ঘরের বাইরে ছোট বাচ্চারা যখন কোন ভুল করে ফেলে, তার দায় তখন পিতা-মাতাকেই নিতে হয়। যেমন ধরেন, খেলতে গিয়ে কারো জানালার কাচ ভেঙ্গে ফেলা, পাড়ার কারোর সাথে মারপিট করা, স্কুল ফাকি দেয়া, স্কুলের পড়া না পারা, কিংবা লুকিয়ে কোথাও সিগারেট খাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলাতে বাবা-মাকেই আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে বিচার দেয়া হয়। এসব ভুলের ক্ষেত্রে বাচ্চার হয়তো কিছুই হয় না, কিন্তু হেনস্থা হতে হয় বাবা-মায়ের!
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতিতে শুষিল সমাজের প্রতিনিধিদের কথা শোনে আমার কাছে মনে হচ্ছে, বিএনপি একটা শিশু দল, আর তারা যে অপরাধই করুক না কেন, সবকিছুর দায় নিতে হবে আওয়ামিলীগকে। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে তাদের আদর করে নির্বাচনে আনা লাগবে, বিএনপি যদি মানুষ হত্যা করে, তাহলে তাদের চুমা দিয়ে কথা বলতে হবে, বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে, তাহলে তাদেরকে কিছু বলাও যাবে না... কি অদ্ভুত তাদের যুক্তি!
পৃথিবীতে মনে হয় বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা কোন ধরনের সংগ্রাম বা আন্দোলন ছাড়াই ক্ষমতায় গিয়েছে। আবার তারাই হয়তো একমাত্র দল, যারা কোন ধরনের যোগ্যতা ছাড়াই একটা দেশের ক্ষমতায় বসে থাকতে পেরেছে। তাদের জম্মই হয়েছে রক্ত, হত্যা আর বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে। আর যাদের জম্মই এত নিকৃষ্ট, তাদের কাছ থেকে সভ্য রাজনীতি আশা করা যায় না।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযুদ্ধা। আমার ক্ষুদ্র মাথায় ঢুকে না, একজন মুক্তিযুদ্ধা হয়ে তিনি কিভাবে অন্য সকল মুক্তিযুদ্ধা ও শহীদদের সাথে বেইমানী করে রাজাকারদের এই স্বাধীন দেশে পুনর্বাসন করলেন? তার বিবেক কি একটুও কাপে নি? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে তিনি তাদেরকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত বানিয়েছেন... কেন? অনেকেই ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জিয়া জড়িত না, অনুগ্রহ করে তারা এই প্রশ্নটার উত্তর দিয়ে দিবেন।
যায় হোক, এবার বর্তমানে ফিরে আসি। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সন্ত্রাসবাদ চলছে, তা দেখে কোন সভ্য মানুষের পক্ষে চুপ থাকা সম্ভব না। আমার জানামতে আওয়ামিলীগসহ অন্যান্য দল ও ব্যাবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করে যাচ্ছে, কিন্তু বিএনপি ও জামাতকে কখনো এর প্রতিবাদ করতে দেখছেন? আর বিএনপি প্রত্যেকবার দাবি করে, তাদের সাথে সংলাম করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। অথচ আমার প্রশ্ন, তাদের দাবি অনুসারে তো তারা নাশকতার সাথে জড়িত না, তাহলে কেন বিএনপির সাথে সংলাপে বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে? আবার কিছুদিন আগে নিরাপত্তাবাহিনী যখন বলল, পেট্রোল বোমাবাজদের দেখা মাত্রই গুলি করা হবে, তখন বিএনপি এর জোর প্রতিবাদ করেছিল। ব্যাপারটা অনেকটা সেই গল্প, “ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই না”টাইপের হয়ে গেল না?
সবশেষে কিছু কথা, সরকারের কাছে একটাই দাবি, হয় নাশকতাকারীদের কঠোর হাতে দমন করেন, নতুবা নাশকতাকারীদের সাথে সংলাপে বসেন। আর আমি মন থেকে কখনোই চাই না যে এই নাশকতাকারী দলটা বিএনপি হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





