১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সশয় ডঃ শামসুজ্জোহা স্যার ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। ছাত্ররা আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন করতে মিছিল নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে জড়ো হয়। পাক বাহিনী ছাত্রদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে বলে। ছাত্ররা রাজি না হলে ক্যাপ্টেন হাদী গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। শামসুজ্জোহা স্যার ছাত্রদের রক্ষা করতে বুলেটের সামনে নিজের বুক পেতে দেন এবং শহীদ হন। প্রেক্ষাপট ২০১৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সিট না পেয়ে হলের বারান্দায় রাত্রিযাপনের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর মোল্লা নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এবার দেখুন এসএম হলের প্রাধ্যাক্ষ গোলাম মোহাম্মদ ভুঁইয়ার বয়ান। ‘ হাফিজুরের বারান্দায় থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নিউমোনিয়া বারান্দায় থাকলেও হতে পারে, রুমে থাকলেও হতে পারে। আর বারান্দায় তো অনেকেই থাকে। তাদের তো কিছু হয়নি। হতে পারে সে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি চলে গেছে এবং সেখানে মারা গেছে।’ কতটা নির্মম মানসিকতার মানুষ হলে এভাবে একটি অকাল মৃত্যু সম্পর্কে অকপটে বলা যায়! শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে..হায়রে মর্যাদা! মর্যাদা কি আকাশ থেকে আসে এরকম শিক্ষকদের আর যাই হোক মর্যাদার আসনে কেউ কোনদিন বসাবেনা। স্বর্গে গিয়ে হাফিজুরের সাথে ডঃ শামসুজ্জোহা স্যারের সাথে দেখা হলে হাফিজুর অকপটে বলবে স্যার ‘আপনাদের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি ছিল, আর এখন সেখানে নির্মম কসাইয়ের প্রাধান্য!’
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



