somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি যে চোখের বালি ... কি করে রীধি কে বলি...

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চৌধুরী ভিলার সামনে গাড়ীটা থামাতে বলল মা.. গাড়ী থামতে দেখে এক ভদ্রলোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসলেন ... মা আর বাবা গাড়ী থেকে নেমে কূশল বিনিময় করলেন .. মা আমাকে আর দুষ্টু কে নামতে বললো.. গাড়ী থেকে নামার সময় আমার শরীরের বাম পাশ টা কেমন কেপে উঠল ... কি হতে চলেছে কিছুই মাথায় আসছে না কিন্তু কৌতুহল টা বেড়েই চলেছে .. আমেরিকা থেকে আসার পর থেকেই মা বলে যাচ্ছে কি যেন সারপ্রাইজ দেবে ... কিন্তু সেটা কি ....
যাইহোক বাড়ীর ভেতরে ঢুকে কৌতুহল টা উবে গেলো বিয়ের দাওয়াত খেতে এসেছি ভেবে .... কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে মা আর দুষ্টুর নাটক করার কি ছিলো আল্লাহ জানে .. ..
হঠাৎ একটা মেয়ে শাড়ী পড়ে বাঙ্গালী সাজে শরবত-মিষ্টি নিয়ে ঘরে ঢুকলো .. প্রথমে মা আর বাবাকে পা ছুয়ে সালাম করলো .. তারপর আমাদের দিকে মিষ্টির প্লেট বাড়িয়ে দিলো....
রীধির হাত থেকে প্লেট টা নেওয়ার সময় খেয়াল করলাম ওর হাতটা কাপছে.... আমার আর কিছু বুঝতে বাকী ছিল না কি হতে চলেছে..এইবার আমার একটু একটু বেশ রাগ উঠতে শুরু করলো .. মা এইটা কি পাগলামী শুরু করছে .. এই সব এর মানে কি ....
কিছু বুঝে উঠার আগেই রীধির সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো ... আমাকে না জানিয়ে মা আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছিলো তাই কবুল বলা ছাড়া আর কোন কিছু বলে প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারলাম না....
চলে আসার সময় রীধি খুব কান্নাকাটি করছে কিন্তু আমার কোনও ফিলিংস ই নেই.... একটু আগে আমার সামনে যা হয়েছে আমি যেন মনে করতে পারছি না , মনে করতে চাইছিও না....

বাসায় এসে মনে হলো দুষ্টু যেন রীধির মন ভাল করার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে.. এই দেখে আমার রাগ আরও বেড়ে গেল ... মা না বলুক তুই তো বলতে পারতি... নিজ ঘরের বারান্দায় এসে দাড়িয়ে নিজেকে একা একা লাগছে..

