
চাই না তোমাদের এই ফরমালিন-মেশানো ভালোবাসা।
সাইয়িদ রফিকুল হক
কেন তোমাদের দিবস গুনে-গুনে
আজ ভালোবাসতে হয়?
ভাবছি বসে সেই কদম্বতলে
ভালোবাসা আজ কি এতোই অসহায়!
তোমাদের বুকের ভিতরে আজও কেন
গড়ে ওঠেনি ভালোবাসার একটা বিরাট নদী,
ব্রহ্মপুত্র না হয় শুকায়ে গেছে,
আর পদ্মায় না হয় জেগেছে ধু-ধু-বালুচর!
আর বুড়িগঙ্গা না হয় ভরেছে মানুষের পাপে,
শীতলক্ষ্যাও আজ হারাতে বসেছি আমরা,
তাই কী? আর তুমি তো মানুষ
তোমার বুকের ভিতরে
কে দিয়েছে ফারাক্কাবাঁধ?
তোমাদের বুকের ভিতরে কেন জেগেছে বালুচর!
আর কেমন করে গজিয়েছে
এই শ্যাওলাভরা আগাছার দল!
তোমরা কি নদীর মতো
হারিয়ে যাবে এই ভূপৃষ্ঠ থেকে?
আর কি ফিরবে না কখনও এই পৃথিবীতে!
তবে কেন ভেঙ্গে তছনছ করছো এই পৃথিবীর ভিত্তি,
তোমরা ক্রমাগত আঘাত করছো পৃথিবীর ভিত্তিমূলে,
আর তোমাদের আঘাতে-আঘাতে জর্জরিত হয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা,
আর বারবার নড়বড়ে হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর ফাউন্ডেশন!
আজ পৃথিবী ভরে গেছে ভেজালে,
মানুষে ভেজাল, দুধে ভেজাল, ঘিয়ে ভেজাল,
আর ভেজাল যতো খাদ্যদ্রব্যে,
সবখানে আজ ফরমালিন-কার্বাইড মেশানো
আজ দেখি, তোমাদের ভালোবাসায়ও মিশে গেছে ফরমালিন!
আর এই ফরমালিন-মেশানো ভালোবাসায় তোমাদের কী ভবিষ্যৎ?
তোমরা হারিয়ে যাচ্ছো প্রতিমুহূর্তে চোরাবালিতে,
আর অন্ধগলিতে,
আর একেকজন ডুবে যাচ্ছো একটু-একটু করে,
কে বাঁচাবে তোমাদের?
সবাইতো আজ ডুবন্ত জাহাজের যাত্রী!
আজ দেখি তাই, তোমাদের বিশ্বাসে ফরমালিন,
আর নিঃশ্বাসেও ভাসছে শুধু ফরমালিন,
তোমাদের চিন্তাভাবনায় মিশে আছে শুধু ফরমালিন!
তোমাদের এইসব ফরমালিনযুক্ত-ভালোবাসা
বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী?
মধুমতীর জল আজ কমে গেছে,
ইছামতী হয়েছে শস্যক্ষেত্র!
আর পাঁয়তারা চলছে কপোতাক্ষ দখলের!
ভূমিদস্যূরা বুঝি কেড়ে নিয়েছে তোমাদের ভালোবাসা?
আজ তাই, শাল-তমালের ছায়ায় বসে তোমরা
বারবার অভিনয় করছো ভালোবাসার!
তোমাদের বুকে গজিয়েছে আগাছার জঙ্গল,
আর বুকের ভিতরে জেগেছে শুধু বালুচর!
তাইতে তোমরা ভুলে গেছো এই বাংলার
প্রেম-যমুনার শাশ্বত-ভালোবাসা।
তোমরা আর কত অভিনয় করবে?
আর করবে কত প্রেমের নাটক?
কেন আজ টিকিয়ে রাখতে চাও
এই বিষাক্ত-ফরমালিন মেশানো ভালোবাসা?
তোমাদের মনে যদি ভালোবাসা ‘নাই’ হয়ে যায়,
তবে কেন করছো এই বৃথা আফসোস?
তারচেয়ে তোমরা আজ ভালোবাসা-নাটক থেকে
চিরতরে-একযোগে করবে সবাই অবসরগ্রহণ,
আর ভালোলাগে না তোমাদের এই মিথ্যাঅভিনয়,
পবিত্র ভালোবাসার নামে আজ দেখি শুধুই অভিনয়!
নাটক হবে তো বেইলি-রোডে
আর মহিলা-সমিতির মঞ্চে
কিংবা শিল্পকলা-মিলনায়তনে,
কিন্তু তোমরা কেন গড়ে তুলছো এই নাট্যরঙ্গমঞ্চ?
মানিব্যাগের সাইজ দেখে আজ বুঝি হচ্ছে মন দেওয়া-নেওয়া,
বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট-প্লট-জমি অগণিত বুঝে নিয়ে
আজ কী সুন্দর লাল-নীল-গোলাপি আর বেগুনী ভালোবাসা!
আর স্বার্থ বুঝে একে অপরের হাতে তুলে দিচ্ছে:
ফরমালিন-মেশানো বিষাক্ত-গোলাপ!
টাকার ওজনে এখন বিক্রি হয় ভালোবাসা,
মানিব্যাগের ওজনে জমে ওঠে প্রেমের নাটক,
ভালোবাসার মনে এখন কালশীটে দাগ,
আর ভালোবাসার বুকে বিশাল একটা ফাঁড়া!
তার উপরে জেগেছে আবার অবিশ্বাসের বিশাল বালুচর।
আর কত এভাবে অভিনয় চলবে?
আর যদি মানিব্যাগটা হঠাৎ একটু চ্যাপটা হয়
তবে কি আগামী-দিবসেও থাকবে
তোমাদের এই ঐতিহাসিক-ভালোবাসা?
বসন্তে কিন্তু সবকিছুর রঙ-বদল হয়,
আর তাই, বদলে যাবে নাতো তোমাদের এই
রঙ-বদলের রঙিন-ভালোবাসা?
আগামী-দিবসে মিশাবে নাতো ভালোবাসায় ফরমালিন?
দিবস গুনে-গুনে আর কত জমাবে নাটক?
এবার তোমরা ভেজালমুক্ত হয়ে
চিরদিনের ভালোবাসায় ডুবে যাও প্রেম-যমুনার কূলে।
আর চাই না তোমাদের এই ফরমালিন-মেশানো ভালোবাসা।
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


