somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র্যাগ ডে:খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (সংগ্রহ )

০৮ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কারো চোখে ঘুম নেই। প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে অক্লানত পরিশ্রম করেছে র্যাগ ডে সফলভাবে শেষ করার জন্য। এদের সঙ্গী হয় আরো 75 জন ছাত্র। সবার চোখে-মুখে শুধু একটিই প্রতিচ্ছবি 'আজ আমার হারাবার নেই মানা; এসো না পাখি হয়ে মেলি ডানা'। সবাই তখন আনন্দ-উল্ক্নাসে মাতোয়ারা। হঠাৎ, কমঙ্িউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজনের বিষাদ ভরা কণ্ঠে মঞ্চ থেকে ভেসে এলো "লেটস '02 টুগেদার, টুওয়ার্ড, টুমরো ...।" মুহূর্তেই পরিবেশটা স্থবির হয়ে কিছুটা বিষন্নতায় রূপ নিলো। কারণ চিরচেনা, সবুজে ঘেরা এ ক্যামপাসের মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হয়। অনেকের চোখের অশ্রুজল ধরে রাখতে পারল না। বিগত ক'দিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সব আয়োজনই তো নিজেদেরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে হবে। এমন ভাবনা কারো মনে দাগ পর্যনস্ন কাটেনি। কাটলে হয়তো ক্যামপাস থেকে বিদায় নিতাম না। ঠিক এমনি অভিমতই ব্যক্ত করলেন বিদায়ী কয়েকজন। তারপরও হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনা, আনন্দ-উল্ক্নাস ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিছুটা বিষাদের চিহ এঁকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'দিনব্যাপী র্যাগ ডের সমাপনী ঘটল গত 22 সেপ্টেম্বর শুক্রবার।

র্যাগ ডে : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহৎ বার্ষিক অনুষ্ঠানের নাম 'র্যাগ ডে'। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় র্যাগ ডে আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ফলে র্যাগ ডে উপলক্ষে প্রায় মাসব্যাপী ক্যামপাস সাজে এক অন্যরকম সাজে।

ক্যামপাস জুড়ে সাজ সাজ রব : র্যাগ ডে উপলক্ষে প্রায় 5/6 দিনের জন্য ক্যামপাস কে সাজানো হয় অন্যরকম সাজে। আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যামপাসের প্রধান প্রধান সড়কের দু'পাশের গাছগুলোকে সাজানো হয় রঙ-বেরঙের লাইটিং দিয়ে। সড়কগুলোতে অগ্ধকন করা হয় বিচিত্র সব আলপনা। নানা ধরনের ব্যানার-ফেসটুনে ক্যামপাস হয়ে ওঠে প্রাণবনত।

রাতের ক্যামপাস : রাতের ক্যামপাস ও দিনের ক্যামপাস এর মধ্যে দেখা দেয় বিস্তর পার্থক্য। নানারকম আলোর ঝলকানিতে রাতের ক্যামপাস ধরা দেয় বিচিত্র সাজে। সড়কগুলোর দু'পাশে গাছের গায়ে জড়িয়ে থাকা লাইটগুলো জ্বল জ্বল করে অন্যরকম পরিচয়ে পরিচিত হয়। রাত এলেই শুরু হয় আবাসিক হলগুলোতে রঙ ও পানি খেলা। আর এ খেলার জন্য বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো খানজাহান আলী হল। রাতে ছাত্ররা মেইন গেটের উপরে ও করিডোরগুলোতে রঙ-পানি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় কোনো ছাত্র হলে ঢোকার চেষটা করলেই উপর থেকে রঙ-পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয। মুহূর্তেই শুরু হয়ে যায় হাসি, করতালি ও আনন্দের জোয়ার।

কনসার্ট : বরাবরই র্যাগ ডে'র মহৃল আকর্ষণ থাকে কনসার্টকে ঘিরে। এ বছর এ আকর্ষণ আরো বেশি ছিল। ডিজুসের সৌজন্যে খুলনায় প্রথমবারের মতো কনসার্ট করতে আসে দেশের অন্যতম সেরা ব্যান্ডদল মাইলস। 22 সেপ্টেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় এ কনসার্ট। প্রবল বর্ষণকে উপেক্ষা করে তারুণ্যের বাঁধভাঙা জোয়ারে এদিন মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাস। এ সময় একদিকে প্রবল বর্ষণ, অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার সবমিলিয়ে ক্যামপাস হয়ে উঠেছিল অন্যরকম প্রাণবনত। কনসার্ট উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্দ্বরে ভিড়ের চাপে পা ফেলার জায়গাটুকু অবশিষট ছিল না। শরতের বর্ষণসিত্ত বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে দুপুর থেকেই ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীরা কনসার্টস্থলে হাজির হতে থাকে।

র্যাগ ডে'র প্রথম দিন : 21 সেপ্টেম্বর বৃহসপতিবার ছিল র্যাগ ডে'র প্রথম দিন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় 'পাসিং আউট ফেসটিভ্যাল-2006'। 'এক সঙ্গে আগামীর পথে' স্লেলাগানকে সামনে রেখে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দু'দিনব্যাপী র্যাগ ডে'র আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

র্যাগ-ডে'র শেষ দিন : 22 সেপ্টেম্বর শুক্রবার ছিল র্যাগ ডে'র শেষ দিন। সকালে র্যালি ও নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে পরিবেশিত হয় মাইলসের কনসার্ট। দিনভর প্রবল বৃষটি সত্ত্বেও প্রতিটি অনুষ্ঠান সবার উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

সমাপনী : শুক্রবার কনসার্টের মধ্য দিয়ে শেষ হয় র্যাগ ডে'র সব আয়োজন। র্যাগ ডে'র শেষে বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের সবাইকে কিছুটা বিষন্ন মনে হলো। দু'দিনের আনন্দ-উল্ক্নাস কিছুটা নীরব হয়ে গেল। চার বছর ক্যামপাস জীবনের স্মৃতিগুলো তাদের তাড়া করছে বলে জানালেন বিদায়ী ছাত্র অনেকেই। সয়েল সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্ররা অনেকেই বললেন, সিনিয়র ভাইয়া ও আপুদের বিদায় জানাতে কষট হচ্ছে।

*সমকাল*





সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×