সেই মায়েদের কথা,আর
তাদের সন্তান-মনে পড়ে?
সমাজ ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতায়
বিচ্ছিন্ন হয়েছিল যারা-একে অপরের নিকট
হতে।
কত শত সহস্র এমন মা আছেন আমাদের
দেশে?
(তাদের কেউ চলে গিয়েছে
ভারতে,চিরতরে)
কত সহস্র সন্তান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে
এই পৃথিবীর বুকে!
পিতার স্নেহভরা কন্ঠে তিনি বলেছিলেন-
"ওদের পিতার স্থানে
তোমরা লিখে দিও আমার নাম"
-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।
তবুও আমাদের এই সমাজ
পিছিয়ে থাকা এই সমাজ
গ্রহণ করতে পারেনি তাদের।
শোকে-দুঃখে
কত মা চলে গিয়েছেন পৃথিবীর মায়া
ছেড়ে
কত মা আজও চোখের জল ফেলে
নীরবে;নিঃশব্দে।
ইতিহাসের আঁধার কেটে
বেরিয়ে আসে সেই নারীদের কথা
নির্মম ধর্ষণের শিকার হয়েছিল যারা
ক্ষেতে,খামারে,পাকিস্থানীদের সেনা
ক্যাম্পে,
কী পৈশাচিক উল্লাস ছিল
ওই নরকের দানবদের,
কী বিকৃত লালসায় হামলে পড়তো ওরা
বাঙালি নারীদের উপর।
স্বাধীনতার লাল সূর্যে আলোকিত বাংলার
নব ভোরে
অনাকাংখিত গর্ভ সাথে নিয়ে
মা আমার ঘুরে দ্বারে,দ্বারে।
কেউ বা চুপিসারে
গর্ভপাত করিয়েছে-লোক লজ্জার ভয়ে(?)।
হায় বাংলা,
মা আমার
পারোনিকো দূর করতে সমাজের আঁধার
স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যে।
আজও আছো কী মাতা
এই সবুজ শ্যামল বাংলার নীরব কোন কোণে
ফেলছো কী চোখের জল-নিঃশব্দে।
কেন এ নীরবতা?-কিসের লজ্জা?
এসো বেরিয়ে,আঁধার কোণ হতে
আর দূরকন্ঠে বল-আমি মা
আমি বীরঙ্গনা
আমি মুক্তিযোদ্ধা।
আমার সন্তান,যাকে পারিনি ধরে রাখতে
তাকে ফিরিয়ে দাও
তাকে ফিরিয়ে দাও
আমার আঁচলে।
আমি চুমু দিতে চাই,আমার খোকন সোনার
কপালে।
১৬/১২/২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




