somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের “নীল-গোলাপি-সাদা” ইত্যাদি দল মিলেমিশে এখন লাল! স্বার্থের জন্য সবাই এখন এক।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের “নীল-গোলাপি-সাদা” ইত্যাদি দল মিলেমিশে এখন লাল! স্বার্থের জন্য সবাই এখন এক।
সাইয়িদ রফিকুল হক

দুনিয়াতে নিজের স্বার্থ নাকি পাগলেও বোঝে! আর সুস্থ-মানুষতো তার ষোলোআনা স্বার্থ বুঝে নেওয়ার জন্য একেবারে দিশেহারা। মানুষ এখন একচুল স্বার্থ-বিসর্জন দিতে নারাজ। ‘বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার’। আর সবাই এখন বুদ্ধিমান! তাই, দুনিয়াতে অবাধে এখন চলছে স্বার্থখেলা। আর সমাজে চলছে “সাধারণ বুদ্ধিখেলার” প্রতিযোগিতা।
জ্ঞান না হলেও এখন সমাজ চলে। আর সমাজে চলা যায়! কিন্তু চালাকি, শঠতা, ধূর্ততা, আর সাধারণ বুদ্ধি এখন সকলেরই আরাধনার বস্তু।

শিক্ষক জাতির নমস্য। কথাটি সত্য। একেবারে চিরসত্যবাণী। আমরা শিক্ষকদের কাছে পড়েছি। কিন্তু পরিবারে মাতাপিতার কাছে আমাদের প্রথম হাতেখড়ি হয়। পরিবারই আমাদের প্রথম বিদ্যালয়। তবে এটি অনানুষ্ঠানিক। এরপর আমরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করি। শুরু হয় আমাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা। আর আমাদের শিক্ষাজীবনে বিশাল প্রভাববিস্তার করে আছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। এরপর আমরা উচ্চশিক্ষার জন্য গমন করি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে, আমরা উচ্চশিক্ষালাভের পথ তৈরী করি। কিন্তু আসলে কি আমাদের উচ্চশিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়?
তবে ব্যক্তিগতভাবে এখনও আমরা স্বশিক্ষিত হওয়ার চেষ্টাই করছি।

জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবিরাম ধর্মঘটে গিয়েছেন। তাদের দাবি: সচিবদের পদমর্যাদায় তাদের বেতন-ভাতা-সবকিছুই দিতে হবে। তারা সচিবদের চেয়ে কম নেবেন না। খুব ভালো কথা।
কিন্তু মহাশয়, আপনাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই: আপনাদের চেয়ে এইদেশে এতো-এতো আর বেশি-বেশি বেতন-ভাতা, আর বিবিধ সুযোগ-সুবিধা আর কারা পেয়ে থাকে? আপনাদের সুখের শেষ নাই। আপনাদের আনন্দের সীমা-পরিসীমা নাই। আর আপনারা ক্লাসে পাঠদানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবুও আপনাদের কেন এই দীনতা? আর এই কি আপনাদের শিক্ষকসুলভ আচরণ?
আপনারা মনে হয় ভুলে গেছেন, এদেশের “শিক্ষার” “মূল-ভিত্তিস্তর” হচ্ছে: “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান” ও “সরকারি প্রাইমারি” স্কুলগুলো। এদেশের ৯৮ভাগ মানুষের শিক্ষাদান করে থাকে দেশের “বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা”। সরকার তাদের স্কেল-অনুযায়ী শুধু মূলবেতন দিয়ে থাকে। আর তারা বাড়িভাড়া-বাবদ পায় মাত্র ৫০০ টাকা, আর চিকিৎসা-ভাতা পায় মাত্র ১৫০ টাকা। আর তারাও শিক্ষক। আর সরকার বেতন দেয় সত্য। কিন্তু এতে তাদের এখনও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আর এরা কিন্তু পরিশ্রম কারও চেয়ে কম করেন না।
আর আমাদের দেশের প্রাইমারি-স্কুলের শিক্ষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলে থাকেন। এলাকার ডানপিটে-বখাটে থেকে শুরু করে ভালো-মন্দ সব শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব তাদের। আর আপনারা তাদের বেতন-স্কেলটা একটু দেখেছেন? প্রাইমারি স্কুলের একজন “সহকারী শিক্ষক” বর্তমানে বেতন পান সর্বনিম্ন-স্কেলে। আর প্রাইমারি স্কুলের “হেডস্যাররা” বেতন পান সর্বনিম্নের চেয়ে সামান্য একটু উপরে। তবুও তারা ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে যাচ্ছেন। আর দেশের সিংহভাগ মানুষের শিক্ষাদানকারী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে-স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় লক্ষ-লক্ষ শিক্ষক নামকাওয়াস্তে বেতনে শিক্ষকতার মহান পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তারাও শিক্ষক। তারাও মানুষ। আপনারা দেশের এতোবড় বুদ্ধিজীবী! তাদের কথাটা কোনোদিন একটু ভেবেছেন? তাদের কথা ভাবার একটু সময় কি আপনাদের হবে? আপনারা আর কতোকাল এভাবে নিজের স্বার্থে রাস্তায় নামবেন? আর শুধু নিজের স্বার্থটাকে কতোকাল এভাবে বড় করে দেখবেন?

নিজেদের স্বার্থে আপনারা একজোট। কিন্তু দেশের স্বার্থে একজোট নয়:
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন “শিক্ষক-কর্তৃক” কোনো ছাত্রী যৌননির্যাতনের শিকার হয়, তখন তা ধামাচাপা দিতে সব দল এক হয়ে যায়। আর তারা ছাত্রীটিকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চালায়। কতোরকমের “তদন্ত-কমিটি” গঠিত হয়। আর সেইসব তদন্ত-কমিটির সামনে বারবার ছাত্রীটিকে জেরা করা হয়। তবুও তার অভিযোগ সহজে আমলে নেওয়া হয় না। অভিযুক্ত-পাপিষ্ঠ কোনো শিক্ষককে শাস্তি দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বুকটা ফেটে যায়। তখন তারা শিক্ষকের সম্মান বাঁচাতে একজোট! আর এখন বেতন ও মর্যাদা বাড়াতে একজোট! কিন্তু একাত্তরের চিহ্নিতযুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আপনারা একজোট হতে পারলেন না। কী সমস্যা আপনাদের? তখন দেখি নীলদল শুধু চেঁচায়! আর গোলাপি দল ঝিমায়! কিন্তু হলুদ-সাদা কী করছে? কী সমস্যা আপনাদের মহাশয়? আর দেশের স্বার্থ কি আপনাদের স্বার্থের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?
আর নীলদল, আপনাদের এখন লজ্জা করছে না, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বী-সাদাদলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে? সামান্য স্বার্থ কি এতোই প্রয়োজন? কবে হবে আপনাদের বোধোদয়। আর কবে পাবে এই দেশ এই জাতি, একজন শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী এবং একজন শহীদ অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার মতো মহান শিক্ষক।

আপনারা সব ছেড়ে দিয়ে ক্লাসে ফিরে গিয়ে আত্মসমালোচনা করুন। আর দেশ-জাতি ও মানবতার কথা ভাবুন। স্যার, আপনাদের এভাবে মানায় না।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×