somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Love & U

২২ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওই মামা যাইবা?
রিকশাওয়ালাঃ কই যাইবেন মামা?
শুভ্রঃ কলাবাগান।
রিকশাওয়ালাঃ হ, যামু। ৩০ টাকা দিবেন।
শুভ্রঃ আচ্ছা যাও, দিমুনে।
সকাল সকাল লেকে একা একা ঘুরতে ভালই তো লাগে। ব্যাপারটা দিনদিন অভ্যাসে পরিনত
হচ্ছে। আগে কত না মজাই হতো।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কতই
না আড্ডা দিতাম। সেইসব বন্ধুরা আর আমি। আজ
তারা কই? আর আমি কই? এইসব ভাবতে ভাবতেই
সিগারেটে শেষ চুম্বনটা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।
মনে মনে বলে উঠলো, ধুর ছাই!! আমি এইসব
আজাইরা চিন্তা করতাসি কেন! আর
কি কোনো কাম নাই নাকি!! মামা, নামবেন না? বললো, রিকশাওয়ালা।
শুভ্রঃ ওহ! হুঁ, নামতাসি। এই লও ৩০ টাকা।
রিকশাওয়ালাঃ মামা, ৫
টা টাকা বাড়াইয়া দেন না।
শুভ্রঃ ভ্রু কুঁচকে ৫ টাকা নিয়ে হাত ছুঁড়ে বললো,
নাও। মিয়া, তোমাগো অভ্যাসই খারাপ। ভাল কইরা কথা কইলেই পাইয়া বসো।
রিকশাওয়ালাঃ শুভ্রর
দিকে তাকিয়ে একখানা তৃপ্তির হাসি দিলো।
হাসিটুকু দেখে কেন জানি শুভ্রও হেসে ফেললো। লেকের যেখানটাই যাচ্ছে না কেনো, সব
জায়গায় মানুষ আর মানুষ।
মেজাজটা আস্তে আস্তে কেন
জানি বিগড়িয়ে যাচ্ছে। ধুর! আজকে আর
হাঁটবোই না। বলেই লেক
ছেড়ে বেরিয়ে পড়লো শুভ্র। রাস্তা ক্রস করেই বাসের জন্য অপেক্ষা।
যাবে যাত্রাবাড়ী। কলাবাগান
থেকে যাত্রাবাড়ী যাবার বাস দুই টা। ট্রান্স
সিলভা, আর বিকল্প ১ ই। তাও অনেকসময়
ধরে দাড়িয়ে থাকতে হয়। তাই তড়িঘড়ি করে এ
টি সি এলে উঠে গেলো। নামবে মতিঝিল। সেখান থেকে যাত্রাবাড়ীর বাস পাওয়া সহজ।
বাসে তিল ধারনের জায়গা নেই। এর মধ্যেই
ছুটে চলছে যান্ত্রিক শহরের সরু
রাস্তা বেয়ে সিটি বাসগুলো। বলতে বলতেই
চলে এলো পল্টন। সামনে ট্রাফিক সিগন্যাল।
বসে থেকে লাভ নেই। নেমে পরাই ভাল। বলেই শুভ্র হাটা ধরলো। এই
শহরে হাটারো জায়গা নেই। রোনালদিনহোর
মত একে ওকে কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
গলাটা শুকিয়ে কাঠ। একটু
পানি খাইতে পারলে ভাল হইতো। এই ভেবেই
দৈনিক বাংলা মোড়ের এক চায়ের দোকানে ঢুকে পড়লো। চা, পানি, কলা, বিস্কুট
সবই খাওয়া হলো। খেয়ে উঠার
আগে একটা সোনালি পাতা (গোল্ড লিফ)
ধরালো। সিগারেটে টান
দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য
শাপলাচত্বর। এরই মধ্যে আবার হঠাৎ গান শুনতে ইচ্ছে করলো। যে ভাবা সেই কাজ।
কানে ইয়ারফোন গুঁজে তাহসানের লাইটহাউজ
শোনা শুরু করলো।
আর নিজেই নিজের
মনে মনে বলতে লাগলো গানটা এত অস্থির
কেন!! এত ভাল লাগে কেন!! গীতিকার কি করে আমার মনের কথাগুলো জানলো! পেছন থেকে কে যেনো পিঠে হাত রাখলো। শুভ্র
আচমকা চমকে গিয়ে পিছে ফিরে দেখে এক
সুন্দরী মেয়ে। কিছু না বোঝার আগেই
মেয়েটি শুভ্রর গালে আলতো ছুঁয়ে বললো,
কিরে কি খবর তোর? কেমন আছিস? কই
যাচ্ছিলি? এতক্ষণ ধরে পেছন থেকে ডাকলাম, একবারো ফিরে তাকালি না যে? এত সব প্রশ্নের
ভিড়ে শুভ্র অবশেষে আবিষ্কার
করলো মেয়েটি কে।
শুভ্রঃ আরে তুই!! এতদিন পর কোথা থেকে অবতরণ
করলি! অনেকটা হেসেই বললো। নারে, আমি তোর
ডাক শুনিনি। গানে ইয়ারফোন গোঁজা ছিল তো তাই। তো, এখন বল তুই এখানে কি করছিস?
