somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার নিস্তব্ধ ভালবাসা দিবস

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় এক ঘন্টা ধরে বসে আছি, অথচ নিশুর দেখা নাই। বিরক্ত লাগতেছে। অবশ্য নিশুরই বা কি দোষ, নির্দিষ্ট সময়ের আধঘন্টা আগেই আমি পৌছে গেছি এখানে। ভেবেছিলাম জ্যামের কারনে রাস্তায় আটকিয়ে থাকতে হবে, কিন্তু কিসের কি! ফাকা রাস্তায় খুব দ্রুতই চলে আসলাম টিএসসিতে, আর প্রথম বারের মত অপেক্ষা করছি নিশুর জন্যে। ওর পৌছতে হয়তো আর মিনিট দশেক লাগবে। ও পৌছার পর কি করব বুঝতে পারছি না। সবসময় তো আমাকেই বকাবকি করে, এবার কি আমি একটু বকাবকি করব? নাহ, বেচারির মন খারাপ করিয়ে লাভ নেই।

টিএসসিতে আজ কপোত-কপোতির মেলা। অবশ্য সবসময় মেলা বসে, তবে আজ ভীড় অনেক বেশী। প্রত্যেকেই এসেছে প্রিয় মানুষটির সাথে কিছুক্ষন সময় কাটাতে এই বিশেষ দিনে ! আমার কাছে ব্যাপারটা ক্যামন অদ্ভুত লাগে, ভালবাসাবাসির জন্যে আবার কোন দিবস লাগে নাকি? কাল রাতে যদিও ফোনে নিশু আমাকে অনেক বুঝিয়েছে এই ভ্যালেন্টাইন নিয়ে, কিন্তু বেচারিকে হতাশ করেছি আমি। একরাশ হতাশা নিয়েই আজ টিএসসিতে দেখা করার প্রমিস করিয়ে তারপর ঘুমিয়েছিল ও। ভয়ে আছি, আজ আমার সামনা সামনি নাকি আবার বুঝানো শুরু করে! নিশুর এই মাস্টারিমার্কা স্বভাবটাকে খুব বেশি ভয় পাই আমি। কোন কিছু একবার বুঝানো শুরু করলে, সেটা না বুঝানোর আগ পর্যন্ত বসেই থাকবে সে। তারপর একসময় বকাবকি, আর সবশেষে চিল্লাচিল্লি। তখন না বুঝলেও বুঝছি বুঝছি বলে সমস্যার সমাধান করা লাগে! একবার তো প্রায় দুইটার দিকে ফোন করে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলে একটা ধাধার সমাধান করে দিতে। অযথা ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়ায় কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে কড়া কথা শুনাতে গিয়েই ভুল করে বসলাম আমি। এরপর সে গাল ফুলিয়ে টেনেটেনে যা বলল, তাতে আমার সারাসারাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। সে বলেছিল, ধাধার সমাধান বের করে না দিলে নাকি সে সারারাত ঘুমাবে না! অগত্যা বাধ্য হয়ে নেটে ঘাটাঘাটি ও কিছু বন্ধুরে ঘুম ভাঙ্গিয়ে ডিস্টার্ব করে প্রায় ২ঘন্টা পর ওরে ধাধাটার উত্তর দিতে পেরেছিলাম!

নাহ, আর ওয়েট করা যায় না। ওর আসার সময় অনেক্ষন পার হয়ে গেছে। এবার একটা কল দেয়া দরকার। মোবাইলটা হাতে নিয়ে নিশুর নাম্বারে কল দিলাম। ওপাশে রিং হওয়া মাত্রই চমকে উঠলাম, আওয়াজটা আসছে ঠিক আমার পেছন দিক থেকে। পেছনে ফিরেই দেখি নিশু দাড়িয়ে আছে, মুখে চাপা হাসি। এতক্ষনে বুঝতে পারলাম, ইচ্ছে করেই আমাকে এতটা সময় বসিয়ে রেখেছে। মেজাজটা খারাপ হয়ে যেত, বাট ততক্ষনে ও আমার পাশে এসে বসে পড়েছে, মুখে তখনো চাপা হাসি! জিজ্ঞেস করলাম,
– এতক্ষন দেরী করলা কেন?
– ইচ্ছে করেই দেরী করেছি।
– কেন?
– অপেক্ষার কষ্টটা যেন তুমি বুঝতে পার।
– ও......
– বুঝছ?
– হুম।
– হুম বললে হবে না, বুঝছ কি না বল।
– হুম, বুঝছি তো।
– কি বুঝছ?
এইতো, বিপদ শুরু। এখন যদি থামানো না যায় তাহলে একটার পর একটা প্রশ্ন চলতেই থাকবে। ইশ, একটা গোলাপ ফুল নিয়ে এলে ভাল হত। এখন যদি ওর হাতে ফুলটা দিতে পারতাম, তাহলে হয়তো অন্য প্রসঙ্গে চলে যেত। কিন্তু ফুল তো আনি নি সাথে। ইদানিং পকেটের অবস্থা মারাত্মক খারাপ যাচ্ছে, এমাসে টিউশনির টাকাটা পাই নি। বাসা থেকে যে টাকাটা পাঠায়, তা দিয়ে মেসের খরচ দেয়ার পর আর কিছু বাকি থাকে না। এসময় একটা টাকাও আমার জন্যে অনেক মূল্যবান, সেজন্যেই ইচ্ছে থাকা সত্বেও কোন ফুল কিনে আনতে পারি নি ওর জন্য। আমাকে অনেক্ষন চুপ করে বসে থাকতে দেখে এবার নিশু বলে উঠল,
– ঐ, চুপ করে আছ কেন? কি ভাব?
– কিছু না।
– এখানে কি চুপ করেই থাকবা নাকি?
– না তো!
– উহু, তুমি চুপ করেই থাক। আজ যা বলার শুধু আমিই বলব।

