওয়ায় থেকে হাওয়া হয়ে যোগ দিলেন।
জাতিকে বিদ্যুৎ এর বদলে খাম্বা উপহার দিলেন। ২১ এ আগস্ট এর মতন ঘটনা উপহার দিলেন। বাংলা ভাই, ফাকিস্থানি ভাই জন্ম নিল।
জাতি আবেগে কাইন্দা ফেলাইল। সে কান্না লুকাতে কেয়া, নিশো আরও অনেকে সেই পুত্রের ডাইনে বামে লেগে রইলেন। তারা অনেক উদার ছিলেন যে কোন সময় নিজেদের সঁপে দিয়ে নানান উপাধি নিয়ে নিলেন!
এরা গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে হাতিকে জিন্স পড়ানোর চেষ্টা করেছেন মাত্র!
এরপর দিন গড়িয়ে নতুন ভোর জাতির পিতার কন্যার কাছে এলো। এদিকে সেই অফিসিয়াল চোর ডাকাতদের কেউ কেউ লেবাস খুলে মুজিব কোট গতরে তুলে নিলেন।
কয়েকজন কে অবশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খোঁয়ারে ভরেছেন আর ধর্মের নামে অধর্ম প্রচার কারী নেতাদের ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
এভাবেই চলছে দেশ। একদিকে হাই অফিসিয়াল চোর ডাকাত!অপর দিকে ধর্মের লেবাস।একটা জগাখিচুরি তে ঠাসা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেন দয়া করে।
নইলে আমরা হয়তো কোনদিন আর বলতে পারব না
" অতঃপর দেশে শান্তি ফেরত আসিল ! "
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