বন্যাঃ তেমন কিছু না। ব্যাংকে এসেছিলাম।
কিছু কাজ ছিল।
শুভ্রঃ ও, আচ্ছা।
বন্যাঃ কোথায় যাচ্ছিলি?
শুভ্রঃ বাসায়। বন্যাঃ তাহলে এখানে কেনো?
শুভ্রঃ মন চাইলো একটু ঘুরেফিরে,
ধীরে সুস্থে যাই, এই আর কি। হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ তোর সেই একহাত
লম্বা হাসি এখনো গেলো না বুঝি...
শুভ্রঃ মুচকি হেসে বললো, আমি আগের মতই আছি। কিছু পরিবর্তন হয় নি।
বন্যাঃ হইসে, আর পাকনামো করতে হবে না।
শুভ্রঃ এখন কি বাসায় যাবি?
বন্যাঃ হুঁ। তুই যাবি না?
শুভ্রঃ ইচ্ছে করেই বললো, না যাবো না।
সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো। বন্যাঃ হুমায়ূন আহমেদের হিমু পড়ে পড়ে হিমুর
ভাব ধরেছিস' বুঝি?
শুভ্রঃ আরে নাহ!! আমি এমনই। হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ চল, নীলক্ষেত।
শুভ্রঃ কেনো! নীলক্ষেত কেনো?
বন্যাঃ তোর সাথে অনেকদিন বিরিয়ানি খাওয়া হয় না। আজ সুযোগ যখন
পেয়েছি, মিস করবো কেনো?
শুভ্রঃ খাবি যে, খাবার বিল দেবে কে? আমার
পকেট পুরাই খালি।
বন্যাঃ সে চিন্তা তোর করতে হবে না। চল তুই।
বলেই একটা রিকশা ডাক দিলো। কিছু চিন্তাভাবনা না করেই শুভ্র রিকশায়
চড়ে বসলো। জ্যামযট হাতরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তিনচাকার
এই অদ্ভুত যানটি। আর মনে মনে ভাবছে,
আমি স্বপ্ন দেখছি না তো! এই ভেবেই নিজের
হাতে চিমটি কেটে দেখলো শুভ্র। আরে!
এতো স্বপ্ন না। সত্যিই!
বন্যাঃ কিরে, চুপচাপ বসে আছিস যে? কিছু বলছিস না যে?
শুভ্রঃ তোকে কালো শাড়িতে কি অদ্ভুত সুন্দর
লাগছে, তুই কি তা জানিস?
কপালে কালো টিপটাও তোকে বেশ মানিয়েছে।
বন্যাঃ ধুর! কি যে বলিস না তুই।
এই বলে লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখলো সে। শুভ্রঃ শুনেছি তুই নাকি জব করছিস?
বন্যাঃ হুঁ। করি ছোটখাটো একটা। তুই
কি করে জানলি? তোর সাথে তো আমার বেশ
কয়েকবছর কথা বা দেখাই হয় নাই!
