somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসি যাকে (প্রথম পর্ব)

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যত দেখছে ততই মুগ্ধ হচ্ছে জয়ন্ত।ক্রাবি শহর থেকে বোটে চেপেছে ওরা।গ্রোট্টোতে দুপুরের খাওয়া সারবে।তারপর হোটেলে ফিরবে।সেমিনারে জয়ন্তর প্রেজেন্টেশান আগামীকাল।আজ মেলায় না গিয়ে তাই ঘুরতে বেরিয়েছে।
-ড. জয়ন্ত, ডিড য়্যু কাম হিয়ার আরলিয়ার?
ডা. স্টিফেন জানতে চায়।
-না। ভিভ এশিয়াতে এবারই প্রথম।
জয়ন্ত উত্তর দেয়।
-ওকে।দেন য়্যু উইল সি দ্যা রিয়েল বিউটি।একচ্যুয়েলি দ্যা রেস্ট্যুরেন্ট এস্টাবলিসমেন্ট ইজ নাথিং বাট এ লাইমস্টোন কেভ।ও ইট ইজ রিয়েলি ইন্টারেস্টিং।
স্টিভেন বলে।
-বেটায় সেমিনারে বক্তৃতা দিতে এসেছে না রেস্টুরেন্টের দালালি করতে এসেছে?
ডা.শংকর গজ গজ করতে করতে বলে।
-শংকর দা,আমি বাংলা বুঝি আর কিছুটা বলতেও পারি।
স্টিভেন বলে।
জয়ন্ত হো হো করে হেসে উঠে।শংকর রেগে অন্যদিকে তাকায়।
-শংকর দা রাগ করোনা।আমি তোমার সাথে কোলকাতায় যাবো রসগোল্লাও খাবো।
স্টিভেন হেসে বলে।

নৌকা থেকে তারা নেমে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।জম জমাট অবস্থা।ওদের জন্যে প্রিজারভেশন আগে থেকেই দেওয়া ছিল।নির্ধারিত টেবিলে গিয়ে বসে।
-জয়ন্ত দা,বাংলাদেশ পোল্ট্রি সেকটরে অনেক এগিয়ে গিয়েছে।বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে যখন সারা পৃথিবীর অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে তখনও বাংলাদেশ ছিল বেশ সাবলিল।কৃষিতে ভাল করার জন্যেই এটি সম্ভব হয়েছে।
শংকর বলে।
-আমি অনেকদিন জার্মানীতে।বাংলাদেশের খবর অতোটা বলতে পারছিনা।
জয়ন্ত বলে।
খাওয়া শেষ করে জয়ন্ত কফির অর্ডার দেয়।জয়ন্তর দৃষ্টি আটকে যায় সামনের টেবিলের এক তরুণীর উন্মুক্ত পিঠে।ফর্সা পিঠের ডান পার্শ্বে ছোট্ট লাল জরুল সাথে বব চুল।জয়ন্তর পৃথিবী থমকে যায় কিছু সময়ের জন্যে।
-ড. জয়ন্ত,আপনার কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।ড.জয়ন্ত।
স্টিফেন বেশ জোর গলায় জয়ন্তকে বলে।
-ও ঠিক আছে।আমি কফি নিচ্ছি।
জয়ন্ত কফিতে চুমুক দিতে দিতে বার বার তরুণীটিকে দেখার চেষ্টা করে।কিন্তু সম্ভব হয়না।ডা.শংকর বিষয়টা খেয়াল করে।
-আপনি কি ওকে চেনেন?
-কাকে?
জয়ন্ত জানতে চায়।
-ওই তরুণীকে?
শংকর বলে।
মেয়েদের পেছনেও বুঝি চোখ থাকে।তাই হয়তো ইলোরা গ্রীবা বাঁকিয়ে চেয়ে দেখে।জয়ন্তর চোখে চোখ পড়ে।দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয়।আপন হৃৎপিন্ডের শব্দ শুনতে পায় ইলোরা।কিছুটা সময় নেয় নিজেকে ফিরে পেতে।তারপর আবার খেতে শুরু করে।
একই বোটে উঠে জয়ন্ত আর ইলোরা।জয়ন্ত ইলোরাদের কিছুক্ষণ লক্ষ্য করে।
-কেমন আছো ইলা?
জয়ন্ত প্রশ্ন করে।
ইলোরার হৃৎস্পন্দন থেমে যেতে চায়।
-ভাল।আপনি কেমন আছেন ?অনেকদিন পর দেখা।
ইলোরা উত্তর দেয়।
-তুমি থেকে যতদিনে আপনি হওয়া যায় ঠিক ততদিন পর দেখা হলো।
জয়ন্ত বলে।
ইলোরার মুখের দিকে চায় রুপা।কিছু একটা আঁচ করে নেয়।
-আমি রুপা।ইলোরার কলিগ।পোল্ট্রি ফেয়ারে এসেছি।
রুপা জয়ন্তকে বলে।
-আমি ড. জয়ন্ত।জার্মানীতে বসবাস করি।
-আপনি কি ওপারের?
রুপা জানতে চায়।
-নারে ভাই।একদম নির্ভেজাল বাংলাদেশের লোক।ঢাকাইয়া।
জয়ন্ত বলে।
এরপর জয়ন্ত স্টিভেন আর শংকরের সাথে রুপাদের পরিচয় করিয়ে দেয়।
-আপনারা কোন হোটেলে উঠেছেন?
রুপা প্রশ্ন করে।
-সুকুমভিটে।
ডা. শংকর বলে।