সমস্ত বাড়ী ঘুরিয়ে দুষ্টু রীধিকে সামায়নের ঘরে নিয়ে এসে বলল, এইটা হচ্ছে ভাইয়ার ঘর মানে আজ থেকে তোমারও ... রীধি কিছু বলছিল না শুধু শুনছিল আর অবাক হচ্ছিলো কি সুন্দর গুছিয়ে কথা বলে মেয়েটা ..বারান্দা থেকে দুষ্টুর কথা শুনে আর রীধি ঘরে এসেছে জেনে মাথায় রক্ত উঠে গেলো...মা আঘাত পাবে ভেবে না পারছি কিছু বলতে না পারছি কিছু সইতে....
ভাবী তোমাকে গোমরা মুখে কিন্তু একটুক ও মানেচ্ছে না ... সেই কখন থেকে শুধু আমিই বকবক করে যাচ্ছি আর তুমি শুধু হু-হা করে যাচ্ছো .. মেয়েরা কি সারাজীবন বাপের বাড়ি থাকে নাকি ... এইবার রীধি একটু মুচকি হাসলো ... ভাবী তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও আমি আসছি ...
একা একা ঘরে একটু একটু বেশ অসস্থি লাগছে রীধির...সে ঘুরতে ঘুরতে ঘরটা ভাল করে দেখতে লাগল ... হাটতে হাটতে বারান্দায় এসে ভূত দেখার মতো ভয় পেলো সামায়ন কে দেখে .... মা আর দুষ্টুর উপর যা রাগ ছিলো তা পুরোটা চোখে-মুখে নিয়ে রীধির দিকে তাকালাম ... রীধি এইবার সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেলো ... মাথা কিছুটা নিচু করে চলে আসতে লাগলো.....
এইবার মুখ খুললাম আমি , রাগে ফোপাতে ফোপাতে বললাম তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে ...
~ জী---জী-বলেন
- তোমার সাথে যে আমার বিয়ে তুমি কি জানতে না ?
~ জী জানতাম
- তোমার কি একবারও জানতে ইচ্ছা হয় নি কার সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে , সে কেমন, তার রুচি কেমন ... এ যুগের মেয়ে হয়ে তুমি কি করে অপরিচিত এক লোকের গলায় ঝুলে পরলে....
~ রীধি কি বলবে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে চুপ করে রইলো, মাথাটা যেন আরও এক ধাপ নিচু করলো...
আমি এইবার একটু চেচিয়ে বললাম, কি ব্যাপার চুপ করে আছো কেন, আমি তোমার কাছে কিছু জানতে চাইছি....একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো একজন ভিন্ন রুচির মেয়ের সাথে ঘর করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ...আমি আমেরিকা থেকে এসেছি কিছু দিনের জন্য আবার চলেও যাবো..এই অল্প সময়ের জন্য আমি চাইনা মা-বাবাকে কষ্ট দিতে তাই কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই তোমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি.....কখনো স্ত্রীর অধিকার নিয়ে আমার সামনে দাড়াবে না ...
~ রীধির রক্ত চলাচল যেন বন্ধ হয়ে গেলো সামায়নের ব্যবহারে ... এই প্রথম রীধি সামায়নের দিকে ভাল করে তাকালো আর খেয়াল করল ওর ফরসা গাল টা লাল হয়ে আছে যেন টোকা দিলেই রক্ত ঝরবে ... সামায়নের জন্য রীধির অন্যরকম মায়া লাগলো .... নিজেকেই নিজের শত্রু মনে হতে লাগলো রীধির .....
- ভেতরে যাও এখন আমাকে একটু একা থাকতে দাও ..... সবাই তো এখন আমাকে ভুলেই গেছে , তোমাকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে....
খাবার টেবিলে আমি স্বাভাবিক ভাবেই খেয়ে উঠলেও, রীধির গলা দিয়ে যে খাবার নামছে না ঠিক টের পেলাম তবুও ও স্বাভাবিক ভাবে খাওয়ার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে.....
সামায়নের ঘরে ঢুকতে গিয়ে রীধির পা কাপছে তবুও শব্দ করে ঢুকল ... রীধি দুরের সোফাটার উপর বসলো আর মনে মনে বললো, হে আল্লাহ এ কোন বিপদে ফেললে .... কোন পাপের সাজা দিচ্ছো আমায়...
রাত এগারোটা বাজতেই সামায়ন ঘুমিয়ে পরলো .... রীধি যে একা বসে আছে ওর কোনো খেয়ালই নেই
রীধি এই প্রথম অনুভব করতে লাগলো তার জীবনটা আর স্বাধীন নেই ... রাত যত বাড়ছে তত বেশি বেশি বাড়ীর কথা মনে হচ্ছে আর ছটফট লাগছে .... এইসব চাপা কষ্ট নিয়ে রীধিও একসময় ঘুমিয়ে পড়লো...

সকালে ঘুম থেকে উঠে রীধি কে সোফার উপর ঘুমাতে দেখে মায়া লেগে গেলো ...মা'র উপর রাগ করে ওর উপর এই ব্যবহার করাটা একদমই ঠিক হয়নি ....ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মায়াটা যেন বেড়ে যাচ্ছে ...হঠাৎ সূর্যের আলোটা ওর মুখের উপর পড়াতে ওর ঘুম ভেঙ্গে গেলো ... আমি দেখে ঘুমের ভান করতে গিয়ে ঘুমিয়েই পড়লাম...
ঘুম ভাংলো রীধির কাপা গলা শুনে, জী-শুনছেন, মা আপনাকে চা দিতে বলল .
রীধির ভীত মুখখানা দেখে খুব খারাপ লাগছে ... চোখের ইশারায় কাপটা রাখতে বললাম আর গতরাতের ব্যবহারের জন্য নিজেকে গালি দিতে লাগলাম ... না ওর কাছে ক্ষমা চাইতেই হবে.... কিন্তু কিভাবে সেই মুখ কি আমার আছে....আমি যে এখন ওর চোখের বালি...

(চলবে..)

[ পরের পর্ব: ""বাড়িয়ে দাও তোমার হাত , আমি এবার তোমার আঙ্গুল ধরতে চাই""]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×