শুভ্রঃ জানার চেষ্টা করেছি, তাই জেনেছি।
আচ্ছা, তোর নাকি এনগেজমেন্ট হয়ে গেসে? বন্যাঃ হুঁ।
শুভ্রঃ ওহ!! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো।
বন্যাঃ তুই এখন কিছু করিস না? মানে জব টব...
শুভ্রঃ না। আমার কি সে যোগ্যতা আছে?
বন্যাঃ হইসে আর নেকামো করতে হবে না। চল
এবার নামি। আগে কিছু বইয়ের দোকান ঘুরবো। তারপর খাওয়া দাওয়া।
শুভ্রঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
বন্যাঃ তুই কোন দোকান থেকে যেনো হুমায়ূন
আহমেদের বইগুলো কিনতি?
আমাকে সেখানে নিয়ে চল।
বন্যার কথামত তাকে শুভ্র সেই দোকানির কাছে নিয়ে গেলো।
কোনো বাছাবাছি না করেই ৩০০
টাকা দিয়ে হুমায়ূনের "লীলাবতী" কিনে শুভ্রর
হাতে ধরিয়ে দিলো।
শুভ্রঃ আমি এটা হাতে রাখতে পারবো না। তোর
ব্যাগে রাখ। বন্যাঃ আরে এটা তোকে আমি দিলাম। নে রাখ
নারে বাবা!
শুভ্রঃ আমি এই বই অনেকবার পড়েছি।
এটা দিয়ে আমি কি করবো?
বন্যাঃ পড়েছিস, আবার পড়বি। নে ধর।
ঢং করিস না তো! শুভ্রঃ অবাক হয়ে কতক্ষণ বন্যার
দিকে তাকিয়ে রইলো। ততক্ষণে বন্যা হাটা শুরু
করলো।
শুভ্রঃ এই, থাম। কই যাচ্ছিস?
বন্যাঃ বিরিয়ানি খেতে।
খাওয়াদাওয়া শেষে বাইরে এসে বললো, চল ধানমন্ডি লেকে যাই। অনেকদিন হয়েছে তোর
সাথে ওখানটায় যাই না। চল চল। জলদি চল।
বলেই বিকশায় চড়ে বসলো।
শুভ্রও আদিখ্যেতা না করে উঠে বসলো। বন্যাঃ ইসস!! দেখেছিস বর্ষায়
লেকটাকে কেমন ভরা ভরা লাগছে!
শুভ্রঃ হুম।
বন্যাঃ কিরে, তুই না সিগারেট খেতি? এখন
খাস না?
শুভ্রঃ হুম। বন্যাঃ কি হুম হুম করে যাচ্ছিস!! কথা বল।
শুভ্রঃ হুম, বলছি তো! মামা, সিগারেট লাগবো? পাশ থেকে ১০/১২
বছরের এক ছেলে বলে উঠলো।
বন্যাঃ এই ছেলে, যা,এখান থেকে। যা বলছি।
শুভ্রঃ দে একটা। গোল্ড লিফ দে একটা। বলেই
সিগারেট ধরিয়ে বসলো।
বন্যাঃ তুই জানিস না আমি সিগারেটের ধোয়া একদম সহ্য করতে পারি না?
শুভ্রঃ জানি। এখন কি করবো বল।
বন্যাঃ এভাবে কথা বলছিস কেনো!
শুভ্রঃ তো কেমন করে কথা বলতে হবে?
বন্যাঃ আমি গেলাম। এই বলে উঠে চলে যাওয়ার
প্রস্তুতি নিলো। যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে বন্যার হাত চেপে ধরে বললো, কই যাবি? এত জলদি কেন
তোর? বস।
বন্যাঃ আমাকে বাসায় যেতে হবে। হাত ছাড়
বলছি!
