somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘স্মার্ট সমাধান’ হাতের নাগালেই, প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ

০৯ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকা নগরবাসীর একটি ‘বদভ্যাস’ যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ করা। সন্দেহ নেই এটা সত্যিই একটি খারাপ কাজ। কিন্তু একে বদভ্যাস বলাটা কতটা সঙ্গত সেটা নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। বদভ্যাস আমরা তাকেই বলি যা ইচ্ছে করলেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু এই সমস্যাটা কি মানুষ ইচ্ছে করেই করছে? নাকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনিচ্ছা স্বত্বেও বাধ্য হয়ে করছে?

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারিতে এ সমস্যা মোকাবেলায় একটি ‘স্মার্ট সমাধানের’ কথা বলা হয়েছে। সেখানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলছেন, “ঢাকার একটি গর্বের পরিচয় আছে, যা তাকে পবিত্র শহরের আমেজ দেয়। ঢাকা মসজিদের নগরী। এ শহরে আছে ১০ হাজারের বেশি মসজিদ। প্রতিটি মসজিদে পাবলিক টয়লেট সুবিধা রয়েছে। সেখানে যে কোনো মানুষ সহজেই তার জরুরি কাজটি সারতে পারেন। আরও আছে সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট। মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু এসব সুবিধা কতজনে নেন?”

তার মানে সুযোগ থাকা স্বত্বেও মানুষ সেটি গ্রহণ না করে এই অসদাচরণটি করছে। আসলেই কি তাই?



মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় হয়ত জানেন না, ঢাকার প্রায় প্রতিটি মসজিদের টয়লেটগুলি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জোহরের আজানের পরেই কেবল এই টয়লেটগুলি খুলে দেওয়া হয়। ঘন্টা খানেক বাদে আবার এগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরে আবার আসরের আজানের পরে খোলা হয়। ঠিক এভাবেই নিয়ম করে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে-পরে এগুলি খোলা থাকে। যে সময়টায় মূলত মুসল্লিরাই টয়লেটগুলি ব্যবহারের সুযোগ পান।

সমস্যা হল, প্রকৃতির ডাক তো আর নামাজের ওয়াক্ত অনুযায়ী আসে না। যে কোন সময়েই আসতে পারে। তাছাড়া মসজিদগুলোতে টয়লেটের সংখ্যাও নেহায়েত নগণ্য। এখানে আরও একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। আর তা হল, প্রায় দুই কোটি লোকের বাস এই মহানগরীতে। যার বেশির ভাগ মুসলমান হলেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও কম নয়। তারা চাইলেই কি এসব টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন?

আমি বলছি না যে, কেউ তাদের বাধা দেন। সমস্যা হল, যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা সকলের জন্য উন্মুক্ত বলে ঘোষিত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ চাইলেও মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না। একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তাকে বাধ্য করে মসজিদের টয়লেট ব্যবহার না করে রাস্তার পাশে বসে যেতে।

অন্যদিকে আমাদের আরেকটি বড় অংশ, নারীদের কথা তো ভাবনাতেই নেই হয়তো। পুরুষরা তো চাইলে লজ্জা হজম করে যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু নারীরা তো পড়েন অসুবিধায়।

ঢাকায় যেখানে সেখানে পাবলিকের প্রস্রাব করার ‘বদভ্যাস’ বন্ধ করতে প্রথমে দেয়ালে দেয়ালে লেখা হল ‘এখানে প্রস্রাব করবেন না’ কিংবা ‘প্রস্রাব করলে জরিমানা’ জাতীয় নির্দেশনা। লাভ হল না; কারণ একটাই। কাজটা কেউ শখের বসে করে না। নিতান্ত বাধ্য হয়েই করে। সুফল না পেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় আরবি ভাষার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করল। আরবিতে লেখা হল ‘হুনা মামনু আত্তাবুল’ বা ‘এখানে প্রস্রাব করবেন না’। লাভ হল কি? হল না। এখন কেউ রাস্তায় প্রস্রাব করতে বসলে আরবি ভাষায় লেখাগুলো তার চোখে পরে। সে অপ্রস্তুত হয়। আত্মগ্লানিতে দগ্ধ হয়। তারপরও অসহায়ের মতো বাধ্য হয়েই ‘নোংরা’ কাজটি করেন।

অথচ এর সহজ সমাধানটা কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেই দিয়েছেন। দশ হাজার মসজিদ আছে। অর্থাৎ লক্ষাধিক প্রস্রাবখানা আছে। সেই সাথে আছে মোবাইল টয়লেট। আছে পাবলিক টয়লেট। তাহলে আর সমস্যাটা রইল কোথায়? সমস্যাটা হল, মসজিদের ঐ লক্ষাধিক পাবলিক টয়লেট উন্মুক্ত নয়।

আমরা একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাব ঢাকার সব থেকে জনবহুল এলাকা গুলিস্তান মাজার। যেখানে প্রতিনিয়ত কয়েক লক্ষ লোক যাওয়া-আসা করছে। সেখানে কিন্তু কোথাও প্রস্রাবের দুর্গন্ধ পাওয়া যায় না। তার কারণ একটাই। আর তা হল মাজার সংলগ্ন মসজিদের উন্মুক্ত টয়লেট। ঠিক এভাবেই গুলিস্তানের আলু বাজার একটি জনবহুল এলাকা। সেখানে যে মসজিদটি অবস্থিত তার টয়লেটটি টাকার বিনিময়ে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে বলেই এখানেও এই দৃষ্টিকটু সমস্যাটা একেবারেই নেই।

পক্ষান্তরে নিউমার্কেট এলাকার দিকে দৃষ্টি ফেরান। পাবলিক টয়লেট কিংবা মসজিদের টয়লেট খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। ফলাফল হল যেই মাত্র ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হল অমনি সেটা উন্মুক্ত প্রস্রাবখানা হয়ে গেল। আগে সেখান থেকে চলতে গেলে মানুষের ভিড় সামলাতে হত। আর এখন নাক চেপে চলতে হয়।

আসল কথা হল আমরা তো আর কাউকে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকতে বলতে পারি না। বলতে পারি নির্দিষ্ট স্থানে প্রস্রাব করতে। সেটা বলতে হলে অসংখ্য পাবলিক টয়লেট প্রয়োজন। এত স্থান কোথায়? কাজেই সহজ সমাধানটাকে কাজে লাগানোই উপযুক্ত। মসজিদের টয়লেট সংখ্যা বৃদ্ধি সাপেক্ষে সেগুলিকে উন্মুক্ত করে দেয়া জরুরি। একই সাথে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সেটা প্রচার করতে হবে। যাতে যে কেউ যে কোন সময়ে নির্দ্বিধায় সেগুলি ব্যবহার করতে পারে। প্রয়োজনে তা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে হলেও। এতে করে নারীরাও আর সমস্যায় পড়বেন না। এটা যদি করা যায় দেখবেন রাতারাতিই সমস্যাটা দূর হয়ে গেছে।

সুযোগ সৃষ্টি না করে প্রতারণামূলক ভীতি প্রদর্শন আর যাই হোক স্মার্ট সমাধান হতে পারে না। স্মার্ট সমাধান হল সীমিত সম্পদের সর্বচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আশা করছি বিষয়টা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×