somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেদাইন (ছোট গল্প)

০৬ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট্ট লাল বোতামের উপর আঙ্গুল দিয়ে রেখেছে রোহান। কিছুক্ষণ পরই ওর দেহটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।বাহিরে প্রচণ্ড বিস্ফোরনের শব্দ।সে জানে কমাণ্ডোরা এগিয়ে আসছে।বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে ওর নাকে এসে লাগে মানুষের রক্তের ঘ্রাণ।গতরাতে পাশের ঘরে ওরা একে একে বিশজনকে জবাই করেছে।যে মেয়েটির নাভী দেখা যাচ্ছিল তার নাভীতে ও নিজে প্রথমে চাপাতি চালায়।পরে জবাই করে।রোহান একা একাই হেসে উঠে-একদিন সে আরশোলা দেখেও ভয় পেতো।আজ ভয় কি জিনিস ও টের পায়না।এটি ভুল কি সঠিক ও জানেনা।শুধু জানে এই হত্যাকাণ্ড ওর ঈমানী দায়িত্ব।আর এটিই ওকে বেহেস্তের পথে নিয়ে যাবে।ওর সামনে ওর ট্যাব খোলা পড়ে আছে।নেট কানেকশান নেই।কিছুক্ষণ আগেও নেট কানেকশান ছিল।রোহান ওর ফেসবুক আইডিতে ডুকেছিল।নিউজ ফিডে ঢুকে ও অবাক হয়েছিল।ওদের কর্মকাণ্ডকে সবাই প্রচণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।ওর এসব ভাল লাগেনা।ও আবার দলের নেতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।সর্বশেষ আপডেট জানায়।ওদের উপর নির্দেশ আসে ধরা না দিতে।ওদের প্ল্যানিং এ এটা ছিলনা।ছিল বিদেশীদের হত্যা করে দ্রুত সটকে পড়বে।কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় পুলিশী তৎপরতায়।

-রোহান শোনা ,সকাল হয়েছে ঘুম থেকে উঠে পড়।চল নামাজ পড়তে যাই।রোহানের দাদা ভোরে রোহানকে ডাকে।রোহান ঝটপট উঠে পড়ে।রেডি হয়ে দাদার সাথে নামাজ পড়তে যায়।গ্রামের বাড়িতে আসলেই রোহান দাদার সাথে ফজরের নামাজ পড়ে।নামাজ পড়ে এসে কোরান শরীফ পড়ে সুর করে।সবাই কত ভাল বলে।বলে এই বংশে এমন পরহেজগার আর কেউ আসেনি।রোহান ওতসব বুঝেনা।ওর কোন বন্ধু-বান্ধব নেই।মা আর বাবা সারাদিন কাউকে কাছে পায়না।ওর ভীষণ একা একা লাগে।তাই নামাজ পড়ে,কোরান পড়ে।পরকালের চিন্তায় ডুবে থাকে।একদিন ও মাকে এসে বললো-মা,চাঁদা দাও।কোরান শরীফ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবো।সেদিন মা খুব ব্যাস্ত ছিল।শুধু প্রশ্ন করেছিল কতটাকা।টাকা দেবার সময় জানতে চেয়েছিল,কোন সংগঠন।রোহান বলেছিল-ফুলকুঁড়ি।রোহানের মা থমকে গিয়েছিল।বলেছিল-তোর বাবা যেন না জানে।জানলে মেরেই ফেলবে।রোহান জানতে চেয়েছিল –কেন?মা উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে যায়।

রাতে যখন শেষ জাপানীকে নিয়ে যায় ওই ঘরে জবাই করার জন্য।রোহান দেখে সারা ঘরে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে।চাপ চাপ রক্ত।কালচে লাল হয়ে আছে।রোহানের গত কোরবানীর কথা মনে পড়ে।গত বছর ওর আব্বা চার লাখ টাকায় দুটি গরু কিনেছিল।ওর বাবা বড় রাজনীতিবিদ।অগাধ সম্পদের মালিক।কোরবানীর পর রোহান এবং ওর ফুফাতো ভাই বোনেরা রক্ত নিয়ে খেলেছিল। আজ এত রক্ত দেখে ওর কোরবানীর কথা মনে পড়ে।

শেষ রাতের দিকে গুলির শব্দ একটু কমলে ওর ঝিমুনি এসে যায়।স্বপ্নও দেখে।স্বপ্নে ও চলে যায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে।যেখানে ওদের ভারী অস্ত্রের ট্রেনিং হয়েছিল।যেদিন ও বাড়ি ছেড়েছিল, সেদিন বাড়িতে কেউ ছিলনা।আব্বাকে একটি মেসেজ লেখে-আমি নেট ওয়ার্কের বাহিরে চলে যাচ্ছি।এরপর মোবাইল বন্ধ করে বাড়ি হতে বেরিয়ে পড়ে।ওদের ট্রেনিং করিয়েছিল একজন পাকিস্থানী।উনি অত্যধিক ধার্মিক আর সজ্জন ছিলেন।উনিই রোহানকে বোমা বানানো থেকে একে সাতচল্লিশ সবকিছু চালানো শিখিয়েছেন।অবশ্য চাপাতি চালানো শিক্ষার জন্য বাহিরে যেতে হয়নি ।ঢাকাতেই প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

কোরান শরীফ প্রতিযোগীতার পর ওর কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয়।ওরা ওর সাথে সব সময় দ্বীনের আলোচনাই করতো।উনাদের মাধ্যমে আরও কয়েকজনের সাথে আলাপ হয়।দ্বিতীয় গ্রুপটি মুসলিম উম্মাহর বিপদ সম্পর্কে বলতো।বলতো কিভাবে পশ্চিমারা মুসলিমদের উপর অত্যাচার করছে।রোহানের রক্ত টগবগ করে ফুটতো।মুসলিমদের উপর এই অত্যাচারে ওর মন বিদ্রোহী হয়ে উঠতো।এরপর একদিন আরও কয়েকজন যোগ দেয় ওদের এই আলোচনায়।তারা রোহানকে বলে-এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একটিই পথ আছে আর সেটি হলো জিহাদ।রোহান প্রস্তুত কিনা জিহাদে যেতে।আল্লাহর পথে যেতে।রোহান প্রস্তুত কিনা জীবন দিতে-নিজেকে কোরবানী দিতে।রোহানের রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে।সারারাত ঘুম আসেনা।

ভোরের দিকে গোলাগুলি বেড়ে যায়।রোহানদের গুলিও শেষ হয়ে আসছে।বাহিরে সাঁজোয়া যানের শব্দ শোনা যায়।রোহান সেজদা দেয়।তারপর লাল বাটন টিপে।

মর্গে রোহানের লাশ পড়ে থাকে বেওয়ারিশের মত।ওর বাবা-মা একজন জঙ্গীর,একজন সন্ত্রাসীর লাশ নেবে না বলে সংবাদ মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:৩৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×