শুভ্রঃ হাত ছাড়ার জন্য তো ধরিনি।
বন্যাঃ বাংলা সিনেমার নায়কদের মত সস্তা সংলাপ দিবি না।
শুভ্রঃ হাঃ হাঃ হাঃ। আচ্ছা দেবো না।
আগে তোকে বসতে হবে। অনেক কথা আছে তোর
সাথে। প্লিজ, এখন না গিয়ে আর কিছুক্ষণ পরই
না হয় যাইস।
বন্যাঃ ওকে। জাষ্ট ৩০ মিনিট। এর এক মিনিট বেশি না।
শুভ্রঃ ওকে বাবা। তবে ৩০ মিনিটের এক মিনিট
কমও না। বলেই হাঃ হাঃ হাঃ করে হেসে উঠলো।
বন্যাঃ থাম। তোর এই ভিলেন
মার্কা হাসি আমার একদমই সহ্য হচ্ছে না।
কি বলবি বল জলদি। ৫ মিনিট শেষ। শুভ্রঃ একটা সিগারেট ধরালে বলতে খুব সহজ
হতো। ধরাই?
বন্যাঃ তোর যা ইচ্ছে তুই তাই কর।
শুভ্রঃ সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললো, চল
আমরা বিয়ে করি।
বন্যাঃ তোর মাথা ঠিক আছে!!?? কি বলছিস এইসব!
শুভ্রঃ আমার মাথা ঠিকই আছে। প্রশ্নের জবাব
কিন্তু পাইলাম না এখনো!
বন্যাঃ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে।
ডিসেম্বরে বিয়ে। অন্য কিছু বলার
থাকলে বলতে পারিস। শুভ্রঃ আচ্ছা, আমার সাথে তাহলে তুই এমন
কেনো করলি! কেনো করলি?
বন্যাঃ আমি তোর সাথে কিছুই করি নাই। তা তুই
ভাল করেই জানিস।
শুভ্রঃ ওহ! তাই তো! সবই তো আমার জানা।
আমাকে কি তুই কখনো ভালবাসছিস? বন্যাঃ এখনো বাসি।
শুভ্রঃ তাহলে সমস্যা কোথায়? আমি তোর
বয়সে ছোট এটাই কি সমস্যা!!
বন্যাঃ না। সমস্যা আমার। আমি চাই না তুই
আমাকে নিয়ে সংসার পাতিস। আমরা দুজন ঠিক
আট বছর আগে যেমন ছিলাম, ঠিক তেমনই থাকতে চাই। বন্ধু হিসেবে। ছোট ভাই
হিসেবে। আমার সেই লক্ষি স্টুডেন্ট হিসেবে।
যাকে ঘন্টার পর
ঘন্টা বসিয়ে রেখে ইংরেজি রচনা গুলো মুখস্থ
করাতাম।
শুভ্রঃ মুচকি হেসে বললো, ও তাই বুঝি? ভাল তো!!
তাহলে কি আমি এতদিন ভুলের সমুদ্রে ছিলাম?
বন্যাঃ নাহ! একদমই না। তোর জায়গা থেকে তুই
পুরোপুরি ঠিক ছিলি। আছিস। থাকবি।
শুভ্রঃ না, একেবারেই না। আমার সবকিছুই
ভুলে ভরা। বন্যাঃ আচ্ছা, হইসে। আজ আর না। টাইম আপ।
আমাকে যেতে হবে। আরেকদিন
কথা হবে ইনশাআল্লাহ্।
শুভ্রঃ চলে যাবি? আচ্ছা যা।
বন্যাঃ তুই যাবি না?
শুভ্রঃ হুম। আমার যেতে দেরি হবে। আরো কিছুক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করছে।
বন্যাঃ না। আমরা একসাথেই যাবো।
আমাকে গুলিস্তান নামিয়ে দিয়ে বাসের টিকিট
করে দিবি। তারপর তুই রিকশা করে বাসায়
যাবি। এটাই ফাইনাল।
শুভ্রঃ মুচকি হেসে উঠে দাঁড়ালো। বললো, চল তাহলে, যাওয়া যাক।
বন্যাঃ এইতো আমার সেই লক্ষি শুভ্রটা।
বলেই কপালে একটা চুমু খেয়ে বললো, চল। আর
পাগলামি করবি না। আমাকে কথা দে!!
