somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাহাত

২৫ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরে ঢুকেই বিছানায় শুয়ে পড়লো রাহাত। কিন্তু, এ কি???? তোষকটা যে ছিড়ে গেছে। তবে, এই বিছানার ব্যাপারে রাহাতের কোন আগ্রহ নেই। চাদঁরবিহীন, ছিড়া তোষক এর বিছানাতেই সে দিব্যি রাত কাটায়। রাহাত খুব যুক্ত দিয়ে কথা বলে। তাঁর সব কথাতেই যুক্তি থাকে, যে কারণে মানুষ তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় পায়, এই ভেবে যে, ওর সাথে কথা বলে পারা যাবেনা। মানুষ রাহাতকে একপ্রকার এড়িয়েই চলে।

রাহাত খুবই ভালো ছেলে। সে সবসময়ই হাসি - খুশি থাকে। কিন্তু আজকে রাহাতকে অন্যরকম লাগছে কেন???? রাহাত তো ঘরে এসেই বিছানায় যায়না, সে তো আগে হাত - মুখ ধুয়োঁ নামাজ পড়ে। তবে আজকে ব্যাতিক্রম কেন???? হ্যা, আজকে সবই ব্যাতিক্রম কারণ, আজকে যে রাহাত জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ টা পেয়েছে। হ্যা, কারণ আজকে তিথী রাহাতকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।

রাহাত এখন মনে মনে তাঁর মায়ের বলে যাওয়া কথাগুলো ভাবছে। হ্যা, তাঁর মা তাঁকে বলেছিলো যে,
তিথী মেয়েটা ভালো না, ওর সাথে থাকিস না, ওকে ভুলে যা। কিন্তু, রাহাত তখন বলেছিলো যে, এতো সহজে, যাকে তুমি একটিবারও দেখোনি, কি করে বলছো সে খারাপ???? এ প্রশ্নের উত্তর রাহাত আজও পায়নি। কারণ, রাহাত কথাটি বলার সময়ই তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, মানে মারা যায়।

রাহাত তাঁর মা মারা যাওয়ার আগের কথাটি তেমন পাত্তা দিতোনা। কিন্তু আজ রাহাতের মনে হলো, যে তাঁর মা ঠিক কথাই বলেছিলো। আসলে মায়ের মন তো সবকিছু যেন আগেই জেনে যায়। আজ এখন রাহাত দেয়ালে কপাল ঠেকিয়ে বলছে, মা, মাগো, তুমিই ঠিক বলেছিলে। ঐ মেয়ে ভালো নয়। আমার ওকে ত্যাগ করাই উচিত ছিলো। এই বলে রাহাত দেয়ালে কপাল ঠেকাতে ঠেকাতে ঘুমিয়ে পড়লো।

ঘুম ভাঙ্গলো বাড়িওলায়ার চিৎকারে। বাড়িওয়ালা বলছে, কিরে, বাসাটা কি তোর বাপের???? চার মাস হয়ে গেল ভাড়া দেস না। এইবারই শেষ। আগামী মাসে তোর রক্ত বেচেঁ আমার ভাড়া দিবি। রাহাত কথাগুলো চুপচাপ শুনলো, কিছুই বললো না। আবারো তাঁর মনে পড়ে গেল তিথীর কথা। এই তিথীর জন্যই সে বাসা ভাড়া দিতে পারেনি। ও, একটা কথা তো বলাই হয়নি। রাহাত একটা হোটেলে ওয়েটারির চাকরি করতো। যা টাকা আয় করতো, তা দিয়ে সে ভালোই চলছিলো।

কিন্তু, তিথীর আগমনই তাঁর জীবনটাকে আরো কঠিন করে দেয়। তিথী প্রতিদিন রাহাতকে নিয়ে নানা পার্কে গিয়ে ফূর্তি করতো। মানে, রাহাতের টাকার বারোটা বাজাতো। যে কারণে, রাহাত বাসা ভাড়ার টাকাটাও দিতে পারতো না। কিন্তু, রাহাত তিথীকে ভীষন ভালোবাসে। যে কারণে তাঁর নিজের কষ্টের কথা, সে তিথীকে বলতো না। এমনিকরে চারমাস রাহাত তাঁর বাসা ভাড়া না দিয়ে তিথীর উপর তাঁর কষ্টের টাকা ব্যয় করতো।

তিথীর আবার রাহাতের প্রতি এতো খেয়াল নেই। তিথী নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু রাহাত যে তিথীকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসে। যাইহোক, আশ্চর্য বিষয় হলো এই, যে রাহাত তাঁর ভালোবাসার কথা এতোদিন তিথকে জানায়নি। আজকেই সে সব কথা তিথীকে বলেছিলো, এবং তিথী রাহাতকে যা বললো সেটা শুনতে রাহাত কোনদিনই প্রস্তুত ছিলোনা। তিথী বললো, যে সে বিবাহিত।

তাঁর ডিফোরস্ হয়ে গেছে। এবং তিথী রাহাতকে ভালোবাসেনা। সে শুধু এতোদিন, রাহাতের টাকায় খেয়েছে। এবং আজকে তিথী তাঁর পরের গন্তব্য রওনা দিবে। এভাবেই তিথীর দিন কাটেঁ। এসব শোনার পর রাহাত দ্রুত বাসায় চলে আসলো। এবং সে এ বিষয়টা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। যে তিথী সত্যিই ভালো না। তাঁর মায়ের কথাই ঠিক। যাইহোক, রাহাতের এখন প্রচন্ড ক্ষুদা পেয়েছে।

কিন্তু, রাহাতের কাছে তো টাকা নেই। কারণ, তাঁর হোটেলের চাকরিটা চলে গেছে। মালিক তাঁকে ঘাঁড় ধরে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু মালিক কেন তাঁর সাথে এমন করলো, সেটা আজও রাহাতের কাছে অজানাই রইলো। ও, গতকাল একজনের কুলি করে রাহাত ১২ টাকা পেয়েছিলো। পথে এক অন্ধ ভিক্ষুককে দেখে রাহাত তাঁর ১০ টাকাই সেই ভিক্ষুককে দিয়ে দিলো। কিন্তু, এখন যে রাহাতের ক্ষুদা পেয়েছে।

তাঁকে খাওয়াবে কে?????? রাহাত পথে বেড়িয়ে পড়লো তাঁর কাছে আছে মাএ দুই টাকা। সে একটা দোকানে গিয়ে একটা বিস্কুট কিনে খেল। কিন্তু, দুইদিন ধরে রাহাত কিছু খায়নি। একটা বিস্কুটে কি তাঁর পেট ভরে???????? বিস্কুট খেয়ে একগ্লাস পানি পান করে রাহাত রওনা দিলো। কিন্তু, রাহাত তাঁর ঘরে আর যাবেনা। কারণ, গেলেই তো বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য তাঁকে ধরবে। রাহাত হাঁটা দিলো অজানার পথে।

হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় ক্ষুদার যন্ত্রনায় পড়ে গেল সে। আর তাঁর, উঠে দাড়ানোর ক্ষমতা নেই। রাহাত জীবনে অনেক পথেই হেঁটেছে। কিন্তু, " এটাই মনেহয় রাহাতের, শেষ পথচলা "
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×