এরপর ঐ গোয়েন্দা দ্বিতীয় মিশন নিয়ে ইরাকের বস্রায় গমন করে এবং সাধারণ লোকদের সাথে ব্যাপক বন্ধুত্ব তৈরী করে। বস্রার এক বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে সে বন্ধুত্ব স্থাপন করে এবং তার ইসলামী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ঐ ব্যাক্তিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে শুরু করে। অতঃপর ঐ গোয়েন্দা নিজেই একজন বিজ্ঞ আলেম সেজে ঐখানে একটি মাদ্রাসা খুলে বসে। তার ডায়রী থেকে আরো জানা যায় ঐ সময়টিতেই তার মতো আরো বহু এজেন্ট একইরকমভাবে বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুশিত এলাকাগুলোতে মিশন শুরু করে। তারা ইসলামী চিন্তাবিদগণকে ভুল পথে পরিচালিত করতে শুরু করে, আবার ক্ষেত্র বিশেষে নিজেরাই বিজ্ঞ আলেম সেজে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ফতোয়া দিতে শুরু করে। তারা বহু মাদ্রাসা খুলে আরবী শিক্ষা দেওয়া শুরু করে এবং শিক্ষার সিলেবাসে এমন কিছু ভুল সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেয়, যেন সকল মাদ্রাসা ছাত্রগণই ভুল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে। তারা আরেকটি কাজ সুকৌশলে করতে সফল হয়, যা হচ্ছে- কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে ইসলামে বিভিন্ন রকম কোন্দলের সৃষ্টি করে, যার ফলে ইসলামে বিভিন্ন দল ও উপদলের সৃষ্টি হতে শুরু করে।
তার ডায়রী থেকে জানা যায়, ঐ এজেন্টদের দুইটি প্রধান টার্গেট দিয়ে পাঠানো হতোঃ
মুসলমানদের দুর্বল(বিশেষ করে জ্ঞানের) জায়গাগুলো খুঁজে বের করা।
ঐ পথে তাদের দেহে প্রবেশ করা এবং তাদের জোড়াগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
এটিই শত্রুকে পরাজিত করার মূল পথ।
ঐ ডায়রীর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে তাদের যে কর্ম পরিকল্পনা পাওয়া যায় তা নিম্নরূপঃ
ইসলামের শত্রুরা, ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য হাজার হাজার গোয়েন্দা হিজাজ(মক্কা-মদিনা), মিশর, ইস্তাম্বুল, ইরাক, ইরানসহ সকল মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেয়।
ঐ গোয়েন্দাদের বৃটেনের এক গোপন মাদ্রাসায় আরবী শিখিয়ে কোরআন, হাদিস ও শরীয়া জ্ঞানে পারদর্শী আলেম হিসাবে তৈরী করা হয়, অথবা তারা কর্মস্থলে গিয়ে আরবী শিখে কোরআন, হাদিস ও শরীয়া জ্ঞানে পারদর্শী হয়ে আলেম বনে যায়।
গোয়েন্দারা আলেম হিসাবে মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, মসজিদের খতিব, শিশুদের আরবী গৃহ-শিক্ষক ইত্যাদি পদে চাকুরী নেয়।
ঐ গোয়েন্দা আলেমরা মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করায় অথবা নিজেরাই বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে।
গোয়েন্দা আলেমরা মুসলমানদের সাথে মিলেমিশে মাদ্রাসা গড়ে তোলে।
অতঃপর তাদের তৈরী করা ভুলগুলো বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে দিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
ইনশা’ল্লাহ্ ষড়যন্ত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে খুব শীঘ্রই লিখছি ২য় পর্ব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


