somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা গরিব দেশ! কিন্তু খুশি হয়ে খেলয়াড়দের কোটি কোটি টাকা দিতে পার

২৭ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- কিরে তর মায়ে কই?
- জানি না।
- জানস না ক্যান? কই গেছে? গর্জে উঠে কালুর বাপ।
- জানিনা, ভয়ে একটু সরে যায় কালু।
- হুমুন্দির পুত বইয়া বইয়া কি করস? জানসটা কি? বলেই করিম মিয়া এক লাথি ঝারে নিজের সন্তানের পাছা বরাবর।
কালু লাথি খেয়ে ছিটকে পরে, অবাক হয়না তেমন, হাত দিয়ে ধুলা ঝেরে সে দৌড় দেয় গ্যারেজের দিকে। মার খেয়েও তার তেমন খারাপ লাগে না, এরকম চর লাথি তার বাপ সারাদিনে বেশ কয়েকবার দেয়। তয় কালু জানে মায়ে কই গেছে। বাপরে কয় নাই কিছু। কালু এই বয়সে বুঝে গেছে তার মা আর বাপের সম্পর্কটা।
সন্ধ্যা হইলে মা যায় গ্যারেজের মালিক রহমত শেখের ঘরে। মা সেখানে কি করে জানে না সে। কিছু একটা করে সেটা বুঝে, রহমত শেখ ওরে দেখলেই নরম চোখে তাকায়, দোকান থেইকা এইটা সেইটা কিনে দেয়। বস্তীর পুলাপান হাসে। কয় কিরে কালু তর বাপে কি কিন্না দিলো? রাগে ফুসতে থাকে কালু। কিচ্ছু কয়না। ঘন্টা দুয়েক পর মা আসলে কালুর বাপ হের মায়েরে কিচ্ছু কয়না। তার দরকার কিছু টাকা। একশ টাকা হাতে পেলেই বাংলা মদ খাইতে চইলা যায়।
বাপে রাইতে কুন সময় ঘরে আসে কালু দেখেনা। কিন্তু বোঝে হের বাপে; মানুষটা বালা না। মায়ে সারাদিন কত কষ্ট করে, এর ঘরে তার ঘরে কাম করে, সেলাই করে আর হের বাপে খালি মদ খায় আর জুয়া খেলে। এইসব ভাবতে ভাবতে বাপের উপর কালুর রাগ বাড়তে থাকে। ভাবে বড় হইলে মা রে নিয়া আলাদা অন্য বস্তিতে থাকবো। বাপের লগে না। কত কি ভাবে সে ঘুমানোর আগে। কখন যে এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরে সে বোঝে না।
রেহেনার কইদিন ধইরা দেখতাসে হের পুলাডা কেমন জানি বদলাইয়া যাইতাসে। কথা কম কয়। হাসে না বেশী, অন্য পুলাপান দের সঙ্গে খেলতে যায় না। রাতে খাইতে আসে অনেক দেরীতে। রাতে কালু খাইতে আইলে রেহেনা কালুরে জিগায়,
- কিরে হারা দিন কি করস তুই? থাকস কই?
- আম্মা আমি কাম লইসি একটা। তুমারে আর কষ্ট করতে দিমুনা।
- কস কি বাজান? রেহেনা অবাক হইয়া নিজের পুলারে দেহে ।
- হ, আম্মা, আমি বস্তীতে কাম করি। মাস শেষ অইলে আমারে ১৫০০ টেহা দিব?
- কস কি?
- কিয়ের কাম করস?
- ওইজে ল্যাংড়া খালেক আছে না? হের লগে কাম করি?
- কস কি তুই? রেহেনা ভয় পায় এবার।
- হ্যা তো হুনসি ফেন্সী বেঁচে? তুই ওইহানে কি কাম করস?
- তুমি বুঝবানা আম্মা, ডরাইও না। আমার কিচ্ছু অইবো না।
- না বাজান তুই ওই কামে জাইস না । কুনসময় পুলিশ ধরবো ।
- ধুরলে ধরবো। আমি ডরাই না।
- না না আমি তরে ওই কামে দিমুনা। তুই আর যাইবি না।
মা ছেলে দুজনেই চুপচাপ। কেউই কতক্ষন কথা কয়না। ভাত খেতে থাকে একমনে। কতক্ষন পর ঘরের ভাঙ্গা বেড়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
- আইচ্ছা যামুনা কিন্তুক আমারে কউ তুমিও আর রহমত শেখের ঘরে যাইবা না। বস্তীর পুলাপান আমারে খারাপ খারাপ কতা কয়, আমার হুনতে বালা লাগে না মা। এবার রেহেনার হাত ধরে কালু বলে;
- কউ তুমি আর যাইবানা ওই ঘরে।
কালুর এই কথা শুনে শীতল হয়ে বসে থাকে রেহেনা। কি বলবে সে? তার এই বয়সের পুলাডা এতোবড় শরমের মধ্যে ফেলাইয়া দিলো রেহেনারে …
বিঃদ্রঃ কাল্পনিক, কিন্তু অহরহ এসব ঘটনা ঘটতেছে সো কল্ড দরিদ্র এই দেশে! আমরা গরিব দেশ! কিন্তু খুশি হয়ে খেলয়াড়দের কোটি কোটি টাকা দিতে পারি! সাবাশ বাংলাদেশ।
-ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:১৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×