somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্রষ্টাযোগ বা সালাত পদ্ধতি

১১ ই মে, ২০১৬ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালাত পদ্ধতি:
সৎকর্ম ,ধৈর্য এবং পবিত্রতা অর্জন করার পর সালাত করবার যোগ্যতা তৈরি হয়৷কেউ এমন যোগ্যতা অর্জন করলে তার জন্য শরীয়তের সালাত আবশ্যক৷দৈনিক পাঁচবার অনুশীলনের মাধ্যমে এই অনুভুতীকে স্হায়ী রূপ দেয়ার চেষ্টা করতে হবে৷শরীয়তের সালাত নফসকে অচেতন/আম্মারা হইতে চেতন/লওয়ামাতে পরিণত করে৷কিন্তু শরীয়তের সালাত নফসকে দ্বৈতস্বত্বার দ্বিধা হতে মুক্ত করতে পারেনা ফলে তার পক্ষে সন্তুষ্ট চিত্ত/মুতমাঈন হওয়া সম্ভব হয়না৷তারপর নফসের জন্যে তরীকতের সালাত জরুরী হয়ে দাড়ায়৷কারন মুতমাঈন হবার জন্য ক্বলব জাগ্রত করা জরুরী, যার একমাত্র উপায় জিকর আর জিকর শেখার জন্য কুরআন ওয়াসিলা বা মাধ্যম ধরার নির্দেশ দিয়েছে৷পরবর্তীতে ওয়াসিলার তত্বাবধানে পর্যায়ক্রমে হাকিকত এবং মারেফতের সালাত কায়েম করতে হয়৷সাধারণ ভাবে সালাতে করণীয় সমূহ স্তর ভেদে ভিন্ন হলেও মূলত তারা একই উদ্দেশ্য বা মনোভাব বহন করে৷সালাতের মূল করণীয় সমূহের মনোভাব এবং স্তর ভিত্তিক পরিবর্তন পাশাপাশি শব্দ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি-
নিয়ত: শরীয়তে নিজের মুখমন্ডলের সামনে নিরাকারের খোদা উপস্থিত এমন অনুভব করার ইচ্ছা পোষন করতে হবে আর তরীকতে মুর্শিদের মুখমন্ডল অনুভব করার ইচ্ছা করতে হবে৷মুর্শিদ জ্ঞান দান করলে পরে রাসুলকে অনুভব করা যাবে,তখন হাকিকি সালাত কায়েম হবে৷ তারপর রাসূল যদি কবুল করেন তবে খোদার অনুভব পাওয়া যাবে তখন খোদার মুখমন্ডল অনুভব করবার ইচ্ছা করতে হবে৷
তাকবীর: নিরাকারের/মুর্শিদের /রাসূলের/খোদার মহত্ব স্পষ্ট ভাবে ঘোষনা করতে হবে৷
তাহরীমা: নিজের ইন্দ্রিয় গুলিকে বেধে নিয়ে নিরাকারের / মুর্শিদের/রাসুলের/খোদার অনুভবের সাথে একাত্ম করাতে হবে৷
তাজকির:তারপর সুরাহ পাঠ/মুখে জিকর/ক্বলবে জিকর/জাগতিক প্রতি বিন্দুতে জিকর প্রতিষ্ঠা করে খোদাকে স্মরন করতে হবে৷
রূকু: এরপর শরীয়ত সালাতে রূকু করার বিধান আছে৷ রূকু শব্দের মাধ্যমে অবনত ,আজ্ঞাবাহী হওয়া, রুজু হওয়া বুঝায়৷(শরীয়তে যারা আজ্ঞাবাহী হয়েছেন তরিকতের সালাতে তাদের নুতন করে আজ্ঞাবহ হওয়া বা রুকু করার প্রয়োজনীয়তা থাকেনা৷)
সিজদাহ: তারপর শরীয়ত সালাতে সিজদার বিধান আছে৷ সিজদাহ অর্থাত সুজুদ বা অবিচ্ছিন্ন, বস্তুত সেজদার সময় দেহের কৌনিক অবস্হান অধিকতর চৈতন্যের অনুভব বা গভীর ধ্যানের অভ্যাস তৈরী করে৷ মানসিক ভাবে সেজদার অর্থ সর্বশক্তিমানের কাছে নিজেকে সমর্পন করা৷সমর্পনকারীর সমর্পন কবুল হলে তবেই সে ওয়াসিলা পাবে৷তার আগে সে সত্য সঠিক ওয়াসিলা পাবেনা অর্থাৎ যারা সত্য ওয়াসিলা পেয়েছেন তাদের সিজদা কবুল হয়েছে৷ (তরীকতের সালাতে তাদের নুতন করে বারবার সিজদা করার প্রয়োজন নাই৷ তরিকত পর্যায় হতে সিজদাহ কেবল ক্বাবার জন্য বরাদ্দ থাকে, তরিকতে অন্তর্ভুক্ত হবার পর নিরাকারে সেজদাহ করা ক্বাবার জন্যে মানহানীকর)
তাশাহুদ: সর্বশেষে মুর্শিদের/রাসুলের/খোদার প্রশংসা বা দরুদ পাঠ করে তৌহিদে একাত্ব হওয়া এবং মুর্শিদের/রাসূলের/খোদার একক কতৃত্বের সাক্ষী প্রদান করে সালাত শেষ করতে হবে৷

বিঃদ্রঃ দাড়িয়ে, বসে, শুয়ে বা চলন্ত অবস্হায় সালাত করার নিয়ম আছে৷সালাত জামাতে করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নাই৷ সালাম বা মুনাজাত সালাতের অবশ্যকরণীয় অংশ নয় তাই বর্ণনা নিস্প্রয়োজন৷ তরিকতের স্তর হতে সালাত অবশ্যই মুর্শিদ বা গুরুর তত্বাবধানে করতে হবে৷হাকিকতের স্তর হতে সালাত ওয়াক্ত/খন্ড হওয়ার পরিবর্তে দায়েম/অখন্ড/নিরবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৬ রাত ১১:৪৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×