somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাসদ! ও আওয়ামীলীগের আত্মবিনাশি খেলা?

১৫ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তৎকালীন জাসদকে তুলনা করা যায় বোর্ডের সেরা ছাত্রটির সাথে যে ভাগ্যের ফেরে হেরোইন সেবী হয়ে যায়। আরো দুর্ভাগ্য হল সেই নেশা দ্রব্যটির যিনি যোগানদাতা তিনি বরাবরের মতোই রয়ে যান ধরা ছোয়ার বাইরে। থেকে গেছেন আড়ালেও। প্রশ্ন হল তার তুলনা হবে কার সাথে? অথচ ঐ আশির্বাদটি(অভিশাপ) না পেলে জাসদের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত। জাসদের মুকুটে যোগ হতে পারত অনেক সাফল্যের পালক। জাসদে তখন যে সব মুল্যবান হীরে জহরতের দেখা মিলিছিল তারা কেউই নিজেদের আলোকচ্ছটার বিচ্ছুরুন ঘটাতে সক্ষম হন নি। যদি তারা তা পারতেন তাহলে আজকে জাসদকে লেজুর বৃত্তির রাজনীতি করতে হত না। বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তীত হত দুটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় দলের হাতে। যে চাওয়াটি আজো বাংলাদেশের শতভাগ মানূষের চাওয়া।
জাসদের জন্ম হয়েছিল মুলত বঙ্গবন্ধু সরকার বিরোধী একটি মোর্চা হিসেবেই যেটা দোষের ছিল না। একটি সরকারকে চাপে রাখতে একটি শক্তশালী বিরোধী পক্ষ থাকাই উচিত। সমস্যা হল একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মের জন্য চাই একটি আলাদা আদর্শ। আজকের বিএনপির মত সেদিনের জাসদেরও মুখে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বলা হলেও আসলে কোণ আদর্শ ছিল না। উভয়েরই আদর্শ ছিল আওয়ামীলীগের বিরোধিতা। জাসদ বলত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। আর বিএনপি বলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দুটিই অন্তঃসারশূন্য। আর এ কারনেই দল দুটিই ঝড়ের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে।

জাসদ তথাপিও একটি ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে সক্ষম হত না যদি না দলটিতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নামে অতিবিপ্লবের অনুপ্রবেশ না ঘটত। আর সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে পঁচাত্তরের দুর্ভাগ্য বলে কোণ অধ্যায়ই সংযোজিত হত না। বাঙ্গালী জাতীকে অত দ্রুত তার অবিসংবাদিত নেতাকে হারাতে হত না।
এ দেশের রাজনীতিতে সুচতুর শেয়ালের দেখাও মিলত না। স্বাধীনতার পরে চল্লিশটি বছর ধরে স্বাধীনতা বিরোধীরা দোর্দন্ড প্রতাপে টিকে থাকত না।
দেশটা ভাগ হত না স্বাধীনতার পক্ষ আর বিপক্ষ শক্তিতে। এই সব কিছুর মুলে যিনি তিনি থেকে যান শেষ অবধী ধোয়া তুলসী পাতাটি হয়ে।
তাকে কে চেনে না? কে জানে না তার সম্পর্কে? সবাই চেনেন কম বেশি জানেনও বটে। তাকে কেউ বলেন রাজনীতির রহস্য পুরুষ। কেউ বলেন মহান পুরুষ। তবে ইতিহাস বলে তিনি যার দিকেই আশীর্বাদের হস্ত প্রসারিত করেছেন তিনিই রাজনৈতিক ভাবে ধ্বংস হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তার আশীর্বাদ পুষ্ট নন অথবা বলা যায় অভিশাপ প্রাপ্তদের একজনই আজ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের লক্ষে পরিণত হয়েছেন।
জাসদ সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ কি খুব ভুল কিছু বলেছেন? সম্ভবত না। কিন্তু তাই বলে তার বলার সময় এবং স্থানটি কি ঠিক ছিল? সম্ভবত না। জাসদ ক্ষয়ে গেছে সেই বিষবৃক্ষের প্রভাবে। উলটো রথে চলার দায়ে। জাসদ ক্ষয়ে গেছে নির্দিষ্ট কোণ এজেন্ডা না থাকার কারনে। সে ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে দায়ী করলে চলবে কেন?
এ ক্ষেত্রে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নিজ দলের দিকে যদি তাকান তাহলে কি তিনি আর কোণ মন্ত্রী মহোদয়কে দেখতে পান না যিনি আজ আওয়ামীলীগেরই নেত্রী !
বঙ্গবন্ধুকে যা ইচ্ছা তা ভাষায় আক্রমণ করা সেই নেত্রী আজ আওয়ামীলীগে অনেক বড় পদ পদবী নিয়ে কি বসে নেই? সৈয়দ আশরাফ কি এরপরে তাকে নিয়েও কথা বলবেন? আর তা কি তার দলকে সুসংহত করতে সাহায্য করবে?
আজকের দিনে দারিয়ে আওয়ামীলীগ যখন চরম প্রতিকুল রাজনৈতিক একটি পরিবেশে দেশ চালাচ্ছে সে সময়ে শত্রু বাড়িয়ে আওয়ামীলীগের কি লাভ হবে?
আজ এতদিন পরে বেগম জিয়া যখন তৎকালীন জাসদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আওয়ামীলীগের জন্য মায়াকান্না করেন তখন আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যা বললেন তাতে উপকার যদি কারো হয় তবে তা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক শত্রুদের, আওয়ামীলীগের নয়।
দায়িত্ববান মানুষের সময় ও সুযোগ বুঝে কথা বলাই শ্রেয়। তাতে শত্রুর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার মত ভুল করা থেকে অন্তত রেহাই মেলে।
সৈয়দ আশরাফ কার ভুলের কথা বললেন? মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর? যেহেতু মাননীয় প্রধান মন্ত্রীই মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। যদি তাই হয় তাহলে তা এমন প্রকাশ্যে না বলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে একান্তেও বলতে পারতেন যেহেতু তার সে সুযোগ রয়েছে।
তিনি তা না করে প্রকাশ্য জনসভায় কথাটি বললেন এখন মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বলতে হয় ওটা তার ব্যক্তিগত অভিমত।
অভিমতটি ব্যক্তিগত হোক কিংবা সমষ্টিগত এই সময়ে তার প্রকাশ কতটা জরুরী ছিল সেটাই মুল আলোচ্য।
আওয়ামীলীগ নেতারা সময় সময় এমন সব কথা বলে থাকেন যা রাজনৈতিক অঙ্গনকে দারুন ভাবে নাড়া দিয়ে যায় ভাল হত যদি সে সব কথা তাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনত। বিষয়টা উলটো তারা যা বলেন তা দলটির জন্যই বুমেরাং হয়ে যায়। একজন বলেন অন্যেরা আবার তা থাকে দলকে রক্ষার চেষ্টা করেন। এ কেমন আত্মবিনাশি খেলা?

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×