সেমিনার শেষে লাঞ্চের আয়োজন।রুপা আর ইলোরা সেমিনার থেকে বেরিয়ে লাঞ্চ রুমে আসে। বুফেতে দাঁড়িয়ে রুপা জয়ন্তকে ইশারায় ডাক দেয়।জয়ন্তও হেসে ইশারা দেয় যে সে ওদের ওখানে আসতে পারছেনা।
-ডা. জয়ন্তর প্রেজেন্টেশান খুবই সুন্দর।এন্ডোটক্সিসিটি আর প্রোডাকটিভিটি কি চমৎকার ভাবে কোরিলেট করল।
রুপা বলল।
-হ্যাঁ জয়ন্ত অনেক উঁচু মাপের নিউট্রিশনিস্ট।আমি দু’বছর তার ক্লাশ পেয়েছি।
ইলোরা উত্তর দেয়।
আচমকাই রুপার মন খারাপ হয়ে যায়।সে খাবারে মনোযোগ দেয়।

রাতে হোটেলের লবিতে জয়ন্ত ইলোরাকে পেয়ে যায়।
-ইলোরা।
ইলোরা থেমে যায়।জয়ন্ত ইলোরার কাছে যায়।
-ইলা, তুমি বিয়ে করোনি কেন?
ইলোরা কোন উত্তর দেয়না।তীব্র চোখে জয়ন্তর দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে।তারপর লিফটের দিকে এগিয়ে যায়।

(চলবে)




সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য কোনও পরাশক্তি নয় /।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর ইতিহাসের পাতাই যথেষ্ট॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৫ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৩৬



মাহফুজ, তুমি বাংলাদেশের তরুণদের কাছে একজন বেঈমান। যে যে কারণে আওয়ামী লীগ ব‍্যাক করেছে বলছো প্রায় সবগুলান কারনই সত‍্য। তবে সবচাইতে বড় কারণটা মিস করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলার সংগ্রামের ২০০ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তুলনা।

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রথম ১০০ বছর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রাম মূলত বাংলাতেই হয়েছে। ১৮৩১ সালে তিতুমীরের 'বাঁশের কেল্লা' কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সকল মানুষই খোদার প্রতিনিধি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০

আল্লাহ মানুষকে প্রতিনিধি বানিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। প্রতিটি মানুষই যদি আল্লাহর 'প্রতিনিধি' হয়ে থাকে, তাহলে কাদের কাছে এই প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে? এই পৃথিবীতে প্রথম দুইজন প্রতিনিধি ছিলেন - হযরত আদম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব মাছে গু খায় দোষ হয় ঘাউড়্যা মাছের

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯


হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন। জেনারেশন জেড আর আলফার চোখে তিনি একজন সুপারহিরো। মার্ভেলের ছবিতে যেমন একজন সাধারণ মানুষ হঠাৎ পোশাক পরে আকাশে উড়তে থাকে, হাসনাতও যেন সেরকমই—ধুলোমাখা বাস্তবতার মাঝে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৬

ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার-
আজকে বাংলা ২০শে 'জ্যৈষ্ঠ' ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। আজকের দিনটি হলো বুধবার। 'জ্যৈষ্ঠ' মাসের আরেক নাম হলো মধুমাস। এই মাসে আম, জাম লিচু, কাঠাল পাওয়া যায়। ফাজ্জা আম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×