এবার আর না হেসে পারলাম না, হা হা করে হেসে উঠলাম। আমাকে হাসতে দেখে নিশু বলে উঠল, “এইত্তো, এতক্ষন পর আমার সোনাটার মুখে হাসি দেখতে পাচ্ছি! দাড়াও, এজন্যে তোমার একটা পুরষ্কার আছে, চোলহ বন্ধ কর তো।” জিজ্ঞেস করলাম,
– কেন?
– আররে, বন্ধ করই না...
আমি জানি, হয়তো কোন একটা গিফট নিয়ে এসেছে আমার জন্যে। অগত্যা চোখ বন্ধ করলাম। নিশু আমার হাতটা টেনে নিয়ে হাতে কিছু একটা পড়িয়ে দিচ্ছে, হয়তো ঘড়ি হবে, ব্রেসলেট হবার সম্ভাবনা কম। পড়ানো শেষ হলে নিশু চোখ খুলতে বলল। হ্যা আমার ধারনাই ঠিক, ঘড়ি ছিল এটা। কি বলব বুঝতে পারছি না, নিজেকে কেমন ছোট ছোট লাগছে। ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের প্রিয় মানুষটাকে কিছু না কিছু একটা দেয়ার চেষ্টা করে। আমার মেসের বন্ধু সবুজও গতকাল রাতে তার জিএফের জন্যে একটা রিং কিনেছিল আমাকে সাথে নিয়ে। রিংটার দাম পড়সছিল ৫,২০০ টাকা, স্বর্নের, খুব সুন্দর ছিল। আমিই সবুজকে ওটা পছন্দ করে দিয়েছিলাম। অথচ আমি নিজেই আমার প্রিয় মানুষটার জন্যে কিছু আনতে পারি নি আজ! হাতে হঠাৎ ঝাকি খেয়ে আবার বাস্তব জগতে ফিরে আসলাম, নিশু উদ্বিগ্ন মুখে আমার হাতটা ঝাকাচ্ছে আর জিজ্ঞেস করছে,
– কি হল? কেমন হল বললে না তো?
– কি কেমন?
– আরে, ঘড়িটা!
এতক্ষনে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
– ও, হ্যা... ভাল হয়েছে।
– আমি জানি, পছন্দ হয় নি।
– সত্যি, পছন্দ হয়ছে।
– ৩ সত্তি?
– হুম, তিন সত্তি।

উত্তর না দিয়ে স্থির চোখে তাকিয়ে আছে নিশু আমার দিকে। ও হয়তো বুঝতে পেরেছে আমার মনের কথা, তাই চুপ হয়ে গেছে। ওর এই চুপ করে বসে থাকাটা খারাপ লাগে আমার। কেমন যেন অস্বস্থিকর একটা মুহুর্ত। কি বলব বুঝতে পারছি না, বাট কিছু একটা করতে হবে। আস্তে করে ওর আরেকটু কাছে গিয়ে ওর গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসলাম। ওর কোলের উপর থেকে হাতটা আমার কোলের উপর নিয়ে এসে শক্ত করে ধরে থাকলাম। কেমন যেন কেপে উঠল ও। ও তখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে, চোকে একটু একটু পানি দেখা যাচ্ছে। হয়তো এখনই টপটপ করে কেদে ফেলব। ওর দিক থেকে চোখটা সরিয়ে নিলাম আমি, অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। কেমন যেন একটা অনুভুতি হচ্ছে আমার, সুখের অনুভুতি! মাঝে মাঝে প্রিয় মানুষটার সাথে চুপ করে বসে থাকাটার মাঝেও যে এত সুখ আছে, এই প্রথম বুঝলাম......
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×