শুভ্রঃ হুম। আর পাগলামি করবো না।
কলাবাগান লেক সার্কাস মোড়ে দাড়িয়ে দুজন। ট্রাফিক সিগন্যালের অপেক্ষায়।
রাস্তা পেরুতে হবে।
রাস্তাটা আজ বেশ ফাঁকা। ট্রাফিক সিগন্যাল
দিতেই দুই একটা গাড়ি থেমে গেলো। শুভ্র এই
দেখে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করতেই পেছন
থেকে বন্যা চিৎকার করতে লাগলো, এই শুভ্র এই!!
এরপরই ঘটলো বিপত্তি। সেফটি পরিবহনের
একটি বাস ধাক্কা মেরে মুহূর্তেই হাওয়ায়
মিলিয়ে গেলো। বন্যার ঠিক ১৫/২০ হাত
দুরে পড়ে আছে শুভ্রর ক্ষতবিক্ষত দেহটি।
লীলাবতী বইখানার মলাটের রং পাল্টে রুপ নিলো লাল বর্নে। সময় রাত ৮ টা। ল্যাব এইড
হাসপাতালে একে একে শুভ্রর সব আত্মীয়স্বজন
ভীড় করতে লাগলো। হাসপাতালের
করিডোরে শুভ্রর বাবা পায়তারা করছেন।
তাকে দেখে মোটেও চিন্তিত মনে হচ্ছে না।
শুভ্রর মাকে তার খালামনিরা, কাজিনরা সান্তনা দিয়েই যাচ্ছেন। শুভ্রর মাও
কাঁদছেন না। আর কতই বা কাঁদবেন! সেই বিকেল
থেকে কেঁদেই যাচ্ছেন। এখন
হয়তো অনেকটা হাপিয়ে গেছেন।
ডাক্তার রহমানঃ পেসেন্টের
অবস্থা ক্রিটিকাল। আইসিইতে ট্রান্সফার করতে হবে। ইমিডিয়েটলি।
শুভ্রর বাবাঃ আপনার যা করার করুন।
ডাক্তারঃ আই উইল ট্রাই মাই বেষ্ট।
শুভ্রর বাবাঃ মা, তুমি বাসা
য় চলে যাও। রাত অনেক হয়েছে।
বন্যাঃ আংকেল, এই অবস্থায় আমি কি করে বাসায় যাই?
শুভ্রর বাবাঃ যা হবার হবে। আল্লাহ্ সবকিছুর
মালিক। তিনিই ভাল জানেন কোনটা তার
বান্দার জন্য ভাল আর কোনটা খারাপ।
তুমি চিন্তা করো না।
আমি তোমাকে অটোরিকশা ঠিক করে দিচ্ছি। তুমি সময় পেলে আবার এসো।
বন্যাঃ জ্বি আংকেল।
.
.
.
৫ দিন পর। সকাল ১১টায় ডাক্তার আর শুভ্রর বাবার
মধ্যে কথোপকথন চলছে।
ডাক্তারঃ প্যাসেন্ট এর কোনো ইমপ্রুভ
দেখা যাচ্ছে না। আমি থিংক লাইফ সাপোর্ট
খুলে দেয়া উচিৎ।
শুভ্রর বাবাঃ ডাক্তার, আমার ছেলেটা খুব কষ্ট পাচ্ছে তাই না? ওকে আর কষ্ট দিবেন
না প্লিজ। আমাকে আর কিচ্ছুক্ষণ সময় দিন।
আমি আপনাকে জানাচ্ছি কি করতে হবে।
শুভ্রর বাবাঃ হ্যালো, মা...
বন্যাঃ জ্বি আংকেল শুনতে পারছি। বলুন।
শুভ্রর বাবাঃ তুমি কি আসবে হাসপাতালে? শুভ্র আর কিছুক্ষণ আমাদের মাঝে আছে।
তুমি কি ওকে শেষবারের মত এক নজর
দেখতে চাও?
বন্যাঃ......
ওপাশ থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ
পেয়ে শুভ্রর বাবা আর কিছু জিজ্ঞাস না করে ফোন রেখে দিলেন। বন্যা এখন সাজবে। কপালে কালো টিপ পড়বে।
কালো শাড়ি পড়বে। কারন আজ অন্য কিছু না।
কারন শুভ্র পছন্দ করে তাই....
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×