
আজ রাত আনুমানিক নয় টার দিকে একখান আকাম করে ফেলেছি যার খেসারত রাতভর দিচ্ছি বা দিয়ে চলেছি।
কি ভাবছেন?
না, ভাই আপনি যাহা ভাবছেন তা নহে। শান্ত হোন বলছি।
একটা পাত্রে দুধ নিয়ে সেইটাকে হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভালো করে বিট করে ফেনা তুলে ফেললাম একদম ফোম আর কি। তারপর এক কাপ গরম পানিতে কফি ছেড়ে ভালো করে গরম করার পর একটা কাপে ঢেলে উপরে দিলাম সেই ফোম হয়ে গেলো " ক্যাপুচিনো "! আমার খুব প্রিয় কফি।
এর প্রভাব শুরু হলো। রাত বেড়ে চলছে ঘুম আসে না। বারান্দায় পায়চারি করছি ক্লান্ত হচ্ছি না। দুই সেট পুশআপ মারলাম গুনে গুনে পঞ্চাশ টা। কাজ হলো না। উল্টো পানি পিপাসা লাগল এই যা ! কি করা যায় ভাবছি।
অবশেষে একটা মুভি দেখলাম " Miss you already " ড্রিউ ভেরি মুর এর চার্লিস এঞ্জেলস যে করেছিল। আমার ফেভারিট! দেখতে পারেন তবে একলা।সেক্সুয়েল কন্টেন্ট আছে। ঘটনা টা দুই বান্ধবীকে ঘিরে। তাদের সুখ দুখ নিয়ে। একজনের ক্যান্সার হয় ফলে তার স্তন কেটে ফেলতে হয়। যার কারণে স্বামীর সেক্সুয়েল টান কমে যায়। অপর দিকে ঐ বান্ধবী বাচ্চার জন্য ট্রাই করে কিন্তু বাচ্চা হচ্ছে না। শেষমেশ বাচ্চা কনসিভ হয়। একদিকে একজন খুশী নতুন একজন আসবে বলে আরেক জন অসুখী জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে। দেখতে পারেন।
মুভি শেষ হলো চোখ জ্বলছে মাগার ঘুম আসে না। কি করা যায় মেজাজ গরম হচ্ছে বুঝতে পারছি। পুরো ছবিটা ইংল্যান্ডে বানানো। সেখানে দেখলাম কোথাও লিখা আছে " Before i die.... " সেখানে নানা জন নানা ম্যাসেজ লিখে রেখেছে। তারা দুই বান্ধবী ও তাদের ম্যাসেজ লিখল। কি লিখল তা ছবি দেখে জানুন! মেজাজ চ্যাতা। দুঃখিত!
তখন ভাবলাম, আমার যদি মেলা টাকা থাকত তাইলে দেশে এমন একটা বিলবোর্ড বানিয়ে দিতাম অবশ্য ডিজিটাল।
সেখানে কে কে মৃত্যুর আগে কি করতে চান বা করার ইচ্ছে পোষণ করছে এরকম ম্যাসেজ লিখে রাখার ব্যবস্থা করে দিতাম। বিনে পয়সায়।
প্রতি সপ্তাহে বাছাই করে একজন কে তার ইচ্ছে পুরণ করার চেষ্টা করা হবে। তবে শর্ত দেয়া থাকবে রাষ্ট্র বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, ক্ষতিকর ইচ্ছে করা যাবে না। ( Before i die....)
আমার ইচ্ছে " পরিপূর্ণ আল্লাহর প্রতি আস্থা রেখে যেন মরতে পারি " আপনার?
সে যাই হোক এক কাপ কফি এত কিছু করে দিল তার ইতিহাস জানতে পারলাম এমন।
কফির জন্ম খালেদি নামের মুসলিম এক মেষপালকের হাত ধরে। আরব-ইথিওপিয়ান এই রাখালের মেষ ছাগলগুলো ক্লান্ত হয়ে যেত। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল, মেষ-ছাগলগুলোর ক্লান্তিভাব দূর হয়ে গেছে। উদ্যমতা ও চঞ্চলতায় ভরে ওঠেছে শরীর-মন।
খালেদি এর কারণ অনুসন্ধান করতে শুরু করলেন। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে লক্ষ্য করলেন, চেরি ফলের মতো কি যেন খাচ্ছে মেষ ছাগলগুলো।
ধর্মপ্রাণ খালেদি গাছ থেকে কয়েকটি ফল নিয়ে নিলেন। এরপর দ্রুত হাজির হলেন স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে।
ফলগুলো কাঁচা খেতে পারা সম্ভব হবে না ভেবে, ইমাম পাশে রাখা জ্বলন্ত আগুণে ফলগুলো ফেলে দেখলেন। প্রথমে ফলগুলোকে ‘শয়তানের প্রলোভন’ মনে হয়েছিল তার। কিন্তু কিছুক্ষণের ভেতর তার ধারণা পরিবর্তন হয়। আসতে থাকে বিমল সুঘ্রাণ। মুগ্ধ হতে থাকে হৃদয়-প্রাণ।
ইমামের শিষ্যরা ফলগুলো সিদ্ধ করে খেতে চাইলেন। তাই তারা সেই বীজগুলো একটি কড়াইতে রাখলেন এবং গরম পানি দিয়ে সিদ্ধ করলেন। এভাবেই পৃথিবীর প্রথম পানীয়-কফি তৈরি হয়।
ইমাম ও তার শিষ্যরা এই আবিষ্কারে খুব খুশি ও আনন্দিত হন। পানীয়টির প্রভাবে তারা দীর্ঘ রাত জেগে অধ্যাবসায় চালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। ইবাদত-বন্দেগি ও প্রার্থনার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী উপাদানের ব্যবস্থা হয় তাদের। ক্রমে এই পানীয়ের কথা বিভিন্ন দিকে ছড়াতে শুরু করে। প্রাচীন ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে এভাবেই উল্লেখ রয়েছে। (দ্য হিস্টোরি অব কফি, http://www.ncausa.org; ২০১৮/৪/৩ সম্পাদিত)
এখনো ঘুম নেই দুই চোখে। চোখ জ্বলছে। চোখ বুজে গান শুনছি,
" যা কিছু হারায়ে গেল, যাক না
নীল আকাশে মেলো পাখনা।।
দাও রে দাও রে মেলে পাখনা।
ময়না গো
ও মোর ময়না গো
কার কারনে তুমি একেলা?
কার বিহনে
বিহনে দিবানিশি যে উতলা?
সে তো আসবে না
সে তো ফিরবে না
ফিরবে না
ও মোর ময়না গো। "
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২১ সকাল ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


