somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-২

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে লড়াইয়ের মধ্যে আর এক লড়াই। আর সেটা হল; পারফেকশনের। কে কার চেয়ে খাঁটি এটা প্রমাণ করাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মুখ্য। মানুষ ভুলে যাচ্ছে আপন-পর, ভুলে যাচ্ছে সামাজিক ও আদর্শিক মূল্যবোধ। একই মতাদর্শের মধ্যে থেকেও ভাগ হয়ে যাচ্ছে মানুষ, যে যার মত করে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবছে, ফলশ্রুতিতে অপরপক্ষকে ছোট ভাবতে হচ্ছে বাস্তবিক অর্থেই। আবার যাকে ছোট ভাবা হচ্ছে, সেও নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবছে, নিজেকে ভাবছে শতভাগ খাঁটি আর বাকি সবাই ছোট বা নির্মূল যোগ্য। এর ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। শুরু হয়েছে মারামারি, কাটাকাটি। জীবন্ত কবর, শিশু হত্যা ও ধর্ষণকেও এখন কেউ কেউ আর অন্যায় ভাবছে না। ভাবছে এটাই তার পাথেয়। পারফেক্ট রাস্তা। এক পক্ষ যখন এটা ভাবতে থাকে তখন অপরপক্ষও বেঁচে থাকার তাগিদেই বিকল্প খোঁজে, যদি সে কোনভাবে সেই বিকল্পটা পেয়ে যায়, তাহলে সেও প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে হয়ে ওঠে আরও নির্মম। আত্মঘাতী।
এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আজ ছোট ছোট দেশ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। মানুষ গোত্রে গোত্রে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, যারা যে এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই সেই এলাকার মালিক বলে নিজেদের দাবী করে বাকিদের বের করে দিচ্ছে, ক্ষেত্র বিশেষে সংখ্যালঘুরা হত্যা, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। যারা এটা করছে তারা সাময়িক উত্তেজনায় ভুলে যাচ্ছে তাদের মূল্যবোধের বানী।
আর তাই তো সিরিয়ার ভূমি আজ ভাগ হয়ে গেছে- যে জনগোষ্ঠী যে এলাকায় শক্তিশালী আর সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের মধ্যে। একপক্ষে আছে শিয়া-খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী যার নেতৃত্ব দিচ্ছে সিরিয়ার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আসাদ আর অপরপক্ষে আছে সুন্নি জনগোষ্ঠী, যার নেতৃত্ব আছে এখন মূলত নুসরা ফ্রন্ট ও আইএস। আবার এই নুসরা ফ্রন্ট আর আইএসের মধ্যেও আছে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মারামারি, কাড়াকাড়ি। অথচ এরা কিন্তু সবাই ভাই ভাই, মিল থাকার কথা ছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওই যে বললাম, একজন যখন নিজেকে শতভাগ খাঁটি বলবে, তখন অপরপক্ষকে এমনিতেই খুঁতযুক্ত বলে মনে হবে। আর অন্যের খুঁতকে যেখানে দেখা হয় পাপ হিসেবে, সেখানে খুনোখুনি অবধারিত! আর তাই তো নুসরা ফ্রন্ট আর আই এসের মধ্যেও মাঝে মধ্যেই লেগে যায়। এতে বিরক্ত হয়ে এদেরই মাতৃ সংগঠন- আল কায়েদা; বাধ্য হয়েই এদের সংগঠন থেকে বের করে দিয়েছিল কিছুদিন আগে। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে, হিতে বিপরীত হয়ে স্বয়ং আল কায়দা সংগঠনই আজ মধ্যপ্রাচ্যে নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখা নিয়ে হুমকির সম্মুখীন। এখানেও আছে সেই পারফেকশনের লড়াই যা এক সময় তারাও চর্চা করতো। তাদেরও আগে করেছিল ব্রাদার হুড।
এছাড়াও আছে কুর্দিরা; যারা মূলত কুর্দি ভাষাভাষী। এদেরকে কিছুটা সহনশীল মানুষ হিসেবে ভাবা হয়- যাদের বেশীর ভাগই সুন্নি মতাদর্শী, অল্প কিছু আছে শিয়া, খ্রিস্টান আর আছে নামমাত্র ইহুদী মতাদর্শী। এরা যেহেতু নিজস্ব দেশ বিহীন জাতি এবং সংখ্যালঘু তাই বাচার তাগিদেই পক্ষ নিয়েছে আসাদের এবং শত্রু হয়েছে সুন্নিদের তথা আইএসের। ফলে বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আজ পুড়ো জনগোষ্ঠী; বাইরে থেকে তৃতীয়পক্ষ কেউ তাদের না বাঁচালে এদের মৃত্যু নিশ্চিত। আর যারা আজ তাদের হত্যা করতে উদ্ধত হয়েছে, তারাও কিন্তু সেই সুন্নি মতাদর্শরই মানুষ; যারা নিজেদেরকে কুর্দিদের চেয়ে উন্নত ভাবে, ভাবে নির্ভুল। আর এখানেই সমস্যার শুরু। শুরু হয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। আর বেঁচে থাকার তাগিদেই সব মানুষই এই লড়াইয়ে জিততে চায়, যার ফলে বেধে যাচ্ছে ভয়াবহ যুদ্ধ।
এই সুযোগটাই চাই, গোপাল ভাঁড়ের সেই ভাগ্নের; যে গুদামের পোড়া আলু খেতে খেতে জিজ্ঞাসা করেছিল, মামা আলুর গুদাম আবার কবে পুড়বে? সময় পাল্টেছে। ভাগ্নের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেড়েছে তাদের ক্ষুধা। তাই তো আজ ভাগ্নেরা আর আলুর গুদাম পুড়ে যাওয়া অপেক্ষা না করে নিজেরাই জ্বালিয়ে দিচ্ছে; আর আকাশ থেকে পোড়া আলুর দিকে শকুনি নজর রাখছে দলবেঁধে। আর সাথে জুটেছে কিছু কাক, যারা কিছু না বুঝেই কা কা করে জানিয়ে দিচ্ছে নতুন নতুন আলুর গুদামের সন্ধান; শকুন রুপী ভাগ্নেদের।
(অসমাপ্ত)
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-১
১৫/১০/২০১৪ রাত ১০.৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×